০১:৩৫ এম
ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান শুভ সূচনা করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের বোলাররা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। ম্যাচে জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন সালমান আলী আগা, যিনি ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিষ্কা ফার্নান্দো ভালো শুরু করার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে নাসিম শাহ আভিষ্কাকে ফিরিয়ে দিলে সেই জুটি ভেঙে যায়। তিনি ৯ বল খেলে ৫ রান করেন।
এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কামিন্দুর সঙ্গে যোগ দেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা ৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে। তবে ১৩.৫ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে কুশল আউট হলে ৩৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। কুশল ৩৪ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৬ রান।
আরও পড়ুন: কষ্টের জয়ে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বাধা টপকাল আর্সেনাল
কামিন্দু অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ছয় রান দূরে থাকতে শাহিনের শিকার হন। তিনি ৫০ বলে ৪টি চারে ৪৪ রান করেন। ২০তম ওভারে শাহিন আবারও আঘাত হানেন, এবার তিন রানে সাজঘরে ফেরান সাহান আরাচ্চিগেকে। ১৯.৩ ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা বিপদে পড়ে।
পাভান রত্নায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দারুণ ব্যাটিং করে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করান। রত্নায়েকে নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতকও তুলে নেন। তারা পাকিস্তানের বোলারদের ভোগাতে থাকেন।
পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ রানের ঘরে নিয়ে যান রত্নায়েকে ও লিয়ানাগে। তাদের ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরার আশা জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানের এই জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। রত্নায়েকে ৭৪ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৭৯ রান করে বিদায় নেন।
লিয়ানাগে রান তোলা অব্যাহত রাখেন। দাসুন শানাকাও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ান। শ্রীলঙ্কার রান আড়াইশ ছাড়ানোর পথে লিয়ানাগে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নেন।
আরও পড়ুন: আগার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের জয়, শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত
হারিস রউফ ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন। ৪৩.৪ ওভারে লিয়ানাগেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। লিয়ানাগে ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫৩ রান।
শাহিন আবারও উইকেটের দেখা পান। ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা আরও কঠিন করে দেন তিনি। সফরকারীরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। নাসিম শাহ সচিন্দু কলম্বাগেকে ফিরিয়ে দেন।
এরপর ব্যাটারদের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ঈশান মালিঙ্গা। তার বিদায়ে শ্রীলঙ্কার নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফ আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন। আসিথা ১০ বলে সাত রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
আরও পড়ুন: আর্সেনালের শেষ মুহূর্তের গোলে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে হারাল ১-০ ব্যবধানে
পাকিস্তান টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করে। দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে চতুর্থ ওভারে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে আউট হন সাইম। তিনি ৮ বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন। ষষ্ঠ ওভারে মাদুশঙ্কা আবারও আঘাত হানেন। ১৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে দেন। ৫.৫ ওভারে ৩২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে।
এরপর বাবর আজমের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন অভিষিক্ত সাদ বেগ। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেন। তারা শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামলে দলকে ১০০ রানের ঘরে নিয়ে যান।
১৯.৪ ওভারে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন ঈশান মালিঙ্গা। ৫৭ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৬ রান।
আরও পড়ুন: ফাইনালে ওঠার জন্য বাংলাদেশের সামনে দুই সমীকরণ
এর ঠিক এক ওভার পর মালিঙ্গা আবারও উইকেট নেন। এবার উইকেটরক্ষক ব্যাটার সাদ বেগকে ফিরিয়ে দেন। অভিষেক ম্যাচে ৪০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ রান করেন সাদ।
হাসান নওয়াজ ও সালমান আগা মিলে পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রানের গতি বাড়ায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের দিকে নিয়ে আসে।
এই জুটিতে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক তুলে নেন। দুজন মিলে ৫০ রানের বেশি যোগ করে পাকিস্তানকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।
৩৭.২ ওভারে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ৪৯ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ রান করা হাসান নওয়াজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৫ রান।
আরও পড়ুন: ক্যারিক ইউনাইটেডের দুর্দশার কথা স্বীকার করলেন
দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন সালমান। আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে আড়াইশ রান পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতকও তুলে নেন।
৪৫তম ওভারে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন ফার্নান্দো। ১৫ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা আরাফাতকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৯ রান।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালমানকেও ফেরান ফার্নান্দো। পাকিস্তানের পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটার ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন।
ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন ফাহিম আশরাফ। তিনি এক বল খেলে ছয় রান করেন। নিজের পরের বলেই নাসিম শাহকে শূন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন মালিঙ্গা। তবে পরের বলটি স্টাম্পের পাশ দিয়ে চলে গেলে হ্যাটট্রিক থেকে বেঁচে যান হারিস রউফ। এলবিডব্লিউর আবেদন করেও সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়: নাহিদা আক্তার অধিনায়ক
শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ণ অবদানে পাকিস্তানের রান ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে পাঁচ রান দেন মালিঙ্গা। শাহিন ১২ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর হারিস রউফ রানআউট হন।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ঈশান মালিঙ্গা ৯.৫ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো তিনটি এবং দিলশান মাদুশঙ্কা দুটি উইকেট শিকার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন