বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ এম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে DPhil in Biology প্রোগ্রামে গবেষণার সুযোগ লাভ করেছেন। তার এই গবেষণা কার্যক্রম অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে চলবে এপ্রিল ২০৩১ পর্যন্ত।
বর্তমানে মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (NIB) বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৪ সালে মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ড্রাগ ডিসকভারি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
অক্সফোর্ডে তিনি জীববিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) নিয়ে গবেষণা করবেন। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।
উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭–৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অফার পেয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র্যাটক্লিফের ল্যাব থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের গবেষণাগারকেই বেছে নেন।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে উজ্জ্বল হোসেন আরটিভিকে বলেন, "সুযোগটি পাওয়ার পর প্রথম অনুভূতি ছিল গভীর কৃতজ্ঞতার। এ সময় মা-বাবা, পরিবারের ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কথা মনে পড়েছে। আমার কাছে এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং নতুন দায়িত্বের শুরু।"
একাডেমিক ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "CGPA গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একজন শিক্ষার্থীর ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু ফলাফলই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, চিন্তার গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
গবেষণাক্ষেত্রে ইতিমধ্যে তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ক্লিনিক্যাল আইসোলেটের জিনোম বিশ্লেষণ, AMR নজরদারি ও ক্যান্সার বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ৬০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে গবেষণা উপস্থাপন এবং ‘গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স’ বই লেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে জাতীয় জিনোমিক ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারণে AI-ভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্স যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এরই মধ্যে তিনি এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শতাধিক শিক্ষক ও গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
তার এই সফরকে ঘিরে জেলার উন্নয়ন-প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক হাজার ২৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন থেকে শুরু করে, সোলার বিদ্যুৎ, কৃষক ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা—প্রস্তুত হচ্ছে প্রশাসন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর ২টায় তার ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) লুৎফর রহমান বলেন, মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে চার স্তরের বলয় তৈরি করা হয়েছে। ১ হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে যাওয়ার পথে কুমিল্লার অংশে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, রাস্তার দুই পাশে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানানোর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলাম ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজকে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য।
হাদিসের আলোকে, নামাজ মুমিন ও অমুসলিমের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষকে সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যে যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ সাল, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে উপস্থাপন করা হলো-
ফজর- ভোর ৪:৩৭ মিনিট
জোহর- দুপুর ১১:৫২ মিনিট
আসর- দুপুর ৪:০৭ মিনিট
মাগরিব- সন্ধ্যা ৫:৫০ মিনিট
এশা- রাত ৭:০৪ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এ বছর ৪৩ লাখ কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। উদ্বোধনী দিনে পাইলট পর্যায়ে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন।
আজ (বুধবার) ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী’ প্রদান অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে এ বছর ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন। এর মধ্যে আগামীকাল (০১ অক্টোবর ২০২৬) ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড (প্রিন্টেড) কপি পাবেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকালের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে, বাকি ৬৪ উপজেলাও যুক্ত থাকবে।
মন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ে সহায়তা প্রদান এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা আরও সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য রোড টু আনাতোলিয়া: ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক প্রাক-কপ৩১ আন্তর্জাতিক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদের আওতায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং ইউনেস্কো চেয়ার অন এডুকেশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, গ্রিন স্কিলস অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশনস যৌথভাবে এ ওয়েবিনারটি আয়োজন করে।
তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করা, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটির ব্যবহার কমানো, পাহাড় ও টিলা কাটা রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং সৌর ও বায়ুশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইফুম পারভেজ বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের কার্যক্রম সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং কার্যকর অংশীদারত্ব জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং কপ৩১-এর আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বাস্তবায়নভিত্তিক ফলাফল অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।
তিনি বলেন, এনডিসি ৩.০-এর অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে।
আলোচনায় এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে জলবায়ু অর্থায়নের নতুন ও বহুমুখী উৎস কাজে লাগানো, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক, প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর আওতায় সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা এবং বেসরকারি পুঁজি কাজে লাগিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের সমন্বয়ে মিশ্র অর্থায়নের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
কপ৩১ সম্মেলন সামনে রেখে ক্লাইমেট ইমপ্লিমেন্টেশন ব্রিজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে এনডিসি ও জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ওয়েবিনারটির আলোচনা ও সুপারিশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়ন এবং কপ৩১-এ বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি জোরদারে সহায়ক হবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূরুল মুনীরের সঞ্চালনায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. লিওনার্দো এ. এ. তেগুহ সাম্বোদো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ড. মারিয়া নেইরা, সিকিউ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওলাভ মুরলিংক, ইস্তাম্বুল আয়দিন ইউনিভার্সিটির ড. এলিফ কায়া, তুরস্কের ওএমইউডির মহাসচিব উমাই ইলমাজ এবং ক্লাইমেট হাব ইন্টারন্যাশনাল, উগান্ডার কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ক্লিনটন মাওয়ান্ডা প্রমুখ ওয়েবিনারে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ