০৪:১৯ পি.এম
একটি তথ্য অধিকার (আরটিআই) আবেদনের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দ্য ট্রিব্রিউন জানিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে অন্তত ১৬,৩৯৭ জন নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪,২২৭ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।
উন্মোচিত এই উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৪,৫৯৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে ১১,৩৩৮ জনকে খুঁজে বের করা সম্ভব হলেও ৩,২৫৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ১,৮০৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া ৭৮৮ জন বালিকার বিপরীতে ১,০১৬ জন আজও নিখোঁজ রয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
সামগ্রিকভাবে, নথিভুক্ত ১৬,৩৯৭ জন নিখোঁজ নারী ও শিশুর মধ্যে কর্তৃপক্ষ ১২,১২৬ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও মোট ঘটনার ২৬ শতাংশেরই কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরবিআই আবেদনের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলাভিত্তিক বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি।
২০২৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সর্বোচ্চ চূড়ায়
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচিত এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। ২০১৯ সালে ১,৩৮৮ জন এবং ২০২০ সালে ১,৩৯৮ জন নারী নিখোঁজ হন, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৫৪ জনে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ১,৭৬৬ জনে নামলেও ২০২৩ সালে তা আবার বেড়ে ২,২৪২ জনে পৌঁছায়।
২০২৫ সালে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এক বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়, যার সংখ্যা ছিল ২,৫৯৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২,১০২ জনকে খুঁজে পাওয়া গেলেও ৪৯৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আনুপাতিক হারে সমাধান না হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘটনার বছর ছিল ২০২৩ সাল; সে বছর নিখোঁজ ২,২৪২ জন নারীর মধ্যে ৬৯৯ জনেরই কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যদিও মোট সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। ২০১৯ সালে বালিকাদের নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ছিল ১৫০ এবং ২০২০ সালে তা ১২২-এ নেমে আসে। তবে পরবর্তীতে ২০২১ সালে ২২১, ২০২২ সালে ২৪৯ এবং ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ২৬১-তে গিয়ে দাঁড়ায়।
২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ২২৬ হলেও ২০২৫ সালে তা আবারও বেড়ে ২৮৯ জনে পৌঁছায়। ওই বছর নিখোঁজ হওয়া বালিকাদের মধ্যে ১৬৬ জনের আজও কোনো সন্ধান মেলেনি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই ২৮৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৮ জন আজও নিখোঁজ।
উল্লেখ্য, এই সময়কালে নথিভুক্ত হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের নিখোঁজের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনার কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
অপরাজিত ঘটনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্নের মুখ
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে নারী অপহরণ ও বলপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের উদ্বেগের মধ্যেই এই ভয়াবহ তথ্য সামনে এলো।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) ২০২৪ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮৭ ধারায় নারী অপহরণ বা বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার মতো ১,২০২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের এই বিপুল পরিসংখ্যান থেকে প্রতিটি ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কতগুলো ঘটনা অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের সাথে জড়িত—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: হুতি বিদ্রোহীদের এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ
এর পাশাপাশি, জেলাভিত্তিক তথ্যের অনুপস্থিতির কারণে ঠিক কোন কোন এলাকায় এই ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে এবং তদন্ত কতটুকু অগ্রগতি লাভ করেছে—সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন