বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৩ পি.এম
একে একে দশটি সন্তানকে নিজ হাতে কবরে শায়িত করেছেন, আর বছর খানেক আগে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছেন তার একমাত্র জীবনসঙ্গী স্বামী।
চরম শোক, নিঃসঙ্গতা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বিধবা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সরকারি স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং অনাহার-অর্ধাহারেই দিন পার করছেন তিনি।
মাহফুজা খাতুনের জীবনের ইতিহাস দুঃখ ও শোকের এক জীবন্ত দলিল। তার গর্ভে জন্ম নিয়েছিল মোট ১০টি সন্তান, যার মধ্যে ৬ জন ছেলে এবং ৪ জন মেয়ে; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শৈশব ও বিভিন্ন বয়সে একে একে তার সব সন্তানই মৃত্যুবরণ করেছে। মাতৃত্বের সব অবলম্বন হারানোর পর বছরখানেক আগে তার স্বামীও মারা যান। ফলে, এই বৃদ্ধ বয়সে তার খবরাখবর নেওয়ার কিংবা একমুঠো অন্ন মুখে তুলে দেওয়ার মতো কোনো নিকটাত্মীয় বা আপনজন আর রইল না। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি অভিভাবকহীন অবস্থায় একা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্জন স্থানে ভাঙাচোরা, ঝরঝরে এবং স্যাঁতসেঁতে একটি টিনের ঝুপড়িতে মাহফুজা খাতুনের বসবাস। ঘরের টিনগুলোতে মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুইয়ে পড়ার উপক্রম হয়। ছাউনি ও বেড়া প্রায় ধ্বংসের মুখে। বয়োবৃদ্ধ শরীরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত ঘরে একা বসবাস করা সাধারণ মানুষের জন্যও চরম ভীতি ও কষ্টের। যেকোনো দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় আশ্রয়টুকু ধসে পড়ার আতঙ্কে কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।
চোখের জলে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুন জানান, ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিয়মিত খাবার জোটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কখনো প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে তরকারি বা রান্না করা খাবার দিলে তা খেয়ে ক্ষুধা মেটান। সাহায্য না পেলে শুধু লবণ-মরিচ দিয়ে ভাত মেখে অথবা শুকনা খাবার খেয়েই দিন পার করেন।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আত্মীয়-স্বজন বা আশপাশের মানুষের দেওয়া ফিতরা ও জাকাতের সামান্য অর্থ দিয়ে কয়েক মাস কোনোমতে চালিয়ে নেন; কিন্তু সেই সাহায্য ফুরিয়ে গেলে আবার অন্যের দরজায় হাত পাততে হয়।
বৃদ্ধা মাহফুজার অভিযোগ, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে চরম দুঃসময়েও তিনি কোনো ধরনের স্থায়ী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাননি। তার নামে এখনো পর্যন্ত কোনো বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড ইস্যু করা হয়নি। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল কিছু চাল বা শুকনো খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হলেও তা তার দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতায় উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অবিলম্বে একটি স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করা ও বসবাসের উপযোগী একটি নিরাপদ ঘর নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অসহায় এই নারী।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বলেন, "সন্তান ও স্বামী হারিয়ে একজন বয়োবৃদ্ধ নারীর এভাবে কষ্টে দিনযাপন করার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় পৃথক স্থান থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খারুয়ালী ও উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এবং অপর দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের দুটি পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁও গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে হাফেজ আলী (৬০) এবং মাহতাব আলীর ছেলে ছফির আলী (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে কয়েকজন শিশু মাদরাসায় যাওয়ার সময় মাহতাব আলীর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে ছফির আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের আড়ার সঙ্গে হাফেজ আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে, বুধবার সকালে খারুয়ালী গ্রামে মাঠে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে একটি পল্লী বিদ্যুতের সচল লাইনের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েন ধনু আকন্দ (৬০)। দূর থেকে ভাইকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন তার আপন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ (৬৫)। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ফলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। নিহত ধনু আকন্দ ওই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে এবং শাহাবুদ্দিন আকন্দ আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পৃথক ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খারুয়ালী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত দুইজনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্ধারকৃত অপর দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই মরদেহগুলোও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালিন উপ-পরিচালক এম.এম. শাব্বির হাসানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে, যিনি শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার ছিলেন। আজ (বুধবার) তার বিরুদ্ধে থাকা ‘সাময়িক বরখাস্ত’ আদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশে স্বাক্ষর করেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। আজই আদেশটি কার্যকর করা হয়।
আদেশের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬/০৯/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং কমিশন কর্তৃক মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের না করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ায় এমএম শাব্বির হাসান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক বিভাগীয় মামলা নং-০৩/২০১১ এর অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো। তার সাময়িক বরখাস্তকালের সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে শিকলবাহা, হরিপুর ও খুলনায় বার্জমাউন্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছিলেন এমএম শাব্বির হাসান। এই মামলায় তিনি শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব তৌফিক ইলাহী চৌধুরী, পিডিবি’র তৎকালিন চেয়ারম্যান নূরুদ্দীন মাহমুদ কামাল, সামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজিজ খান, পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা ও পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করেছিলেন।
এছাড়া ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সরকার আমলে বেশ কিছু হাইপ্রোফাইল মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। তার দায়েরকৃত মামলা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা তখন দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রথম কারাগারে যান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রতিশোধপরায়ণ শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার হন দুদক কর্মকর্তা শাব্বির হাসান। তাকে ‘ফাঁদ’ পেতে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের একটি মামলায় ফাঁসানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি এই মামলায় ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পান। যদিও খালাস পেলেও হাসিনা অনুগত তৎকালিন কমিশন বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশও বহাল রাখে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে বিগত কমিশনগুলো পুনর্বহাল করেনি। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দেড় দশক ধরে অপবাদের ঘানি টেনে গ্লানিমুক্ত হয়ে আজ চাকরিতে যোগদান করলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের ৪ সদস্যের একটি টিম অভিযান চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক।
অভিযানের সময় দুদক টিম রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার অফিসে গিয়ে তার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য অনিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা দপ্তরের ওয়াশ ব্লকের কাজসহ অন্যান্য প্রকল্পের নথি যাচাই করেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া সকল প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। তবে কিছু কাগজপত্র দুদক টিম মাঠ পর্যায়ে যাচাই করার জন্য নিয়ে যায়। এছাড়া, আরো কিছু নথি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন, উপ-সহকারী পরিচালক ছরওয়ার হোসেন, এসআই সাজিবুল ইসলাম মাসুদসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে টেন্ডার কার্যক্রমে নিম্ন দরদাতাকে কাজ না দেওয়া এবং অন্য ঠিকাদারকে কাজ প্রদান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযান চলাকালে কিছু বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলেও মাঠ পর্যায়ে নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনে নগরীর বিভিন্ন অর্জন, সীমাবদ্ধতা, সমস্যা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জনতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সমস্যা সমাধানে একগুচ্ছ আশ্বাস প্রদান করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক নাগরিক নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা-ড্রেন, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, কর এবং দুর্নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেন।
নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রসঙ্গে প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবায় ইতোমধ্যে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, "পর্যায়ক্রমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
নগরীর যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, এসব ক্ষেত্রে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। তিনি নগরবাসীর সহযোগিতায় অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, "বিগত সময়ের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়।
ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনের বিষয়ে প্রশাসক জানান, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করতে হবে। তিনি বলেন, "রাস্তা ও ড্রেনের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে হবে।" ভবন অনুমোদনের দায়িত্ব নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখনও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো পায়নি। বর্তমানে অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। নগরীর উন্নয়নকাজের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, অসমাপ্ত রাস্তা ও ড্রেনের নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে নগরবাসীর ওপর কোনো ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলে নিয়ম অনুযায়ী কর দিতে হবে।
প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রশাসক। তিনি নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবন নির্মাণের নিয়ম, করব্যবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ হেলাল উদ্দিন, চিকিৎসক নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী, মনসুর আলম চন্দন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং প্রায় দেড় সহস্রাধিক নাগরিক প্রতিনিধি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ