বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ পি.এম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ঐতিহাসিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং নারীর অধিকার ও মর্যাদাবিরোধী সব ধরনের অপতৎপরতা আইন করে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: নারীর অধিকার ও মুক্তির গতিপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
সাইফুল হক বলেন, নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই জুলাই আন্দোলন প্রকৃত গণজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর নারীরা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে প্রত্যাশিত স্থান পাননি।
তিনি বলেন, সমাজ এক চাকার সাইকেল দিয়ে চলতে পারে না। পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমঅধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সহসভাপতি রাশিদা আক্তার, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক শান্তা বেগম, মরিয়াম বেগম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে বলেছিলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো এমন একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাজেট ও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে এই রূপকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ও জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী ১৭ আগস্ট-এ কৌশলপত্র প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো যাতে নির্বাচনী ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অতীতে সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে পরস্পর-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন, বিতরণ ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো অর্থ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকার প্রথমে কাঠামোগত অদক্ষতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রকল্পের ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা অনুমোদিত ব্যয়সীমার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সমন্বিত ও একক জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগকে একত্রিত করছে।
তিনি বলেন, জরিপ নির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে(বিবিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো- একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অধিকাংশ সরকারি তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজলভ্য করা, যাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা যায়।’
সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের নীতি কৃত্রিম কোনো বাস্তবতা তৈরি করা নয়। আমরা বাস্তবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তা জানতে চাই, যাতে আমরা অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারি এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।’
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইলেকট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্ভাবনাময় শিল্পকে সহায়তা, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা ও সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।
সাকি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন।
এ লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্টের আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হতে পারে।
গবেষকদের কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিআইডিএস তার গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জুলাইযোদ্ধারা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যা বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
জামায়াতে ইসলামী ওই চেতনায় পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি জুলাইয়ের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর এবং দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান জানালেন, জুলাই চেতনা থেকে সরে আসতে আপসের যত প্রস্তাব এসেছে, সবাইকে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, 'আমরা গণভোটের পক্ষের কথা এখনও স্বীকার করছি, এবং আগামীতেও করবো। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাবো না।'
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। তিনি বললেন, 'যে দেশে নির্যাতনকারী শাসক এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে শিশুরা জীবন উৎসর্গ করে, সেই দেশে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না।' তিনি আরো বলেন, শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।
শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি জানান, 'আমি যখন শহীদ পরিবারের পক্ষে সংসদে গণহত্যার বিচারের দাবি তুলেছি এবং ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে স্মারকলিপি দিয়েছি, তখন তারা আমার বক্তব্য শুনেছেন এবং এক বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন कि, ট্রাইব্যুনালে লোকবল এবং বেঞ্চের অভাবে বিচার ধীরগতিতে চলছে। গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ট্রাইব্যুনালে বেঞ্চ ও জনবল বৃদ্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রচিন্তক মিসেস দিলারা চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক সচিব মাহবুবুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধা সংসদের সভাপতি আহত জুলাইযোদ্ধা নেছার উদ্দিন নাঈম, দুই চোখ হারানো জুলাইযোদ্ধা মো. রাকিব, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের নানা সাইদুর রহমান খান, শহীদ পারভেজ মিয়ার মা কানিজ ফাতেমা, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম, শহীদ সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফের বাবা সৈয়দ গাজী উর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মো. মোশাররফ হোসেন, শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে ডা. সাইফ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ফয়জুল হক, জুলাইযোদ্ধা আল নুর মোহাম্মদ আয়াশ এবং মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) ২৬টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার দায়ে মোট পাঁচজনকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া এরিয়া বিতরণ কার্যালয়ের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিডিসিএলের কুমিল্লা কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ।
এই অভিযানে ২৬টি অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজারকে উচ্ছেদ করে কর্তন ও ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩০০ মিটার অবৈধ গ্যাস লাইনও অপসারণ করা হয়। অভিযানের সময় পাঁচটি গ্যাস রেগুলেটর, প্রায় ৪০০ মিটার তিন-চতুর্থাংশ ইঞ্চি এমএস পাইপ এবং ২০ মিটার প্লাস্টিকের হোজ পাইপ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের পূর্বে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েকজন গ্রাহক তাঁদের ব্যবহৃত গ্যাস রেগুলেটর খুলে ফেলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ গ্রহণের দায়ে পাঁচজনকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থও আদায় করা হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই আটজনের মধ্যে রয়েছে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামি, কাজী আশরাফুল আজম ওরফে দিপু (৪০)। অভিযান চলাকালীন উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মাদক, চুরি, দাঙ্গা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে থানার আভিযানিক দল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গত এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা আলামতগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।
কোতয়ালী থানার সূত্র জানায় যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মো. ফয়সাল মান্নান আরিফকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানায়, মাদক, চুরি, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে, এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ