রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৬ পি.এম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে মিজানুর রহমান সোহেল (৪১) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি সামুরাই, একটি চাপাতি ও তিনটি সেলাই রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছিল। এ সময় মোবাইল ডিউটিতে থাকা টহল পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের ৫ থেকে ৬ জন সদস্য দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ পরে ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে মিজানুর রহমান সোহেলকে আটক করে। তিনি কুমিল্লার চান্দিনা থানার জিরাবাইস এলাকার আব্দুর রব মিয়ার ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহেল একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। তাঁর দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে শ্রাবণ গাড়ির হেলপার রাকিব (৩৫), কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মজিবরের ছেলে নাহিদ (৩৩), একই এলাকার বাসিন্দা আলামিন (২৫), ইউসুফ (৩০) এবং আরো ১ থেকে ২ জন অজ্ঞাতপরিচয় সদস্য রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছে। জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে টাইগাররা এই ম্যাচগুলো খেলবে। রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে টাইগারের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
প্রথম দিন অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন কুমার দাস এবং নাজমুল হোসেন শান্ত উল্লেখযোগ্য।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকার কারণে কিছু ক্রিকেটার অনুপস্থিত ছিলেন। তারা দেশে ফেরার পর অনুশীলনে যোগ দেবেন। এছাড়া, কয়েকজন ক্রিকেটার বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। ছুটিতে থাকা শরীফুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর অনুশীলনে ফিরবেন। অন্যদিকে, কাউন্টিতে খেলার কারণে হাসান মাহমুদ অনুশীলনে নেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি আগামী ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ দল নিজেদের মধ্যে দুটি দলে ভাগ হয়ে অংশ নেবে, কোনো বিদেশি দলের বিপক্ষে নয়।
এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশ দলকে গ্রুপ পর্বে খেলতে হচ্ছে না। তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রুপ ‘বি’ থেকে প্রথম রাউন্ড পার করে আসা একটি দলের (হংকং, মালয়েশিয়া বা ওমান) বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তাদের এশিয়ান গেমসের অভিযান শুরু করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত গার্মেন্ট কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যার মামলার রায়ে আদালত সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আদালত একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেরও নির্দেশ দিয়েছে। অর্থদণ্ড না দিলে তাদেরকে আরও ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সময় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর পলাতক দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে নাম উল্লেখযোগ্য হলো- বাবুল সাহা জীবন (৩৩), নাজমুল ইসলাম (২৮), সঞ্জয় দাস (৩০), মিলন (৩২), বশির (৩১), সমীর চন্দ্র মণ্ডল (৩০) এবং কাউছার (৩৪)। উল্লেখ্য, বাবুল সাহা জীবন (৩৩) ও কাউছার (৩৪) পলাতক রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ জানান, নিহত সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকায় অবস্থিত প্লাজি ফ্যাশন গার্মেন্টের কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট, বাবুল সাহা জীবন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুভ্রকে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ‘মায়ের আঁচল’ নামে একটি নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের ৭ম তলায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে জীবন তার বন্ধু নাজমুল ইসলাম, সঞ্জয় দাস, মিলন, বশির, সমীর, কাওছার মিলে মাথায় আঘাত করে ও শ্বাসরোধ করে শুভ্রকে হত্যা করে, পরে শহরের খানপুর হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক পরিবহণ, সেতু বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে সমাজে মাদক হচ্ছে সকল অপরাধের মূল ভিত্তি। এই মাদককে কেন্দ্র করে শতকরা ৯৫ ভাগ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে এই মাদককে কেন্দ্র করে। সবার আগে এই মাদককে নির্মূল করতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নামে যতই ঝটিকা মিছিল করা হোক, তার ফল ভালো হবে না। এদের চরম খেসার দিতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের ধরার জন্য কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গাজীপুরের সার্বিক উন্নয়নে আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।
সভায় ফজলুল হক মিলন জানান, গাজীপুরের অনেক সমস্যা রয়েছে যা সমাধানে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, "কথা বেশি বলে লাভ কী হবে, আমাদের এখন কাজ করার সময়, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
এ সময় এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শ্রীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেন, "এখানে পুলিশের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।"
মজিবুর রহমান বলেন, "আগে বিরোধী দলে ছিলাম, এখন সরকারি দলের এমপি হয়েছি। আমাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ২০ বছর পৌরসভার মেয়র ছিলাম, এমন বহু মিটিং এ বক্তৃতা করেছি, তেমন একটা কাজে আসেনি। আমাদের এখন কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে।"
সালাহ উদ্দিন আউয়ুবী বলেন, "আমার নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়াতে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। প্রতি রাতে গরু চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি জমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে একজন খুন হয়েছে। কিন্তু ওই আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি।"
মাদকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটা তো ভয়াবহ পরিস্থিতি, এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই।"
গাজীপুর সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, "জেলা ও মহানগরের সমন্বয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সবাইকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করব, আমার জায়গা থেকে আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আউয়ুবী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও প্রতিনিধিগণসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার বিষণ্ণতা এবং হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এসে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি খেলেছেন।
সালমান আলী আগা সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে তিনি দলের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার কারণে লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের উদ্বোধনী রাউন্ডে মার্কোর আইটি সলিউশন্সের বিরুদ্ধে কিংসমেন একাডেমির হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন সালমান। দলের বিপর্যয়ের মুখে (৭২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর) উইকেটে এসে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি অর্জন করেন তিনি।
কিন্তু এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। শতকটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করার পর, তিনি দুর্দান্তভাবে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি অর্জন করেন। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ১৬৯ রান। ফলে এই একটিমাত্র ইনিংসে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি—দুই মাইলফলকই একসঙ্গে স্পর্শ করলেন।
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সালমানের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষিতে তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অর্থবহ বার্তা পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বেসিক বা মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। মাঝে মাঝে এটি জরুরি; কখনো অহংকার করতে নেই। শুরুটা বিনয়ী ছিল, শেষটাও সেভাবেই হবে।’
সালমান আগা পাকিস্তানের ২৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ