ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বরেণ্য এই শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন গুণীশিল্পী এসএম সুলতান। এদিকে, ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের চিত্রা নদীপাড়ের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগ্রহশালা চত্বরে গতকাল (শুক্রবার) কোরআন খতম ও শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মোনাজাত, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে ‘সুলতান স্বর্ণ পদক’ দেয়া হয়। #
 
 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। চলতি বছরে স্থানীয়ভাবে মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ট্যাম্পা শহরের নিকটবর্তী হিলসবোরো কাউন্টির বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সীমিত তথ্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সাধারণত ফ্লোরিডাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তবে ২০২৩ সাল ছিল আগের সর্বোচ্চ সংক্রমণের বছর, যেখানে রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয়, তবে দেশটির অধীন পুয়ের্তো রিকোতে নিয়মিত ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাধারণত ৫০টি অঙ্গরাজ্যের যেকোনোটির চেয়ে অনেক বেশি।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ট্যাম্পা এলাকায় দিন-রাত মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করছেন কর্মীরা, যাতে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা যায়।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়। আক্রান্ত অনেকের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও জ্বর, ফ্লুর মতো উপসর্গ এবং শরীর ও হাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। অসহনীয় ব্যথার কারণে রোগটি ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ নামেও পরিচিত। গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণ, শারীরিকভাবে শক তৈরি হওয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চলতি বছর ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ট্যাম্পার এক বয়স্ক নারী মারা যান। হিলসবোরো কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কার্লা ফ্রাই জানিয়েছেন, ট্যাম্পা এলাকার কয়েকজন আক্রান্তকে জ্বর ও পানিশূন্যতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন রয়েছে। প্রথমবার আক্রান্ত হলে শরীরে ওই ধরনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আগের সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি সব সময় নতুন ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসের শরীরে প্রবেশ ও বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে কার্যকর টিকা তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্যাম্পা এলাকার অধিকাংশ মানুষের ডেঙ্গুর কোনো ধরনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে প্রতিরোধক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ছড়ানো মশার বিস্তৃতি বাড়ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ডেঙ্গুর অধিকাংশ সংক্রমণ হতো বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে। তবে ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়। ১৯৪৫ সালের পর টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এটিই ছিল স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের প্রথম ঘটনা।

এরপর কোনো অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায় হাওয়াইয়ে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয় মাসে সেখানে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে ২৬৪ জন আক্রান্ত হন। এবার ট্যাম্পা এলাকার সংক্রমণ সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুতে ২২ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ বছর স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দা।

ফ্লোরিডায় সাধারণত মায়ামি অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার ট্যাম্পা এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভ্রমণের ধরন পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫২ জন, আর ভ্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের সংখ্যা ২৪৫। অর্থাৎ, স্থানীয়ভাবে ছড়ানো সংক্রমণ এবার ভ্রমণজনিত সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হিলসবোরো কাউন্টিতে অন্তত ১৩ জন ভ্রমণকারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থাটির রোগ তদন্তকারীরা সরাসরি সেখানে যেতে পারেন না। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখনো তাঁদের আসার অনুরোধ জানায়নি। তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে ৮ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি। এ অর্থ জনসচেতনতা, পরীক্ষাগারের পরীক্ষা এবং মশা দমনের কাজে ব্যবহার করা হবে। ট্যাম্পা এলাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সহায়তার অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা জরুরি। দিনের যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী মশা কামড়াতে পারে। তাই মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, ঢিলেঢালা লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরা এবং জানালায় জাল লাগানো ঘর বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা উপকারী। সূর্যোদয়ের পরপর এবং সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে মশার সক্রিয়তা বেশি থাকায় এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এছাড়া বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে। পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসনের আশঙ্কা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও মশার স্থায়ী উপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে ওঠার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩, উদ্ধার ১৯ পিস ইয়াবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩, উদ্ধার ১৯ পিস ইয়াবা

বরিশাল মহানগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিএমপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুজন, নিয়মিত মামলার দুজন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে আটজন রয়েছেন। সব মিলিয়ে অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন:

☎️ ০১৩২০-০৬৪০০০
☎️ ০১৩২০-০৬৪০৪৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল গাফফারের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল গাফফারের মৃত্যু

আব্দুল গাফফার (৪২) নতুন কর্মজীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্ট্রোকে তার মৃত্যু ঘটে। বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এই প্রবাসীর মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তার পিতার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল।

পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপে পৌঁছান গাফফার। সেখানে পৌঁছানোর পর রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।

গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উপার্জন শুরু করার আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে, গাফফারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

॥ কবির আহমেদ খান ॥

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানী নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগে ৬০ শতাংশ নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো সম্ভাবনাময় কৃষি খাতকে এগিয়ে নিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরেমশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ এন্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২০৮টি উপজেলায় ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ, নার্সারি, মাশরুম, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন উপখাতে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের জন্য ভ্যালুচেইনভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পাওয়া উদ্যোক্তাদের অন দ্যা জব প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইনকিউবেশন সাপোর্টের মাধ্যমে পাঁচটি কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। প্রকল্প থেকে পাঁচটি কৃষিপণ্য যেমন— আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি গঠন করা হবে। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ভ্যালুচেইন প্রমোশনাল বডির নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে।

প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের জন্য ম্যাচিং প্রান্ট সহায়তা প্রদান করা হবে। ম্যাচিং প্রান্ট হিসেবে গৃহ পর্যায়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি প্রদান করা হবে। এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রকল্প থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান করা হবে। বাকি ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তারা নিজে বহন করবেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার-ডিএএম অঙ্গের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, মাশরুম, নার্সারি, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত পণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক খাতে উদ্যোক্তা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৭ হাজার উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক উল্লেখ করেন, সারাদেশের ৬৪ জেলা ও ২০৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ছাড়াও তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের ইনকিউবেশন সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য যে সকল বাধা রয়েছে, তা দূর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইনকিউবেশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

ডিএএমের আওতায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকায় এ ধরনের ৭৬৭টি স্কুল গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘যে এলাকায় যে পণ্যের উৎপাদন বেশি, সেখানে সেই পণ্যকে কেন্দ্র করে মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। আলুর ক্ষেত্রে ২২৭টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বছর আরও ৩৩৫টি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব স্কুলের মাধ্যমে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, হিমাগার মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য বাজার-অংশীজনকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের পুরো বাজারব্যবস্থার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

উদ্যোক্তাদের দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির কান্ডারি উল্লেখ করে পার্টনার প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বাসস’কে জানান, উদ্যোক্তারা শুধু নিজে স্বাবলম্বী হন না, তারা সমাজের আরও দশজনকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হতে হলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও বিভিন্ন নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা নিয়ে কাজ করে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ নেয়া উদ্যোক্তারা তাদের প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মস্পৃহা ও জীবনী শক্তি দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক দক্ষতা অর্জন করেছেন গাজীপুরের তামিমা আক্তার ন্যান্সি। জেলার সদর থানার পিরুজালী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের ন্যান্সী পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু করেন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, এতে সফলতা ও প্রশংসা পেয়ে জ্যাম, জেলি, আচার, কাঁঠাল ও মাছের চিপস তৈরি করে স্থানীয় বাজারে স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে ন্যান্সির সঠিকভাবে পণ্য উৎপাদন, নির্বাচন ও সংরক্ষণে কিছু সমস্যা হলেও, পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।

গাজীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য সনদসহ প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স সংগ্রহ করেন ন্যান্সী।

তার প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যান্সি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড’—এ বর্তমানে চারজন কাজ করছেন।

শুধু ন্যান্সিই নন, উদ্যমী ও তরুণদের আয়বর্ধন কাজে নিয়োজিত করতে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরি করার এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষিখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষি খাত দেশের সম্ভাবনাময় খাত। তবে এ খাতে বাস্তবধর্মী ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব, কাঙ্ক্ষিত আধুনিকায়ন না হওয়া এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে না ওঠায় কৃষি খাত পিছিয়ে পড়েছে। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাড়াতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি খাত। আর এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরির এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%