রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
সড়ক পরিবহণ, সেতু বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে সমাজে মাদক হচ্ছে সকল অপরাধের মূল ভিত্তি। এই মাদককে কেন্দ্র করে শতকরা ৯৫ ভাগ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে এই মাদককে কেন্দ্র করে। সবার আগে এই মাদককে নির্মূল করতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নামে যতই ঝটিকা মিছিল করা হোক, তার ফল ভালো হবে না। এদের চরম খেসার দিতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের ধরার জন্য কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গাজীপুরের সার্বিক উন্নয়নে আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।
সভায় ফজলুল হক মিলন জানান, গাজীপুরের অনেক সমস্যা রয়েছে যা সমাধানে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, "কথা বেশি বলে লাভ কী হবে, আমাদের এখন কাজ করার সময়, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
এ সময় এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শ্রীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেন, "এখানে পুলিশের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।"
মজিবুর রহমান বলেন, "আগে বিরোধী দলে ছিলাম, এখন সরকারি দলের এমপি হয়েছি। আমাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ২০ বছর পৌরসভার মেয়র ছিলাম, এমন বহু মিটিং এ বক্তৃতা করেছি, তেমন একটা কাজে আসেনি। আমাদের এখন কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে।"
সালাহ উদ্দিন আউয়ুবী বলেন, "আমার নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়াতে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। প্রতি রাতে গরু চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি জমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে একজন খুন হয়েছে। কিন্তু ওই আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি।"
মাদকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটা তো ভয়াবহ পরিস্থিতি, এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই।"
গাজীপুর সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, "জেলা ও মহানগরের সমন্বয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সবাইকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করব, আমার জায়গা থেকে আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আউয়ুবী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও প্রতিনিধিগণসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার বিষণ্ণতা এবং হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এসে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি খেলেছেন।
সালমান আলী আগা সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে তিনি দলের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার কারণে লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের উদ্বোধনী রাউন্ডে মার্কোর আইটি সলিউশন্সের বিরুদ্ধে কিংসমেন একাডেমির হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন সালমান। দলের বিপর্যয়ের মুখে (৭২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর) উইকেটে এসে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি অর্জন করেন তিনি।
কিন্তু এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। শতকটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করার পর, তিনি দুর্দান্তভাবে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি অর্জন করেন। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ১৬৯ রান। ফলে এই একটিমাত্র ইনিংসে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি—দুই মাইলফলকই একসঙ্গে স্পর্শ করলেন।
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সালমানের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষিতে তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অর্থবহ বার্তা পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বেসিক বা মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। মাঝে মাঝে এটি জরুরি; কখনো অহংকার করতে নেই। শুরুটা বিনয়ী ছিল, শেষটাও সেভাবেই হবে।’
সালমান আগা পাকিস্তানের ২৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজশাহীর এক ব্যবসায়ীর কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির প্রধান আসামি পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ।
শনিবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি দায়ের করেন। কনস্টেবল জাকিরকে মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলী এবং তার ছেলে নয়নও মামলায় আসামি হয়েছেন। এছাড়া, আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরস্পরের সহযোগিতায় কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর শনিবার রাতেই কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলার পুলিশ মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডের আবেদনও আদালতে জমা দিয়েছেন।
গ্রেফতারের পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরাপাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহীর ব্যবসায়ী নিঝুম ৮ আগস্ট ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের জন্য মোহাম্মদ আলীকে পাঠান। ঘটনার দিন বিকালে কনস্টেবল জাকির সাদা পোশাকে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কনস্টেবল জাকিরকে শনাক্ত করা হয়।
জাকিরের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নের ফোনালাপের কলরেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি স্বর্ণ দেওয়ার সময় জানিয়েছেন যে, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তিনি স্বর্ণের চালানটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন। কিভাবে ছিনতাই করতে হবে তাও বলেছিলেন। এই ছিনতাই পরিকল্পনায় তার ছেলে নয়নও জড়িত ছিল। স্বর্ণ হস্তান্তরের সময় জাকির অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার রাতেই তারা ৪০ ভরি স্বর্ণ ২০ ভরি করে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী।
এদিকে ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জাকির হোসেনসহ দুজনকে তার অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালিনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়ন সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির নয়নের মোবাইল নম্বরে ১০ বার কথা বলেছেন। আগের দিন ৭ আগস্ট একই নম্বরে জাকির ২৫ বার কথা বলেছেন। ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলীর নম্বরেও জাকির কথা বলেছেন ৭ বার। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। একই দিন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কথা হয়েছে ১১ বার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাহক মোহাম্মদ আলী স্বর্ণ বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির এখনো দেননি। পুলিশ এই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করে লম্বা ছুটিতে কনস্টেবল জাকির’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি শেষে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় পরিচালিত মেগা অভিযানে এই চিত্র উঠে এসেছে। আটক বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ বাংলাদেশি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী।
আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশিদের সংখ্যা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।
অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালীন লেবুহ পুডুতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকজনের ধস্তাধস্তিও ঘটে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এছাড়া বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।
অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এক অভিযানে ৪৭২ বিদেশির মধ্যে ৩৬৪ বাংলাদেশি এই পরিসংখ্যানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কাগজপত্রের ঘাটতি, অতিরিক্ত অবস্থান কিংবা অন্যান্য অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কেন একই এলাকায় পাওয়া গেল তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের বৈধতা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ছে। তার মধ্যেই লেবুহ পুডুর এই অভিযান বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হাসান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "এই যে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছেন, এ দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন এবং মেগা প্রকল্পের নামে ডাকাতি করেছেন- সেগুলোর হিসাব অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি সাহস থাকে আপনারা আইন আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর মুখোমুখি হন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "তাহলে তো পালিয়ে থাকার দরকার নাই, অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার তো দরকার পড়ে না।"
রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. জাহিদ হাসান বলেন, "উনারা বুঝতে পারেন- দেশের অবস্থান আজ কোথায়।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "সেজন্য উনারা এআইয়ের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে বা বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে।" তিনি বলেন, "কোনো সময় সারের নামে, কোনো সময় বিদ্যুতের নামে এবং কোনো সময় অন্য ইস্যুতে একটি মব কালচার সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্টের অপচেষ্টা করছে; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এসব মেনে নেবে না।" তিনি যোগ করেন, "দলীয়ভাবে শুধু প্রতিহত নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "১৭ বছর এ দেশের মানুষ অনির্বাচিত সরকার দেখেছে। রাতের সরকার দেখেছে, বিনা ভোটের সরকার দেখেছে এবং ডামি নির্বাচনের সরকার দেখেছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন, "তাদের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না।" তিনি বলেন, "তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করেছে যে, তাদের দেশে থাকার মতো কোনো সাহস ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, "ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে যত স্বৈরাচার শাসনই উনারা করুন না কেন, বিএনপি কিন্তু এ দেশে থেকে এই দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে; তারপরও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দলের প্রতি আনুগত্যের কমতি দেখানি।"
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় যোগ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ