ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার


আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার রূপকার ও ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করার পরেই জাতীয় পুনর্মিলনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর অধীনে ‘মহাসংলাপ : ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে এ কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় জড়িতদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কেউ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে না পারে, সেজন্য বিচারিক ও রাজনৈতিক কাঠামোগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা

এ সময় তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে শাসকদের ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর এক মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবং জনগণের নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে একজোট হয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা লড়াই করেছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও নিজেদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য।

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীরা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, রাজপথে যে চড়া মূল্য ও রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, সে কথা স্মরণ রেখে এমন এক জবাবদিহিমূলক শাসনকাঠামো তৈরি করা হবে, যা যেকোনো স্বৈরতান্ত্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে নস্যাৎ করে দেবে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিচারহীনতার রাজনীতির সংস্কৃতি শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বর্তমান সরকার জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে আশ্বাস দেন, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি

তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট গবেষক ও চিন্তাবিদরা অংশ নেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক করোরি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করলেন ‘তুরস্কের মেসি’ আর্দা গুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করলেন ‘তুরস্কের মেসি’ আর্দা গুলের

‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে’ হারাতে চায় কে? আর্দা গুলের রিয়াল মাদ্রিদের জন্য তেমনি এক সোনার ডিম পাড়া হাঁস। যিনি রিয়ালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

এবং সেটিও তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে অর্জন করেছেন। ‘তুরস্কের মেসি’ খ্যাত গুলেরের দীর্ঘ এক ক্যারিয়ার রয়েছে। উদীয়মান এই তারকাকে হারানোর ঝুঁকি এড়াতে রিয়াল মাদ্রিদ নতুন চুক্তি করেছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও গুলেরের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করেছে রিয়াল। তার পূর্ববর্তী চুক্তি ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে, এই চুক্তির মেয়াদ ২ বছর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, গুলের ২০৩১ সাল পর্যন্ত লস ব্ল্যাংকোসদের হয়ে খেলবেন।

গুলেরের খেলায় মুগ্ধ কোচ জোসে মরিনহোও। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘চুক্তির পর যারা তার উন্নতিতে সহায়তা করেছেন, তাদের অগ্রগতির ধারাকে বোঝার ক্ষেত্রে তারা সেরা। তবে তার সহজাত মেধা যে অনস্বীকার্য, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

গুলেরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রমাণ পাওয়া যায় গত মৌসুমের পরিসংখ্যানে। সর্বশেষ মৌসুমে তিনি ৪০ ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। ৬ গোলের বিপরীতে তিনি ১৪ অ্যাসিস্ট করেছেন রিয়ালের মিডফিল্ডার হিসেবে। নতুন মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচের ৫টিতে শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন। ১ গোলের বিপরীতে তার রয়েছে ৩ অ্যাসিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত মানবাধিকার ও ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎শাহানুর আলম,বিশ্বম্ভরপুর,প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


‎সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত মানবাধিকার ও ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ

‎‎সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানবাধিকার ও ওয়েলফেয়ার সংগঠন বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি- এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাংবাদিক ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ।
‎সংগঠনটির সরকারি লাইসেন্স নম্বর এস-১৫৩৯৯/২৬। মানবাধিকার সুরক্ষা, নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ, ঘুষ দূর্নীতি প্রতিরোধ, আইনগত সহায়তা প্রদান, অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
‎
‎মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি তাঁর নিজ এলাকায় সামাজিক ও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
‎কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দরা জানান - নতুন দায়িত্বে আব্দুল আউয়াল মিছবাহ মানবাধিকার রক্ষা, সমাজের অন্যায় অবিচার ঘুষ দূর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিকদের আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং অসহায় বঞ্চিতদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
‎
‎নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, সমাজের অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন প্রতিরোধের চেষ্টা করার পাশাপাশি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার ও অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রত্যাশিত ফল ছাড়াই আশা দেখাচ্ছে ক্লপের জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


প্রত্যাশিত ফল ছাড়াই আশা দেখাচ্ছে ক্লপের জার্মানি

চারটি ম্যাচে ১টি জয়। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের জার্মানি অধ্যায়ের শুরুটা তেমন উজ্জ্বল নয়। তবে, লিভারপুলের প্রাক্তন এই কোচের মতে, বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর তার দলের উন্নতি ঘটেছে।

ক্লপ দায়িত্ব গ্রহণের পর জার্মানি সমর্থকরা আশা করেছিলেন, এই কোচের নেতৃত্বে জার্মান দল যাদুর মতো পরিবর্তিত হবে। কিন্তু বাস্তবে, গত সপ্তাহে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয় ছাড়া অন্য তিনটি ম্যাচে ক্লপের শিষ্যরা বিশেষ কিছু করতে পারেনি।

জার্মানির হয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লুথার ম্যাথিউস এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভালভাবে দেখলে মনে হচ্ছে, তাদের খেলা এখনও সব দিক থেকে জমে ওঠেনি। তবে এটা পরিস্কার, তরুণরা এই নতুন অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ করছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা আশা অনুযায়ী পয়েন্ট পাইনি। আর এই পয়েন্টে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

বর্তমানে নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে ৫ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সেখানে সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস।

তবে, পয়েন্ট এবং ম্যাচের এই ফলাফল দিয়ে জার্মানির বর্তমান খেলার অবস্থা বোঝানো সম্ভব নয়। ক্লপের ট্রেডমার্ক দ্রুত আক্রমণের লক্ষণ ইতোমধ্যে জার্মানরা দেখাতে শুরু করেছে। এই ধরনের আক্রমণ নির্ভর খেলা বহু বছর ধরে জার্মানির কাছ থেকে ভক্তরা দেখেননি।

গ্রিসের সঙ্গে ড্রয়ের পর ক্লপ বলেন, ‘আমরা যে যায়গা থেকে এখানে এসেছি তা নিয়ে আমি খুশি। খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধে যে মানের খেলা দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। তারা সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, একই সঙ্গে তাদের ক্ষিপ্রতা ও পজেশন ধরে রাখা ছিল দুর্দান্ত।’

৫৯ বছর বয়সী এই কোচ নেশনস লিগের চার ম্যাচের জন্য ৪৪ জনের নাম ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনই এর আগে কখনও জাতীয় দলে খেলেননি। এই তরুণদের খেলা নিয়েও ক্লপ আশাবাদী। তিনি জানান, ‘আমি দল এবং আমাদের খেলার ধরণে খুবই মুগ্ধ। গত দুই সপ্তাহে প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে এবং তাদেরকে দলে নেওয়ার প্রশ্নে যথার্থ প্রমাণ দিয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস

একটি শিশুর প্রথম হাসি, প্রথম বসা, প্রথম হাঁটা—প্রতিটি মুহূর্তই পরিবারের জন্য আনন্দের। তবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই আনন্দের সঙ্গে শুরু হয় দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ। বয়স বাড়লেও অনেক শিশু বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। কারও কথা বলতে সমস্যা হয়, আবার কারও হাত-পায়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কিংবা খিঁচুনির মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

তবে সেরিব্রাল পালসি মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। যথাসময়ে শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, নিয়মিত থেরাপি এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পেলে আক্রান্ত শিশুরাও নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

আজ ৬ অক্টোবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস। এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রচারের মূল বার্তা হলো—সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ৫ কোটি মানুষের কণ্ঠকে একত্র করে পরিবর্তনের দাবি জোরালো করা। দিবসটির লক্ষ্য হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।

বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে।

কেন হয় সেরিব্রাল পালসি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত শিশুর বিকাশমান মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বিকাশ বা মস্তিষ্কে ক্ষতির কারণে ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে জন্মের আগে, জন্মের সময় অথবা জন্মের পরপরই মস্তিষ্কে ক্ষতির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকে।

অপরিণত বা কম ওজন নিয়ে জন্ম, জন্মের সময় অক্সিজেনের ঘাটতি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নবজাতকের কিছু সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মো. বরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসির সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো নড়াচড়া ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। কারও পেশি শক্ত হয়ে থাকে, কারও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া হয়, আবার কারও শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় করতে সমস্যা হয়।

তিনি আরও বলেন, সেরিব্রাল পালসি শুধু চলাফেরার সমস্যা নয়। আক্রান্ত শিশুর কথা বলা, গিলতে পারা, খাওয়া, দেখা, শোনা কিংবা শেখার ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকতে পারে।

দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ সম্পর্কে পরিবারের সচেতনতার অভাবে অনেক সময় সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হতে দেরি হয়। যে শিশু নির্দিষ্ট বয়সে মাথা ধরে রাখতে পারছে না, বসতে পারছে না, হামাগুড়ি বা দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে না, এক পাশের হাত-পা বেশি ব্যবহার করছে কিংবা শরীর অস্বাভাবিক শক্ত বা ঢিলে—এসব লক্ষণকে অনেক সময় পরিবার স্বাভাবিক বিকাশের অংশ বলে মনে করে।

কেউ কেউ আবার ভাবেন, বয়স বাড়লে শিশু ঠিক হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অপেক্ষায় মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও সহায়তা শুরু করা যায়, শিশুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তত বেশি।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।

সেরিব্রাল পালসির জন্য এমন কোনো একক চিকিৎসা নেই, যা সব শিশুকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো শিশুর সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যথা ও জটিলতা কমানো এবং তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে জীবনযাপনে সক্ষম করা।

এ জন্য প্রয়োজন হতে পারে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি, কথা বলা ও ভাষা শেখার থেরাপি, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, সহায়ক যন্ত্র, হুইলচেয়ার, দৃষ্টি ও শ্রবণ পরীক্ষা এবং খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে হাড় ও অস্থিসন্ধির অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি

তবে বাংলাদেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষায়িত পুনর্বাসন ও শিশু স্নায়ুরোগের বড় অংশের সেবা রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরিবারগুলোকে অনেক সময় চিকিৎসা ও থেরাপির জন্য ঢাকায় আসতে হয়।

নিয়মিত থেরাপির খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা, অভিভাবকের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ব্যয়ও পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুরুতে নিয়মিত থেরাপি করালেও কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর অনেক পরিবার তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম মাহমুদুজ্জামান শোয়েব গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার বিষয়। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস থেরাপি করালেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে থেরাপির ধরন ও লক্ষ্যও পরিবর্তিত হতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ না থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, অস্থিসন্ধির নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা, অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি, ব্যথা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তার মতে, শুধু হাসপাতাল বা থেরাপি কেন্দ্র বাড়ালেই হবে না। পরিবারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরেও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা কম, শিশু পুনর্বাসনের সুযোগও সীমিত। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি ও কথা বলার থেরাপির সমন্বিত সেবাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে একই জায়গায় সব ধরনের সেবা পাওয়ার সুযোগ কম।

পরিবারের ওপরও বাড়ে চাপ

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু রক্তিমের মা ইশরাত জাহান (ছদ্মনাম) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত একটি শিশুর যত্নের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে মায়ের ওপরই পড়ে। শিশুর দৈনন্দিন কাজ, খাওয়ানো, গোসল, পোশাক পরানো, থেরাপিতে নিয়ে যাওয়া—সবকিছু সামলাতে গিয়ে অনেক মাকে চাকরি বা আয়মূলক কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। আমার নিজেকেও চাকরি ছাড়তে হয়েছে বাচ্চাকে সামলাতে গিয়ে।’

শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় তাদের নিয়ে করুণা করা হয়, দূরে সরিয়ে রাখা হয় কিংবা তাদের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এমনকি কিছু পরিবারও মনে করে, সন্তানটি কিছুই করতে পারবে না।

এর ফলে শিশুর শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সম্ভাবনা শুরুতেই সীমিত হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সহযোগিতা। সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে শরীরের সীমাবদ্ধতা কোনো শিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%