ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল গাফফারের মৃত্যু


মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল গাফফারের মৃত্যু

আব্দুল গাফফার (৪২) নতুন কর্মজীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্ট্রোকে তার মৃত্যু ঘটে। বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এই প্রবাসীর মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তার পিতার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল।

আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন

পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপে পৌঁছান গাফফার। সেখানে পৌঁছানোর পর রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।

গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উপার্জন শুরু করার আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে, গাফফারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

আরও পড়ুন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট: আখতার হোসেন

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

॥ কবির আহমেদ খান ॥

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানী নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগে ৬০ শতাংশ নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো সম্ভাবনাময় কৃষি খাতকে এগিয়ে নিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরেমশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ এন্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২০৮টি উপজেলায় ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ, নার্সারি, মাশরুম, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন উপখাতে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের জন্য ভ্যালুচেইনভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পাওয়া উদ্যোক্তাদের অন দ্যা জব প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইনকিউবেশন সাপোর্টের মাধ্যমে পাঁচটি কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। প্রকল্প থেকে পাঁচটি কৃষিপণ্য যেমন— আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি গঠন করা হবে। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ভ্যালুচেইন প্রমোশনাল বডির নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে।

প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের জন্য ম্যাচিং প্রান্ট সহায়তা প্রদান করা হবে। ম্যাচিং প্রান্ট হিসেবে গৃহ পর্যায়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি প্রদান করা হবে। এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রকল্প থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান করা হবে। বাকি ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তারা নিজে বহন করবেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার-ডিএএম অঙ্গের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, মাশরুম, নার্সারি, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত পণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক খাতে উদ্যোক্তা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৭ হাজার উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক উল্লেখ করেন, সারাদেশের ৬৪ জেলা ও ২০৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ছাড়াও তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের ইনকিউবেশন সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য যে সকল বাধা রয়েছে, তা দূর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইনকিউবেশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

ডিএএমের আওতায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকায় এ ধরনের ৭৬৭টি স্কুল গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘যে এলাকায় যে পণ্যের উৎপাদন বেশি, সেখানে সেই পণ্যকে কেন্দ্র করে মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। আলুর ক্ষেত্রে ২২৭টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বছর আরও ৩৩৫টি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব স্কুলের মাধ্যমে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, হিমাগার মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য বাজার-অংশীজনকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের পুরো বাজারব্যবস্থার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

উদ্যোক্তাদের দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির কান্ডারি উল্লেখ করে পার্টনার প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বাসস’কে জানান, উদ্যোক্তারা শুধু নিজে স্বাবলম্বী হন না, তারা সমাজের আরও দশজনকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হতে হলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও বিভিন্ন নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা নিয়ে কাজ করে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ নেয়া উদ্যোক্তারা তাদের প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মস্পৃহা ও জীবনী শক্তি দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক দক্ষতা অর্জন করেছেন গাজীপুরের তামিমা আক্তার ন্যান্সি। জেলার সদর থানার পিরুজালী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের ন্যান্সী পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু করেন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, এতে সফলতা ও প্রশংসা পেয়ে জ্যাম, জেলি, আচার, কাঁঠাল ও মাছের চিপস তৈরি করে স্থানীয় বাজারে স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে ন্যান্সির সঠিকভাবে পণ্য উৎপাদন, নির্বাচন ও সংরক্ষণে কিছু সমস্যা হলেও, পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।

গাজীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য সনদসহ প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স সংগ্রহ করেন ন্যান্সী।

তার প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যান্সি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড’—এ বর্তমানে চারজন কাজ করছেন।

শুধু ন্যান্সিই নন, উদ্যমী ও তরুণদের আয়বর্ধন কাজে নিয়োজিত করতে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরি করার এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষিখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষি খাত দেশের সম্ভাবনাময় খাত। তবে এ খাতে বাস্তবধর্মী ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব, কাঙ্ক্ষিত আধুনিকায়ন না হওয়া এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে না ওঠায় কৃষি খাত পিছিয়ে পড়েছে। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাড়াতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি খাত। আর এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরির এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বকশীগঞ্জে বাসের চাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


বকশীগঞ্জে বাসের চাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূ নিহত

জামালপুরের বকশীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

শনিবার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নীলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন উফেজা বেগম (৬৫) এবং অন্যজন তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। একই পরিবারের দুই নারীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহনের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উফেজা বেগম ও ফরিদা বেগমকে চাপা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মুহূর্তেই সেখানে ভিড় জমে যায়। একই পরিবারের শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যুর খবর তাদের স্বজনদের মধ্যে মাতম সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করে। এ ঘটনায় বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে পুলিশ আটক করেছে।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং বাসের হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একজন বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে তাদের আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে, পুলিশ জানিয়েছে যে, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনা বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের বিয়ে হয় পাশের গ্রামের এক নারীর সঙ্গে। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালনকালে তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং সেখানে এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় যুদ্ধবিরতি কেবল নামমাত্র, বাস্তবে নেই: মানবিক সংগঠনগুলোর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


গাজায় যুদ্ধবিরতি কেবল নামমাত্র, বাস্তবে নেই: মানবিক সংগঠনগুলোর দাবি

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছর অতিক্রম করলেও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতি থেমে থাকেনি। ইসরাইলি হামলার ফলে গত এক বছরে গাজায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এই অবস্থায় ১০০টির বেশি মানবিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখন শুধুমাত্র নামেই বিদ্যমান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সংগঠন উল্লেখ করে, গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত ও আহত হচ্ছেন। তাছাড়া, ত্রাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পুনর্গঠনসামগ্রীর ওপর বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম ও গ্রিনপিসসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিবৃতিতে অংশগ্রহণ করেছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু চুক্তির এক বছর পরও সেখানে সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ১৮৯ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২৭টি শিশু রয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান এগেলান্ড মন্তব্য করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছর পরও ফিলিস্তিনিদের জীবনে সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। গাজায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইনগার অ্যাশিং বলেন, যখন শিশুরা নিহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে না, তখন যুদ্ধবিরতির অর্থই হারিয়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশ এমন ধরনের আঘাত পেয়েছেন, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ শিশু।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জবাবদিহির বিষয়টি চাপা পড়ে থাকতে পারে না। ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%