ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের শুভসূচনা


শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের শুভসূচনা

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান শুভ সূচনা করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের বোলাররা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। ম্যাচে জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন সালমান আলী আগা, যিনি ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিষ্কা ফার্নান্দো ভালো শুরু করার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে নাসিম শাহ আভিষ্কাকে ফিরিয়ে দিলে সেই জুটি ভেঙে যায়। তিনি ৯ বল খেলে ৫ রান করেন।

এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কামিন্দুর সঙ্গে যোগ দেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা ৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে। তবে ১৩.৫ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে কুশল আউট হলে ৩৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। কুশল ৩৪ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৬ রান।

আরও পড়ুন: কষ্টের জয়ে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বাধা টপকাল আর্সেনাল

কামিন্দু অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ছয় রান দূরে থাকতে শাহিনের শিকার হন। তিনি ৫০ বলে ৪টি চারে ৪৪ রান করেন। ২০তম ওভারে শাহিন আবারও আঘাত হানেন, এবার তিন রানে সাজঘরে ফেরান সাহান আরাচ্চিগেকে। ১৯.৩ ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা বিপদে পড়ে।

পাভান রত্নায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দারুণ ব্যাটিং করে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করান। রত্নায়েকে নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতকও তুলে নেন। তারা পাকিস্তানের বোলারদের ভোগাতে থাকেন।

পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ রানের ঘরে নিয়ে যান রত্নায়েকে ও লিয়ানাগে। তাদের ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরার আশা জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানের এই জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। রত্নায়েকে ৭৪ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৭৯ রান করে বিদায় নেন।

লিয়ানাগে রান তোলা অব্যাহত রাখেন। দাসুন শানাকাও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ান। শ্রীলঙ্কার রান আড়াইশ ছাড়ানোর পথে লিয়ানাগে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নেন।

আরও পড়ুন: আগার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের জয়, শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত

হারিস রউফ ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন। ৪৩.৪ ওভারে লিয়ানাগেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। লিয়ানাগে ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫৩ রান।

শাহিন আবারও উইকেটের দেখা পান। ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা আরও কঠিন করে দেন তিনি। সফরকারীরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। নাসিম শাহ সচিন্দু কলম্বাগেকে ফিরিয়ে দেন।

এরপর ব্যাটারদের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ঈশান মালিঙ্গা। তার বিদায়ে শ্রীলঙ্কার নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফ আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন। আসিথা ১০ বলে সাত রান করেন।

পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

আরও পড়ুন: আর্সেনালের শেষ মুহূর্তের গোলে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে হারাল ১-০ ব্যবধানে

পাকিস্তান টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করে। দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে চতুর্থ ওভারে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে আউট হন সাইম। তিনি ৮ বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন। ষষ্ঠ ওভারে মাদুশঙ্কা আবারও আঘাত হানেন। ১৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে দেন। ৫.৫ ওভারে ৩২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে।

এরপর বাবর আজমের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন অভিষিক্ত সাদ বেগ। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেন। তারা শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামলে দলকে ১০০ রানের ঘরে নিয়ে যান।

১৯.৪ ওভারে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন ঈশান মালিঙ্গা। ৫৭ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৬ রান।

আরও পড়ুন: ফাইনালে ওঠার জন্য বাংলাদেশের সামনে দুই সমীকরণ

এর ঠিক এক ওভার পর মালিঙ্গা আবারও উইকেট নেন। এবার উইকেটরক্ষক ব্যাটার সাদ বেগকে ফিরিয়ে দেন। অভিষেক ম্যাচে ৪০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ রান করেন সাদ।

হাসান নওয়াজ ও সালমান আগা মিলে পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রানের গতি বাড়ায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের দিকে নিয়ে আসে।

এই জুটিতে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক তুলে নেন। দুজন মিলে ৫০ রানের বেশি যোগ করে পাকিস্তানকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।

৩৭.২ ওভারে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ৪৯ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ রান করা হাসান নওয়াজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৫ রান।

আরও পড়ুন: ক্যারিক ইউনাইটেডের দুর্দশার কথা স্বীকার করলেন

দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন সালমান। আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে আড়াইশ রান পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে সালমান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতকও তুলে নেন।

৪৫তম ওভারে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন ফার্নান্দো। ১৫ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা আরাফাতকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৯ রান।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালমানকেও ফেরান ফার্নান্দো। পাকিস্তানের পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটার ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন।

ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন ফাহিম আশরাফ। তিনি এক বল খেলে ছয় রান করেন। নিজের পরের বলেই নাসিম শাহকে শূন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন মালিঙ্গা। তবে পরের বলটি স্টাম্পের পাশ দিয়ে চলে গেলে হ্যাটট্রিক থেকে বেঁচে যান হারিস রউফ। এলবিডব্লিউর আবেদন করেও সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়: নাহিদা আক্তার অধিনায়ক

শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ণ অবদানে পাকিস্তানের রান ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে পাঁচ রান দেন মালিঙ্গা। শাহিন ১২ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর হারিস রউফ রানআউট হন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ঈশান মালিঙ্গা ৯.৫ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো তিনটি এবং দিলশান মাদুশঙ্কা দুটি উইকেট শিকার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।" তিনি দাবি করেছেন, শামীমকে নাস্তিক বলে ধারণা করেছিলেন এবং তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না; ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।

গ্রেফতারের পর কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে পুলিশ আমিনীকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার আদালতে পাঠায়।

আমিনী বলেন, "বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকেরা যেভাবে মোবাইল করে থ্রেট দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি সে নাস্তিক ছিল।" তিনি আরও বলেন, পিটিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না, এটি দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যে কাজটি করেছি, সেটি আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন।"

আইনের দৃষ্টিতে নিজেকে অপরাধী মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনী আবারও বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।"

দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, ফজলুল হক আমিনী পুলিশের কাছে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলেও জানিয়েছেন। এ কারণে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শামীমের পরিবারের করা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বইয়ে শেখ মুজিবের নাম, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বইয়ে শেখ মুজিবের নাম, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

ভোলার চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, পুরোনো, দাগযুক্ত ও ছেঁড়া বই বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতরণকৃত বইয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

১২ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলা মডেল মসজিদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী জ্ঞান, আজান, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বিজয়ী একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, বিজয়ী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ৭ থেকে ১২ বছরের পুরোনো। কিছু বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া এবং গায়ে দাগ রয়েছে। ভালো পারফরম্যান্সের পর নতুন বইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও জীর্ণ বই পেয়ে অনেক শিশু হতাশ হয়ে পড়ে। বিচারকমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, অনুচিত এই উপহার পেয়ে কয়েকজন শিশু অনুষ্ঠানস্থলেই কেঁদে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিতরণ করা ‘সৈনিকের চল্লিশ হাদিস’ বইটি ২০১৪ সালের আগস্টে এবং ‘ওলীকুল শিরোমণি শায়খ মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (কা.সি.)’ বইটি ২০১৭ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বই পুরোনো হওয়ায় এবং ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার কারণে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিতর্কিত বই বিতরণ প্রসঙ্গে জেলা উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে যারা পুরোনো বই পেয়েছে, তাদের জানালে আমরা নতুন বই দিয়ে দেব। বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, এগুলো আগে ছাপানো পুরোনো বই বলেই নাম রয়ে গেছে, তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাদা কোনো বই দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ মন্তব্য করেন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সংবলিত বা পুরোনো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, আসামির জামিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, আসামির জামিন

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামের এক আসামিকে জামিন প্রদান করেছে আদালত।

রোববার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী মেহেদী হাসান জানান, মামলায় পুলিশের প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত আসামি রাকিবের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। জামিনের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ধার্য করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি শিগগির কারামুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী।

গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রাস্তায় পড়ে নিহত হন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা (৫৬)। চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। ভোরে কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেমে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ টান দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%