বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
ঢাকার ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়নের বকচর এলাকায় ইউনিভার্সেল ট্রিমিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে অন্তত ১০ কোটি টাকার। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালের দিকে ধামরাই ফায়ার স্টেশন আগুন লাগার সংবাদ পায়। এর পরে, স্টেশন অফিসার আল আমিন খানের নেতৃত্বে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কারখানার নিজস্ব কর্মীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে। কিন্তু তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ জানার আশা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. মানিক মিয়া (৩৫) এবং মো. সিয়াম (২৬)। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তদন্তের পর সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কারণে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
ধামরাই ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল আমিন বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু কালামপুর বাজার এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলোকে যানজট নিয়ন্ত্রণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর, যা গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করেছে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (থ্রি-এসএ)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ডোবা থেকে এই সাপটি উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে প্রথমে সাপটি দেখতে পান শিক্ষার্থী সাইমন সাকিব। পরে, তিনি থ্রি-এসএর সদস্যদের খবর দেন এবং উদ্ধারের জন্য পাঠানো উদ্ধারকারী দলের সদস্য মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ মোবারক মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারীত সাপটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৪-১৫ কেজি।
থ্রি-এসএর সদস্য মোহাম্মদ ইমরান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাবারের সংকট, পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সাপ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামীকাল তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করবে।’ মার্কিন দূতের এই সফরে বিশেষ করে চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ফলে মার্কিন বিশেষ দূতের এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। পাশাপাশি মার্কিন এই বিশেষ দূত রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মালয়েশিয়া সফরের তিন দিনের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনা পরিচালিত হয়েছে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে। উভয় পক্ষই এই বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য হবে মধ্যস্বত্বভোগী প্রভাব হ্রাস করা। এ লক্ষ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মনে করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আসা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াটিকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলমান আলোচনা শুধুমাত্র নতুন কর্মী পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, সরকার একটি এমন কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা যেন অযৌক্তিক খরচ বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হন না।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ফল যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। গোটা বিশ্বে সবচেয়ে কম এসি ব্যবহারের হার ইউরোপে, যেখানে গড় মাত্র ২০ ভাগ।
যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এসির ব্যবহার ৯০ ভাগ। ইউরোপের স্বল্পকালীন গরম, ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ততা, প্রকৃতি সংরক্ষণে আগ্রহ, এসির উচ্চমূল্য, এবং বিদ্যুৎ ব্যয়ের কারণে ইউরোপের এসির ব্যবহার সীমিত ছিল।
এছাড়া ইউরোপের শতবর্ষী পুরনো বাড়িগুলো নির্মাণের সময় এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, বহু ক্ষেত্রে সেখানে এসি স্থাপনের সুযোগই নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে এসি লাগানোর জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগতে পারে।
এইসব কারণে এসির ব্যবহারে ইউরোপ বরাবর পিছিয়ে ছিল।
তবে এবারের রেকর্ডভাঙা ও প্রাণঘাতী গরম এসব অভ্যাস পাল্টে দিচ্ছে। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা ইউরোপীয়দের প্রকৃতি প্রেম ও ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। ঠাণ্ডার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাঁচানো। এবারের গরমে ইউরোপে প্রায় ২৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। ফলে ইউরোপের মানুষ এখন এসির দোকানে ছুটছে।
এবং ইউরোপ যত গরম হচ্ছে, চীনের এসির বাজারও পাল্লা দিয়ে তত গরম হচ্ছে। সস্তা ও দ্রুত নতুন ডিজাইনের এসি উৎপাদনের সক্ষমতার কারণে ইউরোপের এসির বাজার এখন অনেকটাই চীনের দখলে চলে গেছে।
চীনের প্রধান এসি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন মিডিয়া, গ্রী এবং হায়ার, বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপে তাদের এসির বিক্রি অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে চীনাদের নির্মিত এসির বাজার বাড়াতে ফ্রান্স, জার্মানি এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলো নিজেদের শিল্প খাত সুরক্ষিত রাখতে চীনা এসি আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ায় সম্প্রতি শুল্ক আরোপের উদ্যোগগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘চীনের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য ইউরোপ এখন বড্ড বেশি উত্তপ্ত। চীনা এসি আটকে দিলে ইউরোপের সমস্যার সমাধান হবে না, এটি কেবল সাধারণ মানুষের জীবনকেই আরো কঠিন করবে।’
গত বছর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩৬০ বিলিয়ন ইউরো রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি গঠন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরে চীন ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির মতো পণ্যের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে এই ঘাটতি প্রকট হয়েছে। এখন এসির জোয়ার এই বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়াবে হাঁটা হবে।
সাংহাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘টাইডালওয়েভ সলিউশনস’-এর সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন জনসন ইয়োরোপের সমস্যা বুঝে বলেছেন, ‘এটি বাণিজ্য আলোচনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। আপনি সরকার হয়ে সাধারণ জনগণকে বলতে পারবেন না যে, দুঃখিত, আপনারা এয়ার কন্ডিশনার পাবেন না, কারণ আমরা চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা পছন্দ করছি না।’
শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বজুড়ে চীনা পণ্যের প্রাধান্যের মূল কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও নমনীয় সাপ্লাই চেইন। চীন গতিশীলভাবে স্থানীয় চাহিদা বুঝে সেটি অনুযায়ি সাশ্রয়ী মূল্যে এসিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম।
যেমন, ইউরোপে এসির চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে মিডিয়া গ্রুপ ইউরোপের বাজারের জন্য বিশেষ ডিজাইনের ‘পোর্টেবল স্প্লিট এসি’ তৈরি করেছে। এটি সহজে বহনযোগ্য, শব্দ কম করে এবং আকারে যথেষ্ট ছোট। তাই এটি ইউরোপের বাড়ির জানালাগুলোকে আটকে দেয় না। ফলে ঐতিহ্যের প্রতি কিছুটা ভালোবাসা বজায় রেখেও ইউরোপীয়রা এসি ব্যবহার করতে পারছেন।
মিডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর এই মডেলটির ২ লাখেরও বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইকুয়ালওশান’ গত মাসে একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছে, ‘ইউরোপের গৃহস্থালি সরঞ্জামের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বশ, ইলেকট্রোলাক্স, মিলে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমা ব্র্যান্ডের দখলে ছিল। তবে এখন সেখানে একটি প্রতিযোগিতামূলক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা পূরণ করার মতো কাঠামোগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চীনা কোম্পানিগুলো। মিডিয়ার তৈরি ‘পোর্টেবল স্প্লিট’ এসি মূলত এই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট রূপ।’ ‘টাইডালওয়েভ সলিউশনস’-এর জনসন বলেন, ‘এটি কেবল শুরু।’
ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যখন মূল্যস্ফীতি বাড়তে চলেছে, তখন মানুষ পণ্যের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে চাইছে না। তাহলে আপনি কী করবেন? স্বাভাবিকভাবেই, কিছু চীনা পণ্য বেছে নিতেই হবে।
একাধিক কারণে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর। তাই চীনেরও ইউরোপের বাজার দখল করা প্রয়োজন। একসময় চীনের রপ্তানির মূল তিনটি পণ্য ছিল- পোশাক, আসবাবপত্র এবং গৃহস্থালি সরঞ্জাম। ইদানীং নতুন তিনটি পণ্য নেতৃত্ব দিচ্ছে- ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সৌরশক্তি। তবে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান বাজার চীনের গৃহস্থালি সরঞ্জাম নির্মাতাদের জন্য পুনর্জাগরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কনসালটেন্সি ফার্ম ‘রোল্যান্ড বার্গার’-এর গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেনিস ডেপোক্স বলেছেন, ‘ইউরোপই হলো আসল পুরস্কার। আমি যদি একজন চীনা এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদক হতাম, তবে ইউরোপ আমার কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাজার হয়ে উঠতো। সেখানে চাহিদা বাড়ছে, এটি নতুন, সমৃদ্ধ এবং সেখানে লাভের অংশও বেশি।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘দুই মাস পর মানুষ ভুলে যাবে যে গ্রীষ্মকালে এয়ার কন্ডিশনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটি আবার ফিরে আসবে। এটি কি একটি অর্থপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ? আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’ তবে চীনের মাথায় অনেক বুদ্ধি। চীনের একজন সোর্সিং এজেন্ট ইতিমধ্যেই খুচরা বিক্রেতাদের আগামী বছরের জন্য পণ্য মজুত করতে উৎসাহিত করেছেন।
চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এ প্রকাশিত একটি বিপণন ভিডিওতে তিনি শিরোনাম দিয়েছেন, ‘ইউরোপের এসির স্বর্ণালী দৌড়! তীব্র গরম থেকে টাকা কামান।’ পোর্টেবল ফ্যান এবং কুলারে ভরপুর একটি ঘরের দিকে ঘুরে এবং আঙুল নির্দেশ করে তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের উন্মাদনা শুরু হওয়ার আগেই বাজারে আপনার অবস্থান সুরক্ষিত করুন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ