বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪২ এম
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার এলাকায় ভিমরুলের কামড়ে আক্রান্ত দুই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তারা ভিমরুলের কামড়ে আহত হয়েছিল।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজন হলো উপজেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গয়েশবাড়ী গ্রামের নয়ন হোসেনের ছেলে রোহান হোসেন (৩) এবং অপরজন একই এলাকার সুজন হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪)।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সূত্রে ওসি মজিবর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খেলতে বের হয় ওই দুই শিশু। খেলাধুলার এক পর্যায়ে তারা একটি ভিমরুলের বাসা দেখতে পেয়ে পাটখড়ি দিয়ে খোঁচা দেয়। এসময় ভিমরুলের দল তাদের কামড় দিলে তারা গুরুতর আহত হয়।
তাদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে আহত দুই শিশু মারা যায়। দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে আটক শিক্ষককে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
মাহদী আমিন লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ আটক করে। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রী তার বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগও ওঠে।
বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, তিনি মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানতে পারেন। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে ওই শিক্ষককে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলা ভাষার উচ্চারণ কিছুটা অস্পষ্ট হয়েছে, এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন শেষে এবং পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করার পর তিনি ক্যাম্প ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোনালদো তবে ক্যাম্প ত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানাননি। বরং তিনি ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, "সময় হলে আমি সব পর্তুগিজকে জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের কারণগুলো সম্পর্কে সত্যটা বলব। এই দলের জন্য আমি সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।"
রোনালদোর ক্যাম্প ত্যাগের ঘটনা ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচের ঠিক আগে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে তার নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। নরওয়ের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি। এরপর ডেনমার্ক ম্যাচের প্রস্তুতির সময় তার অনুশীলনে অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।
ক্যাম্প ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সতীর্থদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, "এখন পর্তুগাল ও আমার সব সতীর্থকে শুভকামনা জানানোর সময়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসানের বিরুদ্ধে উঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতে। আফনান নিজেকে এই অভিযোগ থেকে মুক্ত দাবি করেছেন। একইসঙ্গে, জামায়াতে ইসলামী থেকে তাকে বহিষ্কারের খবরকেও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এ এফ রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন ‘লীগ গেছে হিন্দুস্তান, শিবির যাবে পাকিস্তান’ এবং ‘বীর বীর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’ ইত্যাদি।
মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন। তিনি অভিযোগ করেন, চাকসু স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ইয়াসিন বলেন, "চাকসু থেকে এদের বিতাড়িত করতে হবে। বাইতুল মাল নামে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পারায় বিভিন্ন জায়গায় তা করছে। যারা এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, জনগণের মাধ্যমে প্রকাশ করুন। আর আইনের আওতায় না আনতে পারলে আমরাই তার বিচার করব।"
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চাকসু নির্বাচন করেছিল, সে চাকসু আর চাকসু নেই, সেটা এখন শিবিরসুতে পরিণত হয়েছে। এরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য কাজ করে না, এরা শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে।" তিনি আরও জানান, "চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে চাকসুর নামে চাঁদাবাজি করা হয়। এই চাঁদাবাজেরা চাঁদা তুলে ১০০ টাকা খরচ করে ১০ টাকা। তিন লাখ টাকা খরচ করে শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠান করে এবং নিজেদের আখের গোছানোতে ব্যস্ত।"
তিনি উল্লেখ করেন, "অতি সম্প্রতি আমরা সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম—আপনি যদি স্বচ্ছ থাকেন, আপনি সিটের বণ্টন এবং যে উন্নয়নের খরচ, তার হিসাব দেন। সে সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। সে উন্নয়নের টাকা দিয়ে শিবিরের নবীনবরণে টাকা দিয়েছে। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে?"
আব্দুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, "আমি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ যদি বীরের বেশে মব কার্যক্রম চালু করতে চায়, গুপ্ত হামলা করবেন—সুস্পষ্ট বার্তা, আমার বাপ-দাদার যুগ আর নাই, ওই যুগ নাই। ছাত্রসমাজের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ। এই নতুন বাংলাদেশে কেউ যদি ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের বিপরীতে দাঁড়ায়, ছাত্র সংসদ যদি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বিপরীতে দাঁড়ায়, নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, তবে কারও পিঠের চামড়া রাখা হবে না। স্পষ্ট বার্তা, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে। প্রয়োজনে আবার রক্ত দেবে, কিন্তু এই ক্যাম্পাসকে বৈষম্যমুক্ত করে ছাড়বে।"
এছাড়া, তিনি ছাত্র সংসদের স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, "চাকসু নিজেদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই করে না। যদি কিছু করেই থাকত, তবে আবাসন কোথায়? যেখানে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আবাসনের অভাবে রাতের অন্ধকারে মুখ গুঁজে থাকে। তাদের পরিবার কষ্ট করে, না খেয়ে থেকে অর্থের জোগান দেয়। ইন্টেরিম সরকারের সময় ভাওতাবাজি করে ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল যারা দখল করেছে, ইনশাআল্লাহ তাদের পরিচয় উন্মোচিত হবে এবং তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া হবে।"
তিনি চাকসুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইন্টেরিমের সময় আমরা মব দেখেছি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে বিন্দুমাত্র আঘাত এলে ছাত্রদল সেটি প্রতিহত করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারের অধীনে এখন আছি। আমরা সবকিছু আমাদের বিচারব্যবস্থার হাতে ছেড়ে দেব। এখন যারা নিজের হাতে আইন তুলে নেবে, তাদের বিচার আমরা নিশ্চিত করব।"
এর আগে একই দিন ‘মিরসরাইয়ে বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ, জামায়াতের দুই নেতাকে বহিষ্কার’ শিরোনামে একটি সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সংবাদে চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসানকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে আফনান হাসান তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনি আমাকে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সাংবাদিক যোগাযোগ করেনি। পৌরসভা জামায়াতের একজনের সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ আগে বসে ছিলাম। এটার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো প্রেস রিলিজ দেবে কি না বা কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটা উনারা জানাবেন।"
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে আফনান বলেন, "আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের সঙ্গে জড়িত এবং এখানকারই সদস্য। জামায়াতের সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।"
এদিকে আফনানকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের তথ্য অস্বীকার করেছেন মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল কবির। তিনি বলেন, "শিবিরের কাউকে জামায়াত কীভাবে বহিষ্কার করতে পারে? যেটা ছড়িয়েছে, এটা সত্য নয়।"
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে নুরুল কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, আফনান হাসানকে এ অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে DPhil in Biology প্রোগ্রামে গবেষণার সুযোগ লাভ করেছেন। তার এই গবেষণা কার্যক্রম অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে চলবে এপ্রিল ২০৩১ পর্যন্ত।
বর্তমানে মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (NIB) বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৪ সালে মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ড্রাগ ডিসকভারি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
অক্সফোর্ডে তিনি জীববিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) নিয়ে গবেষণা করবেন। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।
উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭–৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অফার পেয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র্যাটক্লিফের ল্যাব থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের গবেষণাগারকেই বেছে নেন।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে উজ্জ্বল হোসেন আরটিভিকে বলেন, "সুযোগটি পাওয়ার পর প্রথম অনুভূতি ছিল গভীর কৃতজ্ঞতার। এ সময় মা-বাবা, পরিবারের ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কথা মনে পড়েছে। আমার কাছে এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং নতুন দায়িত্বের শুরু।"
একাডেমিক ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "CGPA গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একজন শিক্ষার্থীর ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু ফলাফলই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, চিন্তার গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
গবেষণাক্ষেত্রে ইতিমধ্যে তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ক্লিনিক্যাল আইসোলেটের জিনোম বিশ্লেষণ, AMR নজরদারি ও ক্যান্সার বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ৬০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে গবেষণা উপস্থাপন এবং ‘গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স’ বই লেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে জাতীয় জিনোমিক ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারণে AI-ভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্স যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এরই মধ্যে তিনি এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শতাধিক শিক্ষক ও গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ