০২:১৮ পি.এম
রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এবং সেখানে রোগীর উপচেপড়া ভিড় দুরীকরণে, জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
রবিবার (২৮ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশের বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য বড় হাসপাতালগুলো মূলত ঢাকায় অবস্থিত। যদিও পাঁচশ রোগীর হাসপাতালে দুই হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়, কিন্তু এর ফলে রোগীরা বারান্দায় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
তিনি আরও জানান, ‘ঢাকার বড় হাসপাতালের এই ভিড়ের সমাধান ওই হাসপাতালে নেই। এই সমস্যার সমাধান হবে যদি জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সব সুবিধা প্রদান করে গড়ে তুলি। মানুষ তখন জেলার ভেতরেও তার কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা পাবে। আমরা সেই ধরনের পরিকল্পনাই করছি।’
প্রতিমন্ত্রী বাজেটের মানবিক দিকের গুরুত্বের প্রতি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার যে ভাইটি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং হার্ট অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করছে, এই বাজেট তার জীবন রক্ষার বাজেট। যে পাঁচ লাখের বেশি প্রবীণ ব্যক্তি ছানি রোগের কারণে অন্ধত্ব বরণ করছেন, এটি তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে দৃষ্টি ফিরিয়ে পাওয়ার বাজেট। এটি ঢাকা হাসপাতালে বারান্দায় ঘুমানো ক্যান্সার রোগীর জীবন এবং জমি রক্ষার বাজেট।’
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাজেটকে শুধুমাত্র অর্থ ও সংখ্যার খেলা হিসেবে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, ‘পরে ১৫ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের দায়।’
তিনি জানান, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে, এবারের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গত বছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই অসংক্রামক ব্যাধির কারণে হচ্ছে, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা কিডনি রোগ। আর চিকিৎসা খরচের ৭৯ শতাংশ রোগীকে নিজস্ব পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। যেখানে থাইল্যান্ডে এটি মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।
এই সব প্রেক্ষাপটে সরকার জানায়, অস্থিতিশীলভাবে হাসপাতাল ভবন নির্মাণের পরিবর্তে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস ভারতকে 'বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখল করতে চায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন