ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাহক ধরা পড়ে, কারবারিরা আড়ালেই থেকে যায়


বাহক ধরা পড়ে, কারবারিরা আড়ালেই থেকে যায়

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের বিভিন্ন কৌশল ধরা পড়েছে, যা যাত্রীর লাগেজ, শরীর, বিমানের আসনের নিচে কিংবা শৌচাগারে ঘটছে। একটিমাত্র চালানে ১০৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত ঘটনায় স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। বাহক ও যাত্রীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাও হয়েছে। তবে, এসব চালানের অর্থদাতা, প্রকৃত মালিক এবং গন্তব্যে স্বর্ণ গ্রহণকারীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সাফল্য খুবই সীমিত। ফলে, বাহকরা ধরা পড়লেও চোরাচালানের মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৬২টি ঘটনায় মোট ১৬১ দশমিক ৭২৭ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বাহক বা যাত্রী হিসেবে সংশ্লিষ্ট ২৫২ জনের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ এবং ৫৫ জন নারী। এছাড়া, ১০টি চালান পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র বাহক বা পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করে চোরাচালানের পুরো চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। অর্থদাতা, চালানের প্রকৃত মালিক এবং স্বর্ণের গ্রহণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন মন্তব্য করেন, "স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।"

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-বন্দর) উপকমিশনার কাজী আবদুর রহীম বলেন, "স্বর্ণ চোরাচালানের মামলা তাদের কাছে এলে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়। অনেক সময় মূল হোতাদেরও সামনে আনা হয়।" তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ধরনের কোনো মামলা এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এক চালানে ১০৫ কেজি স্বর্ণ

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ বড় চালান জব্দের ঘটনা ঘটে। দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজের যাত্রীদের আসনের নিচে ৯০২টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। সে স্বর্ণের মোট ওজন ছিল প্রায় ১০৫ কেজি এবং এর তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: আ. লীগের সহিংসতায় বিরোধী দলকেও খেসারত দিতে হবে: রাশেদ খান

একই বছরের ১৪ জুন কাস্টমস লাউঞ্জে পরিত্যক্ত বাক্স থেকে ১৩৮টি এবং ৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক থেকে আসা একটি ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে প্রায় ২৮ কেজি ওজনের ২৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পরের বছর ২০১৫ সালের ২ মার্চ কার্গো শেডে চার্জার লাইটের ব্যাটারিতে লুকানো ২৩ কেজি ওজনের ২০০টি বার এবং ১২ মে বিমানবন্দরের শৌচাগারে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২৬০টি এবং দুবাই থেকে আসা দুই যাত্রীর কাছ থেকে আরো ৬৫টি বার উদ্ধার করা হয়। যদিও কয়েকজন যাত্রীকে আটক করা হয়, তবে এসব চালানের প্রকৃত মালিকদের অনেককেই শনাক্ত করা যায়নি। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত কারণে এসব ঘটনার তদন্তও থেমে যায়।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও চোরাচালানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। ২০১৯ সালে ২২টি ঘটনায় ৫৪ দশমিক ২৭৭ কেজি এবং ২০২০ সালে ১৯টি ঘটনায় ৫০ দশমিক ১৫৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ হয়। অর্থাৎ, এই দুই বছরেই মোট জব্দের বড় অংশ ধরা পড়ে। করোনাকালে ২০২১ সালে তা কমে এক দশমিক ৬০১ কেজিতে নেমে আসে। ২০২৩ সালে ৩৩টি ঘটনায় ২১ দশমিক ৬১৪ কেজি, ২০২৪ সালে ১০৪টি ঘটনায় ১০ দশমিক ৩৪৯ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৬৫টি ঘটনায় আট দশমিক ৪৮৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চারটি ঘটনায় উদ্ধার হয় চার দশমিক ০৯৪ কেজি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে স্বর্ণ জব্দের পরিমাণ কমলেও ঘটনার সংখ্যা বেড়ে ১০৪-এ দাঁড়ায়। ফলে, জব্দের পরিমাণ কমাকে চোরাচালান কমে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ধরা পড়ে ২০-৩০ শতাংশ, তদন্তে ঘাটতি

আরও পড়ুন: যশোরে খেজুরের গুড় সংগ্রহ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি ও মাসকাট থেকে আসা যাত্রীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১ আগস্ট শারজাহ থেকে আসা এক ভারতীয় যাত্রীর অন্তর্বাসে লুকানো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মাসকাট থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫৩৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা স্বর্ণের ২০-৩০ শতাংশ ধরা পড়ে। বাকি অংশ নজরদারি এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায় বলে তাদের ধারণা। সূত্রগুলোর ভাষ্য, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে চোরাচালানের একটি অংশ ভারতের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়। এ ক্ষেত্রে বাহক, স্থানীয় সংগ্রাহক এবং সীমান্তপারের ক্রেতাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে।

তবে মামলা ও বিচারের অগ্রগতিতে ঘাটতি রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের আগের নয় বছরে চোরাচালানসংক্রান্ত প্রায় ৫০টি মামলার মধ্যে ৪১টির বিচার ঝুলে আছে। এসব মামলার একটিতে আবদুস শুক্কুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুবাই থেকে ফেরার পর ৪০টি স্বর্ণের বারসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরের বছর চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তার এ সাজা হয়।

২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালান আইনে সাতটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে একটি, ২০২৫ সালে চারটি এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দুটি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন নয়জন। অথচ একই সময়ে বিমানবন্দরে স্বর্ণ জব্দের ঘটনা ঘটেছে ১৭৩টি।

আরও পড়ুন: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার শওকত আলী এ বিষয়ে বলেন, বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আগুন: ১০ মাস পর মামলায় স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ এম


বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আগুন: ১০ মাস পর মামলায় স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ মাস আগে। সম্প্রতি স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ মোল্লা মামলাটির এজাহার জমা দেন। বিচারক এজাহারটি গ্রহণ করেছেন। মামলায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির ১১ জন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন মাইনু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর একইছড়া বাজারে শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহড়া দেয়। পরে তারা পেট্রোল দিয়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়সহ তিনটি মুদি দোকান ও একটি ওষুধের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাদী দাবি করেন, এতে আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর পৌর সদরে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার দীর্ঘ ১০ মাস পর শান্ত নবীনগরকে অশান্ত করতে এবং বিএনপি নেতাদের হয়রানি করতেই এই সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, আগুন লাগার কারণ ও মামলার সত্যতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ঘটনার দিন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই বাজারে আগুন লেগেছিল। সেই সময় স্বয়ং মামলার বাদী আবু হানিফ মোল্লাও উপস্থিত লোকজনের সামনে শর্ট সার্কিটের আগুনের কথা বলেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অভিযুক্ত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মূলত ওই নির্বাচনের সময়কার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও মনস্তাত্ত্বিক বিরোধের জের ধরেই দীর্ঘ ১০ মাস পর এই প্রতিহিংসামূলক মামলার জন্ম হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকবে, চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ এম


৩৬ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকবে, চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কমতে পারে

কক্সবাজারের মহেশখালীর সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৩৬ ঘণ্টা আরএলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) সতর্ক করেছে যে, এর ফলে চট্টগ্রামে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যেতে পারে। সামিটের এলএনজি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গতকাল সোমবার কেজিডিসিএল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত সময়ে আরএলএনজি (রি-গ্যাসিফায়েড লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে মোট এলএনজি সরবরাহ কমে যাবে। এই সময়ের মধ্যে কর্ণফুলী গ্যাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের স্বল্প চাপজনিত সমস্যা হতে পারে।

চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। যেখানে সরবরাহ পাওয়া যায় ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট বা তার কম। মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট এলএনজি নামে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দারিদ্র্যের চাপে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রুকাইয়া পারভীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ এম


দারিদ্র্যের চাপে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রুকাইয়া পারভীন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন দারিদ্র্য ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তার মেধার অসাধারণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ অর্জন করে তিনি তার পরিবার ও এলাকার জন্য গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আর্থিক সংকট তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তার পরিবারের চরম অসচ্ছলতার কারণে হচ্ছে।

রুকাইয়া পারভীন হলেন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের ইজিবাইক চালক রকিব মল্লিক এবং লাভলী ইয়াসমিনের ছোট কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দেন।

তবে রুকাইয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের সীমাহীন সংগ্রাম এবং ত্যাগ। তার বাবা রকিব মল্লিক একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক। প্রতিদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার জন্য বর্তমানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মেধাবী মেয়ের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়বেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

রুকাইয়া পারভীন জানান, "ছোটবেলা থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার লক্ষ্য বুয়েটে (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ভালো কোনো বিষয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাবার একার পক্ষে উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ বহন করা অসম্ভব। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব।"

রুকাইয়ার বাবা রকিব মল্লিক বলেন, "মেয়ের প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য বর্তমানে সে খুলনায় থেকে কোচিং করছে। কিন্তু আমি সামান্য ইজিবাইক চালক; প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে মেয়েটির স্বপ্ন বাঁচানো সম্ভব।"

রুকাইয়ার পরিবার এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার অসাধারণ ফলাফল বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তার হাত বাড়িয়ে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না নান্নুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না নান্নুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের ফলে নান্নু মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তাহমিনা (৩৫) নামের এক নারী আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বায়েক এলাকায়।

নিহত নান্নু মিয়া কসবা উপজেলার ৫ নম্বর বিনাউটি ইউনিয়নের গাববাড়ী গ্রামের মৃত মালু মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল বিক্রি করতেন।

নিহতের শ্যালকের ছেলে শাকিল জানিয়েছেন, নান্নু মিয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বায়েক এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাকিল আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় নান্নু মিয়ার সঙ্গে তার ৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে আরিয়ান ছিল। তবে আরিয়ান সুস্থ রয়েছে। নান্নু মিয়ার পাঁচটি মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে, যার মধ্যে একমাত্র ছেলে প্রতিবন্ধী।

এই ঘটনায় আহত তাহমিনা কসবা উপজেলার মঈনপুর গ্রামের আবু কালামের স্ত্রী। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কসবা থানার এএসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%