শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৬ এম
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার সকালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে গেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা তেলের পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এসব পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে দাঁড়ায়।
জ্বালানি সরবরাহের চাপ কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল এবং গত মার্চে জরুরি মজুত থেকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ পরিবহনের ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনকারী কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে নতুন করে হামলা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর বিনিয়োগকারীরা সতর্ক নজর রাখছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুসলমানদের জন্য জুমার দিন একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই বিশেষ দিনে রয়েছে ইবাদতের বিভিন্ন সুযোগ এবং ফজিলত। মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ এবং দোয়া করার মাধ্যমে দিনটিকে কাজে লাগাতে পারেন।
ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব নিয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই এই দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেখান থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৪)
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এই নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন, পরিষ্কার পোশাক পরা, সময়মতো মসজিদে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা সুন্নতসম্মত আমলের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ
অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।” (সুরা জুমুআ, আয়াত ৯)
জুমার দিনে যে ৪ আমল করবেন
১. গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়
জুমার দিনের প্রধান ইবাদত হলো জুমার নামাজ। তাই এ নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে এবং মনোযোগসহ খুতবা শুনে নামাজ আদায় করা এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে জুমার দিন গোসল করে, আগেভাগে মসজিদে গিয়ে, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৫)
২. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত
জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় এসেছে, এ সুরা পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত নূর লাভের কথা বলা হয়েছে। (সুনানে বায়হাকি)
তাহলে জুমার দিনে সময় বের করে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা যেতে পারে। আরবি পড়তে অসুবিধা হলে শুদ্ধভাবে পড়া শেখার পাশাপাশি এর বাংলা অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।
৩. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খুঁজুন
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন—এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
একটি বর্ণনায় জুমার দিন আসরের পর দিনের শেষ সময়ে সেই মুহূর্ত খোঁজার কথা বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮)
তাহলে আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে। নিজের, পরিবার ও সবার কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত চাইতে পারেন।
৪. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে এ দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশনা এসেছে।
তাহলে জুমার দিনে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে দরুদ পাঠের অভ্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারেও সময় দেওয়া যেতে পারে।
জুমার দিন শুধুমাত্র একটি সাপ্তাহিক সমাবেশের দিন নয়; এটি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াতুন নাফস) ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ। তাই নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পরিবর্তে বিশেষ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। গত জুন মাসে, দেশব্যাপী সকল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তরুণীদের উৎসাহিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার জানায়, দেশের ‘সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানব মর্যাদা’ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আরও জানায়, এসব প্রতিযোগিতা বুরকিনা ফাসোর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
গত আগস্ট মাসে, সরকার ‘হাকিলি মুসো’ নামে একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় ৮৪ জন তরুণী গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নে নিজেদের মেধার পরিচয় দেন। প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করা অংশগ্রহণকারীদের জন্য ট্রফি এবং উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ বা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
ইভেন্টের শেষে রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ত্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। তিনি তরুণীদের বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার এবং বড় স্বপ্ন দেখার জন্য উৎসাহিত করেন। এর আগে, ৮ জুন তারিখে, দেশের যোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তরুণীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘এটি সত্যিই এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত! চিন্তা করে দেখুন এটি কত শত তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে!’ অন্য একজন বলেন, ‘একজন নারীকে শিক্ষিত করা মানে পুরো পরিবারকে শিক্ষিত করা। তাছাড়া বিউটি ইন্ডাস্ট্রি উপকারের চেয়ে তরুণীদের ক্ষতিই বেশি করেছে।’
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের গুরুত্ব তুলে ধরে অনেকে বলছেন, বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করার মানে এই নয় যে সৌন্দর্য বা নারীত্বকে উপেক্ষা করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় তিন শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পর পুলিশ জানায়, হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও নিহত হয়েছে।
ব্যান্ড পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। নিহত শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ের একজন কর্মী। পুলিশ জানায়, হামলাকারী ব্যান্ড শহরের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছি। সে ব্যান্ড শহরের ১৬ বছর বয়সী এক বাসিন্দা।” তিনি আরো বলেন, “এক স্থানীয় বাসিন্দা সন্দেহভাজনকে স্কুলে ঢুকতে দেখেছিলেন। তিনি তার পিছু নিয়ে স্কুলের ভেতরে যান এবং তার মুখোমুখি হন। ওই ব্যক্তির গুলিতেই সন্দেহভাজন আহত হয়।”
পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার জানান, একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে যায়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারী থাকার খবর জানিয়ে একের পর এক জরুরি ফোনকল আসে।
এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে প্রথম ফোনকল পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা জানতে পারেন, হামলাকারী গুলিতে নিহত হয়েছে। সিএনএন ও সিবিএস নিউজও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।
ব্যান্ড শহরের সিলভার রেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেখানে ৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলার পর বিদ্যালয়টি বন্ধ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের বাসে করে অন্য একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
একটি গির্জার কাছে নির্ধারিত ওই স্থানে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবকরা। তাদের একজন ড্রু শার্প সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বিশ্বাস, ছেলে নিরাপদে আছে। শার্পের ছেলে বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি জানান, বাস থেকে প্রথমে ছোট শিক্ষার্থীদের এবং পরে বড় শিক্ষার্থীদের নামানো হচ্ছিল। এ কারণে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।
ব্যান্ড-লা পাইন স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় জেলার কর্মকর্তারা হতবাক ও শোকাহত। তিনি নিহতদের পরিবার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানান। তার ভাষায়, এ ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।
স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার জেলার সব স্কুলে ক্লাস বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব ধরনের স্কুল কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজনও বাতিল করা হয়েছে। সিলভার রেল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পোর্টল্যান্ড শহর থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা এখানে পড়াশোনা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহজে পাওয়া যায়। দেশটিতে প্রায়ই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল। সেদিন ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থী সেউং-হুই চো ৩২ জনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ১৭ জন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন।
বন্দুক সহিংসতার তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬০টির বেশি গণগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে গণগুলির ঘটনা হিসেবে গণনা করে।
বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিআইএফওআরডিএস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের এবং সন্তানদের নিরাপত্তার খবরের জন্য অপেক্ষা করা পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের সহিংসতাকে জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে আর মেনে নেওয়া যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও অন্তর্ভুক্ত আছেন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষক।
এই হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে। শহরটি পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট এবং ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সি এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সি এক শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় বেন্ডের সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে ১৬ বছর বয়সি বেন্ডের এক কিশোরকে, যে ঘটনাস্থলে মারা যায়। তবে তার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী তালাবদ্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সে আগে কখনো ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে কি না।
পুলিশ প্রধান ক্রান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে জরুরি সহায়তা চেয়ে প্রথম ফোন আসে। পরবর্তী কয়েক মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীরা আরও বহু ফোন পান।
প্রথম ফোনটি করেছিলেন একটি গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি, যিনি জানান, লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছে।
এরপর দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে লকডাউন জারি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছান।
ক্রান্টজ জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধাওয়া করে ভেতরে যান স্থানীয় এক ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি হামলাকারীকে গুলি করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা বিদ্যালয়ে ঢুকে হামলাকারীর মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ সদস্যরা পুরো বিদ্যালয় তল্লাশি করে আর কোনো হুমকি আছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা আহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেন।
পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনার পেছনের কারণ এবং হামলাকারীর সঙ্গে বিদ্যালয়টির কোনো পূর্বসম্পর্ক ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ