০১:১৬ এম
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে ড্রোন হামলার ফলে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই হামলাগুলো জনবহুল বাজার এবং সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছে, এবং অভিযোগ উঠেছে যে, দেশটির সেনাবাহিনী এতে জড়িত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় হামলার ফলে অন্তত ১৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'সুদান ওয়ার অবজারভেটরি'র সূত্র অনুযায়ী, এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবিয়েইয়ের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। আবিয়েই অঞ্চলের তথ্যমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদানি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনীই আবিয়েই এলাকায় হামলাটি চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই বাজারটি আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সুদানের তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধ চলছে। ২০১১ সালে সুদান থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণ সুদান গঠিত হওয়ার পর থেকে যৌথভাবে পরিচালিত অঞ্চলটির মালিকানা সুরাহা হয়নি। এই হামলার ফলে দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সুদানের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ সুদান ইতোমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির আশঙ্কা, এই সংঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ সুদানে অস্ত্র সরবরাহের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। তবুও, বিভিন্ন দেশ সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ উভয় পক্ষকেই ড্রোন সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে ড্রোন এখন হামলায় ব্যবহারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিচ সোমবার জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা শিশুসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত
তিনি আরও জানান, ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশটির অন্তত দুই কোটি মানুষ মারাত্মক খাদ্যসংকটে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর ও গ্রেটার কর্ডোফানের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন