ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিএমইউ স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্মের দুই দিন অনলাইন ক্লাসের দাবি


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিএমইউ স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্মের দুই দিন অনলাইন ক্লাসের দাবি

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রকাশ করা হয়, যেখানে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, টানা তিন দিন ধরে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্মা ভবনে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের কারণে প্ল্যাটফর্মটি হতাশা প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: হাবিপ্রবিতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুম উদ্বোধন

এদিকে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সময় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মিরপুর ১০, ১১, ১১.৫ ও ১২ নম্বর এলাকায় চলমান বিক্ষোভ, হামলা ও সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহারে কয়েকজন শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে প্ল্যাটফর্মটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের পদক্ষেপের অভাব হতাশাজনক বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হলে সশরীরে ক্লাস পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: আজ থেকে কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু

স্মারকলিপিতে বলা হয়, "শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা যায় না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় অনন্য জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ এম


অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় অনন্য জীবন

দেশের প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়া রহমান ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি শিক্ষকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সামাজিক খেদমতে এক বর্ণাঢ্য জীবন অতিবাহিত করেছেন।

ড. ইয়াহইয়া রহমানের জীবনী অনুসারে, তিনি ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন গোলাখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হাফেজ সুলতান উদ্দিন সরদার এবং মাতা মরহুমা আমিনা সুলতানা। তিনি সাত সন্তানের মধ্যে সবার বড় (পাঁচ ভাই, দুই বোন) ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, শান্ত স্বভাব, পরোপকারী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

১৯৬১ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলার বন্দরকাঠি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ ও ১৯৬৭ সালে আগরদাঁড়ী আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে আলিম ও ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আলিম পরীক্ষায় তিনি মাদ্রাসা বোর্ডে ১২তম স্থান অধিকার করেন এবং বোর্ড কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি স্বনামধন্য শর্ষিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় (হাদীস বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে একই মাদ্রাসা থেকে আবার কামিল পরীক্ষায় (ফিকহ বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও কৃতিত্বের সাথে সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকা থেকে কামিল পরীক্ষায় (তাফসির বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং 'কামিল ট্রিপল' সম্পন্ন করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ১৯৭১ সালে তিনি সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ, মাদারীপুর থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় প্রচুর নকলের প্রচলন থাকলেও পুরো পরীক্ষা কেন্দ্রে ড. ইয়াহইয়ার রহমান ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতায় তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, মেধার সাক্ষ্যর রাখেন এবং কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন, যা শিক্ষকমন্ডলী ও অবশিষ্ট পরীক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে।

শর্ষিনা মাদ্রাসায় শিক্ষক থাকা অবস্থায় তিনি শিক্ষকতার চাকুরি ছেড়ে ঢাকায় গমন করেন এবং আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিভাগে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। একই বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি মাস্টার্সে (থিসিস গ্রুপে) প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কলা অনুষদে প্রথম (ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট) হন। পরবর্তী বছর ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং প্রথম শ্রেণীতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন ও বৃত্তিপ্রাপ্ত হন।

১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধীনে প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ এছহাকের তত্ত্বাবধানে এমফিল ডিগ্রী সমাপ্ত করেন। এরপর সৌদি আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের 'এরাবিক এক্সপার্ট' হিসেবে রিয়াদ গমন করেন। সেখানে পূর্ণকালীন চাকুরির পাশাপাশি তিনি পড়ালেখা ও গবেষণা কর্মে মনোনিবেশ করেন। যার ফলে ১৯৮৪ সালে রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন এরাবিকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান স্যারের তত্ত্বাবধায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।

ড. ইয়াহইয়ার রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্র থাকাকালীন সময়েই। ১৯৬৯ সালে কামিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি মাদারীপুর আহমাদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় তৃতীয় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। এক বছর সেখানে শিক্ষকতার পর শর্ষিনা মাদ্রাসায় ফিরে তিনি সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত পাঠদান করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সমাপ্ত করে ১৯৭৮ সালে সরকারি কারমাইকেল কলেজ, রংপুরে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে সরকারি কবি নজরুল কলেজ, ঢাকাতে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন এবং দুই বছর শিক্ষকতা করেন।

১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সরকারী চাকুরি (বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার) থেকে ইস্তফা দিয়ে সৌদি আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'এরাবিক এক্সপার্ট' হিসাবে রিয়াদ গমন করেন এবং সেখানে আট বছর অবস্থান করেন। সৌদি আরবে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে নিয়মিত তাফসির পরিচালনা করতেন এবং সৌদি সরকার ও জনগণের নিকট বাংলাদেশি কমিউনিটিকে একটি মর্যাদাবান, কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে সক্রিয় অবদান রাখেন।

বিদেশে লোভনীয় চাকুরি ছেড়ে দেশের টানে ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৯১ সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে যোগদান করেন। তিনি একই সাথে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে দেশের খুবই ক্রান্তিলগ্নে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ছিলেন। একই সময় তিনি অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাজীবী সংগঠন 'গ্রীন ফোরাম' এর একাধিকবার সভাপতি ছিলেন।

তিনি দীর্ঘকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি কয়েক বছর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (IIER) এর পরিচালক ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৫ সালে তিনি "শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক" হিসেবে বিবেচিত হন ও সরকার কর্তৃক তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ জার্নালের চারটি ভলিউমের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে সমাবর্তন স্মারক (Brochure) এর সম্পাদক হিসেবে ১৯৯২ এবং ২০০৪ সালে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ইয়াহইয়ার রহমানের বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়। ভারতের প্রসিদ্ধ জার্নাল আল বা'ছ আল ইসলামীতে "বাংলাদেশে ইসলাম কখন এসেছে" শিরোনামে একটি গবেষণা কর্ম দুই পর্বে প্রকাশিত হয়।

তার উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি গবেষণাপত্রের নাম:

"বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা: সমস্যা ও তার সমাধান"; "মুসলিম বিশ্ব: অধঃপতনের কারণ ও তার প্রতিকার"; "অমুসলিমদের কুরআন চর্চা"; "আল্লামা নিয়ায মাখদুম: বাংলাদেশে হাদিস শিক্ষাদানে তার অবদান"; "বিশ্ব সভ্যতায় বিস্ময়কর দুজন মুসলিম মনীষীর অবদান: প্রেক্ষিত আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন ১৯৯৮"; "সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকারোধে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি"; "মহানবী (স:)-এর আদর্শই সকল সমস্যাবলীর একমাত্র সমাধান"; "সুরা ফাতিহার তাফসীর: তুলনামূলক আলোচনা"; "জুম'আর খুতবা"; "Al-Qur'an: An Unparalleled Constitution"; "Satire in Arabic Poetry and its Influence in the Society"; "Women in Different Religions and Nations"; "Women in Arabic Poetry"; "Ibn Al-Rumi and His Contribution to Arabic Poetry".

ড. ইয়াহইয়ার রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষার প্রসারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রিয়াদে ১৯৮৭ সালে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সেমিনারে "ইসলামী শিক্ষা" পর্বের সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৮ সালে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন এবং ইমাম বুখারী (রহ:) এর কবর যিয়ারতের সুযোগ পান। ২০০২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত "Quality Assurance in Higher Education in Bangladesh" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়েবিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং অতিথি হিসেবে নিয়মিত আলোচনা রাখতেন।

তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হচ্ছে: মাওয়ালী এবং ইসলামী উলুমে তাঁদের অবদান (The Mawali and their Contribution in the Islamic Science), ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর জীবনী ইত্যাদি।

ড. ইয়াহইয়ার রহমানের অধীনে বারোজন গবেষক এমফিল ও দশজন পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ওনার অধীনে গবেষণা সম্পন্ন করা ছাত্ররা দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও খ্যাতির সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের external examiner/supervisor এবং expert হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বৃক্ষ রোপন, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতারোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করে থাকতেন।

এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ খতিব (ইমাম) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ও বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘকাল রাজারবাগ পুলিশ লাইন হেড কোয়ার্টার সেন্ট্রাল মসজিদ, টিকাটুলি মসজিদ, ও কোর্টপাড়া জামে মসজিদ, কুষ্টিয়ায় জুম'আর সম্মানিত খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ইয়াহইয়ার রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে দীর্ঘদিন বিশেষ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি আল মুনতাদা আল ইসলামী ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক থট (BIIT) এর কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সংকোচন নীতি প্রতিরোধে সর্ব মহলের ওলামায়ে কেরামের বৃহত্তর ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বাংলা একাডেমি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট; ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ও আরবী বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ছিলেন। মহান এ মনীষী ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ওনার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনআইডি সংশোধন জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ ইসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


এনআইডি সংশোধন জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ ইসির

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংশোধন আবেদনে জালিয়াতি প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে নাগরিকেরা ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই তাঁর পরিচয়ে সংশোধনের আবেদন করছে। এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করার জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি কোনো নাগরিকের নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর না থাকে, তবে তিনি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না। বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আটটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে আবেদন করার নিয়ম চালু হলে, সংশোধনের আবেদন করতে হবে তাঁর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থেকেই। অর্থাৎ একটি নম্বর দিয়ে কেবল একজনের এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও সংশোধন কার্যক্রমকে আরো দ্রুত ও সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিটিআরসিসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদফতরের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ।

এদিকে, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও নির্বাচন কমিশন চিন্তা করছে। এ বিষয়ে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলে এনআইডি সংশোধনের আবেদনে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করা হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৭টি দেশের এনআইডি কার্যক্রম চালু রয়েছে। স্পেন, জার্মানি ও হংকংয়ে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তিন দেশে কার্যক্রম শুরু হলে মোট ২০টি দেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এনআইডি সেবা চলমান রয়েছে, যার ফলে নতুন এ তিন দেশসহ অফিসিয়ালি ২০টি দেশে হলেও বাস্তবে ২২টি দেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম হবে। চলতি মাসে হংকং ও জার্মানিতে কারিগরি দল পাঠানো হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্পেনে কারিগরি দল যাবে। নির্বাচন কমিশন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি- বায়রাসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে যে, ৪০টি দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা অনেক। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, মিশর, ব্রুনাই, মারিশাস, ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাস। এসব দেশে এক কোটি ৪০ লাখের বেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। সৌদি আরবে ৪০ লাখ ৫০ হাজারের মতো প্রবাসী রয়েছে, যা সর্বাধিক। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে প্রবাসীর সংখ্যা দুই হাজার ৫০০ জনের মতো, যা সর্বনিম্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার স্থবিরতার কারণ ই-রিকশা ও হকার সমস্যা: ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


ঢাকার স্থবিরতার কারণ ই-রিকশা ও হকার সমস্যা: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম ঢাকা শহরের স্থবিরতার দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ই-রিকশা ও হকার সমস্যা এই স্থবিরতার জন্য দায়ী। প্রশাসক বলেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে নগরীকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা কঠিন হবে। গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

আবদুস সালাম বলেন, "ঢাকা শহর বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তা কারও জন্যই সুখকর নয়। শহরটি এক ধরনের স্থবির অবস্থায় চলে গেছে। এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে- ই-রিকশা ও হকার সমস্যা।" তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ দুটি সমস্যা সমাধান করা না গেলে নগরকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হকার ও ই-রিকশাচালকদের সমন্বয় করে একটি ব্যবস্থার মধ্যে আনার পক্ষে। সে লক্ষ্যেই সরকার ঘোষিত নীতিমালা পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "হুট করে একদিনে সব ই-রিকশা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং নিবন্ধন, কারিগরি মান যাচাই এবং নির্ধারিত মডেলে রূপান্তরের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।"

ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসক জানান, মঙ্গলবার থেকে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই ফরম সংগ্রহ করলেই কোনো ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে না। এটি কেবল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার ফরম। আবেদনকারীদের নীতিমালায় উল্লেখ করা শর্তগুলো পূরণ করে ফরম জমা দিতে হবে। এর আগে ই-রিকশার কারিগরি বিষয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএমই) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাড়পত্র নিতে হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নিবন্ধন দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম একবারে শেষ হবে না। প্রথমে এক, দুই বা পাঁচ হাজার যতগুলো আবেদন প্রস্তুত হবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ই-রিকশাগুলোকে নির্ধারিত মডেলে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্কশপ চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। চালক ও মালিকেরা সেসব ওয়ার্কশপের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের ই-রিকশা নির্ধারিত মডেলে রূপান্তর করতে পারবেন। বুয়েটের কারিগরি মান পূরণ করে ছাড়পত্র পেলেই সেগুলো নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। সম্ভব হলে ওয়ার্ডভিত্তিক, তা না হলে থানাভিত্তিক চার্জিং স্টেশন করা হবে। যাতে ই-রিকশাগুলো নির্ধারিত স্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও অবৈধভাবে চার্জ দিতে না পারে।

এদিকে, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০টি ‘টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েস্ট বিন’ হস্তান্তর করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। মঙ্গলবার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

এসময় ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, "একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এতে নগরবাসীরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।" তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন তার ভূমিকা পালন করবে, পাশাপাশি নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাফিনিয়া ও ইয়ামালের গোলে বার্সালোনার জয়ের ধারাবাহিকতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ এম


রাফিনিয়া ও ইয়ামালের গোলে বার্সালোনার জয়ের ধারাবাহিকতা

বার্সেলোনার হয়ে একটি অসাধারণ মৌসুম কাটাচ্ছেন রাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে উভয়ে মিলে ইতোমধ্যে ২৯টি গোল করেছেন! লা লীগার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লীগেও বার্সার জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই দুই তারকা।

মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-০ গোলে জয়লাভ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক রাফিনিয়া জোড়া গোল করেছেন। অন্য গোলটি ইয়ামালের পা থেকে এসেছে।

আগের রাউন্ডে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছিল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। অ্যাস্টন ভিলার রক্ষণ থেকে বল বের করে আনার সময় ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গোল করেন।

এর মাধ্যমে কিলিয়ান এমবাপেকে (১৩) ছাড়িয়ে ২০ বছর বয়সের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইয়ামাল (১৪টি)। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন আর্লিং হলান্ড (১০টি)।

নবম মিনিটে ভিলা দুটি ভালো সুযোগ পায়। প্রথমে ম্যাটি ক্যাশের জোরাল ভলি পোস্টের বাইরে চলে যায়, এরপর গোমেজের প্রচেষ্টা বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জুয়াও কান্সেলোর দ্বারা রুখে দেওয়া হয়।

বিরতির আগে ভিলা চেষ্টা করলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। লোপেসের পাস বক্সের মুখে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

৬৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান রাফিনিয়া। বাঁ দিকে প্রতিপক্ষের একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে এগিয়ে চমৎকার এক পাস দেন কান্সেলো, আর ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে প্রথম স্পর্শে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচে রাফিনিয়ার গোল হলো চারটি। আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৯টি।

এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় নবম থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তিন জয়ে তারা আরও পাঁচ দলের সমান ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে। সমান পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার পরেই আছে ভিলা। টানা তিন জয়ের পর আসরে প্রথম হারের স্বাদ পেল উনাই এমেরির দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%