ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাধবপুরে শ্বাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাই অলিউর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মাধবপুরে শ্বাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাই অলিউর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হবিগঞ্জের মাধবপুরে শ্বাশুড়ি জাহানারা বেগমকে হত্যার দায়ে জামাই অলিউর রহমান অলিকে (৪২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডে পরিণত হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) কাঁকন দে এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অলিউর রহমান উপজেলার তুলশীপুর (অলিপুর) গ্রামের মো. ইউনুছ আলীর ছেলে।

আরও পড়ুন: জয়-পুতুলসহ ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মে সকালে অলিউর রহমান তার শ্বাশুড়ি জাহানারা বেগমকে স্বর্ণ কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরে ১ জুন চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে বেতবাগান থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে নিহতের ছেলে মরদেহটি তার মা জাহানারা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তার ছেলে মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অলির বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে বিচারক আজ এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি মো. গুলজার আহমেদ খান। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গুলজার আহমেদ জানান, এটি একটি ক্লুলেস মার্ডার ছিল। আসামি ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া, আসামির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি, একসঙ্গে অবস্থানের সিডিআর এবং বিচারকালে ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরার ব্যবস্থা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশ্মীরে ২০১৯ সাল থেকে ১৬,৩৯৭ নারী ও কন্যাশিশু নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


কাশ্মীরে ২০১৯ সাল থেকে ১৬,৩৯৭ নারী ও কন্যাশিশু নিখোঁজ

একটি তথ্য অধিকার (আরটিআই) আবেদনের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দ্য ট্রিব্রিউন জানিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে অন্তত ১৬,৩৯৭ জন নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪,২২৭ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

উন্মোচিত এই উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৪,৫৯৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে ১১,৩৩৮ জনকে খুঁজে বের করা সম্ভব হলেও ৩,২৫৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ১,৮০৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া ৭৮৮ জন বালিকার বিপরীতে ১,০১৬ জন আজও নিখোঁজ রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, নথিভুক্ত ১৬,৩৯৭ জন নিখোঁজ নারী ও শিশুর মধ্যে কর্তৃপক্ষ ১২,১২৬ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও মোট ঘটনার ২৬ শতাংশেরই কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরবিআই আবেদনের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলাভিত্তিক বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি।

২০২৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সর্বোচ্চ চূড়ায়

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচিত এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। ২০১৯ সালে ১,৩৮৮ জন এবং ২০২০ সালে ১,৩৯৮ জন নারী নিখোঁজ হন, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৫৪ জনে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ১,৭৬৬ জনে নামলেও ২০২৩ সালে তা আবার বেড়ে ২,২৪২ জনে পৌঁছায়।

২০২৫ সালে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এক বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়, যার সংখ্যা ছিল ২,৫৯৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২,১০২ জনকে খুঁজে পাওয়া গেলেও ৪৯৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আনুপাতিক হারে সমাধান না হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘটনার বছর ছিল ২০২৩ সাল; সে বছর নিখোঁজ ২,২৪২ জন নারীর মধ্যে ৬৯৯ জনেরই কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যদিও মোট সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। ২০১৯ সালে বালিকাদের নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ছিল ১৫০ এবং ২০২০ সালে তা ১২২-এ নেমে আসে। তবে পরবর্তীতে ২০২১ সালে ২২১, ২০২২ সালে ২৪৯ এবং ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ২৬১-তে গিয়ে দাঁড়ায়।

২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ২২৬ হলেও ২০২৫ সালে তা আবারও বেড়ে ২৮৯ জনে পৌঁছায়। ওই বছর নিখোঁজ হওয়া বালিকাদের মধ্যে ১৬৬ জনের আজও কোনো সন্ধান মেলেনি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই ২৮৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৮ জন আজও নিখোঁজ।

উল্লেখ্য, এই সময়কালে নথিভুক্ত হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের নিখোঁজের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনার কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

অপরাজিত ঘটনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্নের মুখ

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে নারী অপহরণ ও বলপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের উদ্বেগের মধ্যেই এই ভয়াবহ তথ্য সামনে এলো।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) ২০২৪ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮৭ ধারায় নারী অপহরণ বা বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার মতো ১,২০২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের এই বিপুল পরিসংখ্যান থেকে প্রতিটি ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কতগুলো ঘটনা অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের সাথে জড়িত—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর পাশাপাশি, জেলাভিত্তিক তথ্যের অনুপস্থিতির কারণে ঠিক কোন কোন এলাকায় এই ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে এবং তদন্ত কতটুকু অগ্রগতি লাভ করেছে—সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

গরম, আর্দ্রতা এবং ঘামঝরানো দিনের পর শীতকাল যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও বৃদ্ধি পায়। কুয়াশায় ঢাকা চা-বাগান, দূরের পাহাড়ের দৃশ্য, অতিথি পাখির কলকাকলি অথবা প্রাচীন স্থাপনার ইতিহাস—শীতকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

পরিবারের সঙ্গে কয়েক দিনের ছুটি কাটানো, বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণ অথবা একান্তে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো—সব ধরনের পরিকল্পনার জন্য দেশে রয়েছে নানা গন্তব্য। কোথাও দেখা মিলতে পারে বরফঢাকা হিমালয়ের দূরবর্তী চূড়ার, আবার কোথাও শীতের অতিথি পাখিতে মুখর হয়ে ওঠে জলাভূমি। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, আর প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বন, পাহাড় ও সমুদ্র।

শীতের ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঘুরে দেখতে পারেন বাংলাদেশের এই আটটি দর্শনীয় স্থান।

১. তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, বিস্তীর্ণ চা-বাগান এবং হিমালয়ের দৃশ্যের জন্য পরিচিত। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা বেশ কমে যেতে পারে। ভোরের ঘন কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাস তেঁতুলিয়ার পরিবেশকে অন্যরকম করে তোলে।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে মহানন্দা নদীর তীর ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে দূরের বরফঢাকা পাহাড়ের চূড়া দেখা যেতে পারে। তবে এই দৃশ্য আবহাওয়ার স্বচ্ছতার ওপর নির্ভরশীল। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়ার খবর নেওয়া ভালো।

তেঁতুলিয়ায় গিয়ে চা-বাগানের সবুজ পরিবেশ উপভোগ করা, মহানন্দা নদীর তীরে সময় কাটানো এবং স্থানীয় জনপদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে। যারা ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিতে চান, তাঁদের জন্য এই অঞ্চল আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।

শীতের সকালে বের হলে গরম পোশাক সঙ্গে রাখা জরুরি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণের সময় ও আবহাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

২.হাকালুকি হাওর, সিলেট ও মৌলভীবাজার

শীতকালে অতিথি পাখির আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই মিঠাপানির জলাভূমি বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পাখির মৌসুমি আবাসস্থল। শীতের সময় দূরদেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি হাওরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

হাওরের জলাশয়গুলোতে পিনটেইল, সরালি ও বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস দেখা যেতে পারে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ভরে থাকলেও শীতকালে পানি কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও জলাভূমির মাঝখানে ভূমি জেগে ওঠে। এতে হাওরের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

পাখি দেখার জন্য ভোরের সময়টি তুলনামূলক ভালো। দূরবীন সঙ্গে রাখলে দূর থেকে পাখি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। তবে পাখিদের বিরক্ত করা, তাদের দিকে ঢিল ছোড়া কিংবা উচ্চ শব্দ করে তাদের আবাসস্থলে বিঘ্ন ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের জন্য হাকালুকি হাওর হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। তবে ভ্রমণের আগে স্থানীয় যাতায়াতব্যবস্থা, নৌকার সুবিধা এবং আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।

৩. পাহাড়পুর, নওগাঁ

প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহীদের জন্য নওগাঁর পাহাড়পুর হতে পারে শীতের ছুটিতে ঘুরে দেখার উপযুক্ত জায়গা। এখানে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার সোমপুর মহাবিহার। পাল আমলে নির্মিত এই স্থাপনাটি দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও রয়েছে এটি।

বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ এই প্রত্নস্থানে রয়েছে প্রাচীন বিহারের ধ্বংসাবশেষ, ইটের নির্মাণশৈলী ও পোড়ামাটির ফলকে তৈরি নানা অলংকরণ। এসব নিদর্শন থেকে সে সময়ের স্থাপত্য, শিল্পকলা ও ধর্মীয় জীবনের নানা দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

শীতের তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়ায় হেঁটে পুরো এলাকা ঘুরে দেখা সহজ হয়। দর্শনার্থীরা বিহারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে পারেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখার সময় এর স্থাপনা ও প্রত্নবস্তুর সংরক্ষণে সচেতন থাকা জরুরি।

হাতে বাড়তি সময় থাকলে আশপাশের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানও ভ্রমণ পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। যেমন, বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তবে একাধিক গন্তব্যে যাওয়ার আগে দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় হিসাব করে নেওয়া ভালো।

৪. সুন্দরবন

বন, নদী ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য উপভোগ করতে চাইলে শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর, নানা প্রজাতির পাখি এবং বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

সুন্দরবনের আকর্ষণ শুধু বন্যপ্রাণী নয়; নদী ও খালের জালের মতো বিস্তৃত জলপথ, ম্যানগ্রোভ গাছের শ্বাসমূল এবং বনজ পরিবেশও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নৌযানে করে নির্ধারিত পথে ভ্রমণ করলে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।

শীতের তুলনামূলক শুষ্ক ও আরামদায়ক আবহাওয়া নৌভ্রমণকে স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। পর্যটকদের পরিচিত গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে করমজল ও কটকা। তবে বনের ভেতরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।

সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী দেখার বিষয়টি অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই বাঘ বা অন্য কোনো প্রাণী দেখতেই হবে—এমন প্রত্যাশা না রেখে বনের সামগ্রিক পরিবেশ উপভোগ করাই ভালো। ভ্রমণের আগে অনুমতি, নৌযান, গাইড ও আবাসনের ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।

৫. কুয়াকাটা, পটুয়াখালী

সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই সমুদ্রসৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগের জন্য পরিচিত। সমুদ্রের দিগন্তে সূর্যের রং বদলানোর দৃশ্য দেখতে অনেক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।

সৈকতে হাঁটা, ঢেউয়ের শব্দ শোনা কিংবা সমুদ্রের পাশে বসে সময় কাটানো—সবই হতে পারে শীতের ছুটির আনন্দের অংশ। স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং উপকূলীয় এলাকার জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে।

কুয়াকাটা ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোও ঘুরে দেখা যেতে পারে। তবে কোথাও যাওয়ার আগে যাতায়াতব্যবস্থা, স্থানীয় পরিবহন ও আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

সমুদ্রের কাছে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পানিতে না নামাই নিরাপদ।

৬. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের জন্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পর্যটকদের কাছে পরিচিত। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, চা-শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এবং চা তৈরির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জীবনযাত্রা এ অঞ্চলের ভ্রমণকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়।

শীতকালে চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্থানীয় চায়ের স্বাদ নেওয়া যায়। যারা ব্যস্ত শহর থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য শ্রীমঙ্গল ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

শ্রীমঙ্গলের আশপাশে বনাঞ্চল ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক গন্তব্য রয়েছে। সেগুলো ঘুরে দেখার সময় নির্ধারিত পথ ব্যবহার করা এবং স্থানীয় পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। বনের মধ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে।

এখানে ভ্রমণের জন্য এক বা দুই দিনের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তবে কোথায় থাকবেন এবং কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে নিলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা সহজ হবে।

৭. সাজেক উপত্যকা, রাঙামাটি

পাহাড়, মেঘ আর সবুজের সমন্বয়ে সাজেক উপত্যকা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এই পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় শীতের সকালে কুয়াশা ও মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

সাজেকের পাহাড়ি পথ, উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কেও জানার সুযোগ রয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়া তাঁদের ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ করা উচিত নয়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও পর্যটকদের দায়িত্ব।

সাজেকে যাওয়ার আগে পাহাড়ি সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। আবহাওয়া খারাপ থাকলে যাত্রায় সমস্যা হতে পারে। তাই পরিকল্পনায় কিছুটা বাড়তি সময় রাখা ভালো।

৮. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

নীল জলরাশি, প্রবাল ও সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পরিচিত। কক্সবাজার জেলার টেকনাফের দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সামুদ্রিক গন্তব্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে সমুদ্রের কাছাকাছি সময় কাটাতে চান এমন পর্যটকদের কাছে দ্বীপটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

দ্বীপে গিয়ে সমুদ্রসৈকতে হাঁটা, উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে। তবে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভ্রমণের সময় প্রবাল সংগ্রহ, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা কিংবা সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। অনুমোদিত পরিবহন ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যাত্রা পরিকল্পনা করা উচিত।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন

শীতকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ও যাতায়াতের পরিস্থিতি এক রকম থাকে না। উত্তরের জেলাগুলোতে ভোরে তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশা থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক পরিস্থিতি এবং সমুদ্র উপকূলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ভ্রমণকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা ভালো:

আবহাওয়ার খবর নিন: বিশেষ করে তেঁতুলিয়া, সাজেক ও সমুদ্র উপকূলের গন্তব্যে যাওয়ার আগে আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন।

যাতায়াত ও আবাসন ঠিক করুন: ছুটির সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে আগে থেকে পরিবহন ও থাকার ব্যবস্থা করুন।

প্রয়োজনীয় পোশাক নিন: উত্তরের অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় ভোর ও রাতে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।

পরিবেশের ক্ষতি করবেন না: বন, হাওর, পাহাড় ও দ্বীপে আবর্জনা ফেলবেন না। বন্যপ্রাণী ও পাখিকে বিরক্ত করা থেকেও বিরত থাকুন।

স্থানীয় নিয়ম মানুন: সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি এলাকা ও দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমতি ও নিরাপত্তানির্দেশনা মেনে চলুন।

শীতের ছুটিতে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করে আপনার পছন্দ, সময় ও বাজেটের ওপর। পাহাড়, সমুদ্র, বন, হাওর কিংবা ইতিহাস—যে ধরনের ভ্রমণই বেছে নিন, আগে থেকে পরিকল্পনা করে বের হলে অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩৯

স্পেনে দুটি উচ্চগতির (হাই-স্পিড) ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী মাদ্রিদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যকার সমস্ত রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।

স্পেনীয় রেল অবকাঠামো অপারেটর 'আদিফ' (Adif)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার ঠিক আগে দেশটির তলেদো প্রদেশের উরদা (Urda) এবং লস ইবেনেস (Los Yébenes) শহরের কাছাকাছি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একটি রেনফে এভই (Renfe AVE) ট্রেন এবং একটি ইরিয়ো (Iryo) উচ্চগতির ট্রেন পরস্পরের মুখোমুখি বা পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা খায়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেন দুটির অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের খাদের নিচে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ছুটে গেছেন এবং আহতদের চিকিৎসায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

চলতি বছরে স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত এক মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছিলেন। সে সময় মাদ্রিদগামী ও মাদ্রিদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে শত শত যাত্রী হতাহতের শিকার হন। বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় স্পেনের উন্নত রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুলের অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংসের’ জন্য মোদি-শাহকে নিশানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


রাহুলের অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংসের’ জন্য মোদি-শাহকে নিশানা

ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, টাটা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস’ করা হচ্ছে এবং প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শিল্পপতিরা এ বিষয়ে কেন নীরব রয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুলের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং টাটা গোষ্ঠীর মূল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাহুলের এই বক্তব্য এসেছে। তবে টাটা গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিযোগের পক্ষে তিনি নিজের পোস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। একইভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।

রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত খেলার বিষয় হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পপতিরা কেন মুখ খুলছেন না।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, শিল্প মহলের অনেকের সাহসের অভাব থাকতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস এ বিষয়ে নীরব থাকবে না। তিনি যে ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করছেন, তার বিচার নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী বৃহত্তর পরিসরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং ব্যবসায় সরকারি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তুলতে চাইছেন। ফলে দীর্ঘদিনের এই শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা নিয়ে বিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

কী নিয়ে টাটা গোষ্ঠীতে বিরোধ

টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) টাটা সন্সের কোম্পানি সচিবকে একটি চিঠি দেন নোয়েল। সেখানে তিনি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের আগে পাঠানো আলোচ্যসূচিতে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ না থাকার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি বৈঠকের সম্পূর্ণ ও সম্পাদনাহীন ভিডিও রেকর্ডিংও চেয়েছেন নোয়েল।

টাটা ট্রাস্টসের অবস্থান হলো, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মনোনীত পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, টাটা সন্স এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তের বৈধতার পক্ষে আইনি মতামতের কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিরোধের ফলে টাটা গোষ্ঠীর পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে।

আগেও সরব হয়েছিলেন শরদ পওয়ার

টাটা গোষ্ঠীর এই বিরোধ নিয়ে এর আগে বক্তব্য দিয়েছিলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শরদচন্দ্র পওয়ার গোষ্ঠীর প্রধান শরদ পওয়ার। তিনি টাটা পরিবারের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে টাটা ট্রাস্টসের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর বিরোধটি আরও সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ পেয়েছে। তার অভিযোগের বিষয়ে বুধবার পর্যন্ত বিজেপির কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে নোয়েল টাটার আপত্তির কী নিষ্পত্তি হয় এবং রাহুল গান্ধীর অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি কী অবস্থান নেয়—এখন সেদিকেই নজর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%