ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে পুকুর থেকে স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা,


শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে পুকুর থেকে স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা,

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামাল (৩২) নামে এক স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি দোকানের পেছনের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত জামাল ঝিনাইগাতী সদর বাজারের গরুহাটি এলাকার মৃত ফকির আলীর ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন।

হাসান কন্সট্রাকশনের মালিক আবুল কাশেম জানান, জামাল গত চার বছর ধরে তার প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও তিনি কাজে যোগ দেন। দুপুরে জামালকে কর্মস্থলে রেখে তিনি বাসায় চলে যান। সন্ধ্যায় দোকানে ফিরে জামালকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দোকানের পেছনের পুকুরে জিআই তারে জড়ানো অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ওসি এসএম নূর মোহাম্মদ জানান, জামালের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা চিকিৎসকের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি

আরও পড়ুন: নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলহান ওমরের ফোন জব্দ, অভিবাসন নথি নিয়ে চলছে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


ইলহান ওমরের ফোন জব্দ, অভিবাসন নথি নিয়ে চলছে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ তার মুঠোফোন জব্দ করেছে। এছাড়া, তার কয়েকজন আত্মীয়সহ এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরির তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা তদন্ত সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরির জন্য প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসব তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। এনডিটিভি জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

সোমবার, তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তারা। এই ঘটনা ঘটে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন ওমর।

তদন্তের পরিধি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথির সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধ খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রীয় সরকারি কৌঁসুলি জেনিন পিরো বলেন, ওমরকে ঘিরে ‘বেশ কয়েকটি তদন্ত চলছে’। তার দপ্তর ওমরের আর্থিক বিবরণীসংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছে।

পিরো বলেন, ‘যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার বিচার করা হবে।’ তবে ঠিক কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওমরকে নিশানা করছে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওমর এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে নিশানা করে আসছেন। রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর এই প্রচেষ্টায় এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। আমি চুপ করে থাকব না।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুধবার ওমরের এক প্রতিনিধির কাছে ফোনে বার্তা রেখে যাওয়া হয়েছে।

ওমরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে রিপাবলিকানদের আগ্রহ বহু বছরের। তবে এবারের তল্লাশি চালানো হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ঐতিহাসিকভাবে কোনো প্রার্থীর প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। তিনি মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এ এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহরও রয়েছে।

ওমর কংগ্রেসের প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের গোষ্ঠী ‘দ্য স্কোয়াড’-এর সদস্য। কংগ্রেসের বামপন্থী অংশে এই গোষ্ঠীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই গোষ্ঠীটির সদস্যরা বারবার তার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

ওমর প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম দুই মুসলিম-আমেরিকান নারী সদস্যের একজন। তিনি আফ্রিকা থেকে আসা প্রথম শরণার্থী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক্স সামাজিক মাধ্যমে ইরান, রাশিয়া ও চীনের ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


এক্স সামাজিক মাধ্যমে ইরান, রাশিয়া ও চীনের ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ১৩ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। এই নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স।

এক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগ সম্প্রতি একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোন দেশের সঙ্গে কতটি অ্যাকাউন্টের সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি।

এক্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ করা এবং সেগুলোর প্রচার বৃদ্ধি করা হচ্ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেছে এক্স।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় এক্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা দল বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কার্যক্রম চিহ্নিত ও বন্ধে কাজ করছে।

এক্স আরও জানায়, স্প্যাম ছড়ানো নেটওয়ার্ক কিংবা সমন্বিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠী—উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘অথেনটিসিটি পলিসি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্ল্যাটফর্মটির অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন সমন্বিত কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্স। তবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার নতুন আকর্ষণ ‘সাজু মোল্লার ঘাট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে মেঘনার নতুন আকর্ষণ ‘সাজু মোল্লার ঘাট’

একসময় মাছ কেনাবেচার জন্য পরিচিত ছিল ঘাটটি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মেঘনার সেই ঘাট এখন দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নদীর শীতল বাতাস, নৌকার চলাচল, সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য এবং নদীপাড়ের মনোরম পরিবেশে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করছেন। সম্ভাবনাময় এই স্থানের নাম সাজু মোল্লার ঘাট। এটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাট, বিকেল গড়াতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করেন। মেঘনার বুকে মাছ ধরার নৌকার চলাচল, জোয়ার-ভাটার দৃশ্য এবং দিগন্তজোড়া জলরাশি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নদীপাড়ের রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, খাবারের স্টল ও বসার স্থানও ঘাটটির আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে।

ঘাটের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং খোলা পরিবেশ নগরজীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য মানুষের জন্য একটি ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। ছুটির দিনে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।

দর্শনার্থীদের কাছে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই ঘাটটির প্রধান আকর্ষণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া কিংবা নদীর পাড়ে বসে ছবি তোলার জন্য অনেকেই এই স্থানটি বেছে নিচ্ছেন।

রায়পুর থেকে আসা দর্শনার্থী ওসমান গনি বলেন, ‘মেঘনার পাড়ের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। নদীর বাতাস এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে কিছু সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়। আগে বসার জায়গা ছিল না, এখন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ করা হয়েছে, এখন ভালো লাগে।’

অন্য এক দর্শনার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিকেলে নদীর পাড়ে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়। নৌকার চলাচল এবং নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখতে ভালো লাগে। জায়গাটিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাজানো হয়েছে। রায়পুরের বাইরের মানুষও এখানে ঘুরতে আসেন।’

স্থানীয় তরুণ দর্শনার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি ভালো। তবে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীদের জন্য আরও সুবিধা হবে।’

দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান, চায়ের স্টল এবং ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও আসছেন। ফলে ঘাটটি বিনোদনের স্থান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

ঘাটসংলগ্ন এক খাবারের দোকানের মালিক আজিম বলেন, ‘এখানে মানুষ ঘুরতে এলে খাবার এবং চা-নাশতার প্রয়োজন হয়। দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া থাকায় আমাদের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জায়গাটি প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করা হয়েছে। মানুষের আগমন বাড়ছে, এতে ব্যবসাও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী আক্কাস পাটোয়ারী বলেন, ‘ঘাট ঘিরে ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবসার পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতা, নির্দিষ্ট দোকানের ব্যবস্থা এবং যানবাহন চলাচলের সুবিধা দরকার। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।’

ঘাটের ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের জন্য মানসম্মত খাবার, নির্ধারিত মূল্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ভালো সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ঘাটটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হতে পারেন।

পর্যটন সম্ভাবনাময় এই স্থানের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে রায়পুর উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মেঘনার পাড়ে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ নামে একটি স্থানের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ঘাটের পরিবেশ সুন্দর রাখা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

তবে শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, ঘাটটির আকর্ষণ ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দর্শনার্থীদের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য নদীপাড়ের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং দর্শনার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাজু মোল্লার ঘাট লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, মানসম্মত বসার স্থান, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান এবং নদীপাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

মেঘনাকেন্দ্রিক পর্যটন বিকশিত হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খাবারের দোকান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্য সেবাদাতার আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একসময় মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততায় মুখর থাকা সাজু মোল্লার ঘাট এখন নতুন পরিচয়ের পথে। মেঘনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ এবং স্থানীয় মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে স্থানটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গেলে এটি রায়পুরের পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে। সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচর্যা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার দাবি করেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তার আইন পেশার লাইসেন্স থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি, এমনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে, বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি জনজবাবদিহি বিষয়ক অলাভজনক সংগঠন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

সংগঠনটির অভিযোগ হলো, জাকারিয়া নিয়মিতভাবে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজের পেশাগত সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। তবে তার এই পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটির প্রধান মিশেল কুপারস্মিথ এক বিবৃতিতে বলেন, "টেলিভিশনে আইনবিষয়ক ভাষ্যকার হিসেবে এবং এখন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হিসেবে নিজের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে মিস জাকারিয়া বারবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অথচ মনে হচ্ছে, সবটাই ছিল মিথ্যা।"

সংগঠনটি ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীদের লাইসেন্স প্রদান ও পেশাগত কার্যক্রম তদারককারী সংস্থার কাছে অভিযোগটি জমা দিয়েছে। কুপারস্মিথ বলেন, "ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে আইনজীবী বলা নিছক বাড়িয়ে বলা নয়; এটি অপরাধ।" তিনি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাকারিয়া ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সে নিয়মিত আইনবিষয়ক ভাষ্য প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার থেকে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের দিন সংবাদ ব্রিফিংয়ে তাকে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখা যায়। কথা বলার সময় তিনি কয়েকবার থেমে যান এবং কখনো কখনো একই কথা পুনরায় বলতে হয়। ব্রিফিংটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়। এ সময়ের বেশির ভাগ অংশে তিনি ট্রাম্পকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।

জাকারিয়া বলেন, "আমি অনেক দিন ধরেই তার (ট্রাম্পের) জন্য কাজ করতে চেয়েছি।"

পরে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কোথায় আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দিয়েছেন। জবাবে জাকারিয়া বলেন, "আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম।"

তার এই বক্তব্য বেইজিংয়ে একটি আইন প্রতিষ্ঠানে তিন বছর কাজ করার দাবির প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পপন্থি নারীদের সংগঠন ট্রাম্পেটস ইউএসএ ইনকরপোরেটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জাকারিয়ার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার বহিরাগত আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

অন্যদিকে, জাকারিয়ার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০১১ সালে পেপারডাইন কারুসো স্কুল অব ল থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। একই প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ের ঝং লুন আইন প্রতিষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ভোটাধিকারবিষয়ক সংগঠন ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান আইন কর্মকর্তা ছিলেন। সংগঠনটি ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠা করেন।

জাকারিয়ার ইনস্টাগ্রাম পরিচিতিতেও নিজেকে ‘স্ত্রী, মা ও আইনজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চীনে আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দেওয়ার দাবি নিয়ে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। চীনে এ পরীক্ষার সমতুল্য হিসেবে পরিচিত জাতীয় সমন্বিত আইন পেশাগত যোগ্যতা পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ কেবল চীনা নাগরিকদের রয়েছে।

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে চীন বিদেশিদেরও আইন পেশায় কাজের অনুমতি দিয়েছে। তবে এ জন্য নিজ দেশে কয়েক বছর কাজের অভিজ্ঞতা সহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাকারিয়ার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই তাকে আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিসেবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকারিয়া বলেন, "আমি আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন চর্চা করি এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ও সনদ আমার রয়েছে।"

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর জাকারিয়া কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। জুন থেকে তিনি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের মালিক।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%