ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কুলিয়ারচরে আগাম নির্বাচনী হাওয়া, আলোচনায় অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান


কুলিয়ারচরে আগাম নির্বাচনী হাওয়া, আলোচনায় অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান

তফসিল ঘোষণা না হলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগাম সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ এবং পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জোর চর্চা। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানের নাম।

অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, যিনি উপজেলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আছেন, ইতোমধ্যে জনসেবায় তার মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছেন। তিনি পূর্বে ১নং গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়াও, তিনি স্থানীয় লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রেখেছেন।

অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানের সম্ভাব্য প্রার্থিতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উপজেলার সাধারণ মানুষ এবং তার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমর্থকরা ইতোমধ্যে তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন এবং বিভিন্ন স্তরে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সৌমিকের, দুই বাড়িতে শোকের মাতম

স্থানীয়দের মতে, কুলিয়ারচরকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে অভিজ্ঞ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতার বিকল্প নেই।

মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তারা।

কুলিয়ারচরের সার্বিক উন্নয়ন ও ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে তার কর্মী-সমর্থকরা সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়া, ভালোবাসা এবং সার্বিক সমর্থন কামনা করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুলিয়ারচরের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করে যেতে চান প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পথসভা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীর চরাঞ্চলে গুলি করে যুবক হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ এম


নরসিংদীর চরাঞ্চলে গুলি করে যুবক হত্যা

নরসিংদীর দূর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক যুবক সুমন মিয়াকে (২৩)। বৃহস্পতিবার রাতে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডের পর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার পুত্র। সুমন আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা ছিলেন।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহত সুমন মিয়া এবং তার বোন সোনিয়া বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুমনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে হিচঁরে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাখননগর বাজারের একটি চা স্টলের সামনে নিয়ে এসে এলোপাথারী গুলি করে ফেলে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় সুমনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাইয়ের মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের বোন সোনিয়া। তিনি বলেন, "আমার ভাই কয়েকদিন পর বিদেশে চলে যাবে। তার স্ত্রী গর্ভবতী, সে কোন দল করে না। তার কোন শত্রুতা নেই। কিন্তু হাবি, মিটুল, মাইনুদ্দিন, কালা আমার ভাইকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার ভাইয়ের সন্তানদের কি হবে? আমি আমার ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।"

আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন সরকার বলেন, "মূলত আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিছু বিএনপি নেতাদের ইন্দনে আওয়ামীলীগের লোকজন আমাদের বাখননগরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর আগেও বিএনপির ৩ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। তারা পাশ্ববর্তী চরাঞ্চল থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এই সব অপকর্ম চালায়।"

তিনি আরও বলেন, "বাখননগর থেকে লোকজন বিএনপির সব সভায় যায়। এই অপরাধে তারা আজকে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।"

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন জানিয়েছেন, স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরেও খোঁজ নেই চরফ্যাশনের ১২ শহীদ পরিবারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ এম


গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরেও খোঁজ নেই চরফ্যাশনের ১২ শহীদ পরিবারের

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দিনটি গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শহীদ হন চরফ্যাশন উপজেলার ১২ যুবক। এঁরা সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এঁরা ছিলেন কলেজ-মাদ্রাসাছাত্র, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং হোটেল কর্মচারী। জীবনের অভাব দূর করার আশায় রাজধানীতে পানিপ্রবাহ করে জীবনের চাওয়া নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু একে একে প্রাণ হারান ১২ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘরে ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই আন্দোলনে এতো প্রাণ অন্য কোনো উপজেলাবাসীর মধ্যে যেন ঘটেনি।

চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও, সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন- ফুটপাতের দোকানি মো. সিয়াম (১৫), বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রাকিব মোল্লা (২৫), কোম্পানির বিপণনকর্মী মো. সোহাগ (১৭), রাজমিস্ত্রি মো. বাহাদুর হোসেন মনির (১৮), গার্মেন্টস কর্মী মো. ফজলু (২৮), রাজমিস্ত্রি মো. ফজলে রাব্বি (২০), ইন্টারনেট কর্মী মো. হাসনাইন (২৫), কলেজ শিক্ষার্থী মো. মমিন (১৯), ট্রাক চালক মো. হোসেন (২৫), দোকান কর্মচারী মো. হাবিবুর রহমান (২৯), মুদি দোকানের কর্মচারী মো. ওমর ফারুক (১৬) এবং দর্জি মো. তারেক (১৮) রয়েছে।

স্বজনদের বিলাপ এখনও গগনে ভাসছে। ৫ আগস্ট তাদের জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। ঘটনা ঘটার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবার এই শোক ভুলতে পারে নি। সেদিনে কেউ বাবা হারিয়েছেন, কেউ ভাই, আবার কেউবা সন্তানকেও। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার আজ কঠিন সংকটে পড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। জীবিকার সন্ধানে শহরে যাওয়া এই মানুষগুলো ফিরতে পারেননি। তারা রয়ে গেছে শুধুমাত্র স্মৃতিতে। ঘাতকদের গুলির আঘাতে নির্মমভাবে শহীদের দাফন সম্পন্ন হয় নিজ নিজ পরিবারের কবরস্থানে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার প্রধান আসামি দেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবুও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কেমন আছেন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা? চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের আটকপাট গ্রামের শহীদ ফজলুর রাব্বির স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, "স্বামী বলছিলো আর ঢাকায় থাকব না, বাড়ি গিয়ে একটু জমি কিনে নতুন ঘর করব। মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবো। আমার ছোট মেয়ে এখন কোন দিকে যাবে? কাকে বাবা বলে ডাকবে।" ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গার্মেন্টস কর্মী ফজলুর রহমানের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে ৭ মাস বয়সী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন দুর্ভোগে রয়েছেন।

উপজেলার দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নের মো. হোসেনের (২৫) মা রিনা বেগম জানান যে, ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৩টার সময় রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁদ উদ্যানের গেটে শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. হোসেন।

রিনা বেগম বলেন, "আমার স্বামীর মৃত্যু পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকাতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে ইট বেঁচে টাকা উপার্জন করে সংসার চালিয়েছি। ছেলে ট্রাক চালাতো। তার দুই সন্তান আছে। সম্পর্কের সঙ্কট চলছে; আমি কীভাবে বাচাঁবো? দুই নাতনি এবং পুত্রবধূকে নিয়ে কোথা থেকে কিভাবে বাঁচবো?"

উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের তারেক গত ৫ই আগস্ট সকাল ১১টায় নাস্তা করে টেইলরস এ যাওয়ার সময় বেলা ১২টা ৩৭ মিনিটের পরে সহকর্মীরা তার ফোন বন্ধ পান। তারেককে না পেয়ে সন্দেহে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে সমস্ত বেওয়ারিশ লাশের ছবি তুলে স্বজনদের কাছে পাঠান। ছবিটি দেখে তারেকের মরদেহ শনাক্ত করেন তার বাবা মো. রিয়াজ। তিনি বলেন, "আমি এক ছেলে পেয়ে আল্লাহর কাছে বেশ খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার বুক থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। আজ দুই বছর হয়ে গেল, বাবার মুখটা দেখি না। মনে হয়ঢাকা থেকে বাড়িতে কাছে আসবে; আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।"

চরফ্যাশনের নুরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর তোফাজ্জল গ্রামের শহীদ ওমর ফারুকের মা ইয়ানুর বেগমের কান্না এখনও থেমে যায়নি। সন্তানহারা এই মা এখন শোকে কাতর। তিনি ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কেঁদে চলেছেন। তাঁর সন্তান তিনজনের মধ্যে শহীদ ওমর ফারুক দ্বিতীয়। অভাবের কারণে প্রায় ৫ বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমানোর ঘটনা ঘটে। ওমর ফারুক একটি দোকানে কর্মচারী ছিলেন। তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আটকে অবস্থান করত। সবাই মিলে কাজ করায় তাদের সংসার ভালো চলছিল। আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে ১৬ বছরের কিশোর ওমর ফারুক। ৪ আগস্ট ওমর ফারুক মোহাম্মদপুরের ওভারব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে সন্তানহারা মা ইয়ানুর বেগম আজও সন্তানের কথা ভুলতে পারেন না।

চরফ্যাসন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম মাঝির ছেলে ছিল পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। মাত্র চার মাস আগে ২০ বছর বয়সে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। দুই মাস পর নতুন সংসার ছাড়তে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন। নববধূকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন শাড়ি নিয়ে আসার। কিন্তু ফেরা হলো না তার। ঘাতকের বুলেট সেই জীবনের সুযোগ কেড়ে নিল। গুলিবিদ্ধ মো. রাব্বির মা জয়তুন বেগম। বাড়িতে গিয়ে শহীদ রাব্বির খোঁজ নিতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এইভাবে চরফ্যাশনের শহীদ পরিবারগুলোতে চলছে কান্না ও আহাজারি। কেউ স্বামী হারিয়ে, কেউ সন্তান হারিয়ে। এই কান্না যেন থামার নয়।

শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ সিয়ামের ভাই বলেন, শহীদরা তাঁদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে যে বৈষম্যহীন কাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিল, তা হয়নি। সেই বৈষম্য রয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা হলো- বিচার চাই। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন ভোলার সন্তানরা। এর মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলার ১২ জন। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর ক্ষতি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের টাকার ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে তুরাগে যুবক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ এম


মাদকের টাকার ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে তুরাগে যুবক নিহত

রাজধানীর তুরাগে মাদক বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ঘটিত দ্বন্ধে সজিব হাসান (২৭) নামের একটি যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে আনুমানিক সাড়ে নয়টা নাগাদ তুরাগ থানাধীন নলভোগ কফিল মেম্বারের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র খবর দিচ্ছে, মাদক বিক্রির টাকার অল্পতার কারণে স্থানীয় রুবেল নামের অপর একটি যুবকের হাতে সজিবের মৃত্যু ঘটে। সজিব ও অভিযুক্ত রুবেল দুজনেই মাদকদ্রব্য বিক্রিতে একত্রিতভাবে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা যুগান্তরকে জানায় যে, রাতে মাদক বিক্রির টাকার অল্পতা নিয়ে রুবেল সজিবকে মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্র দ্বারা গুরুতর আঘাত করে। পরে বেশ কয়েকজন মিলে সজিবকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত মারধরের কারণে সজিবের মৃত্যু হয়।

রাতে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত সাড়ে দশটার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত রুবেলের বিরুদ্ধে আমাদের থানায় পূর্বেরও মামলা রয়েছে। এ ঘটনার পর আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বর ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত, কুড়িগ্রামে জনমনে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ এম


শাপলা চত্বর ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত, কুড়িগ্রামে জনমনে ক্ষোভ

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর ভাঙার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ মিনার চত্বর সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার। এটি কুড়িগ্রামকে চেনার ক্ষেত্রে একটি আইকনিক স্থাপনা। এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য সকলকে বিমোহিত করে। কিন্তু উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে জেলা শহরের ঐতিহ্যকে।

কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজের শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভাঙা নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর এবং কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রশাসনের মতে, মোড়টি সরু হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পায়। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জনগণের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে ওই মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ করছে।

কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত এবং অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

কাজ শুরুর সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া এবং সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অটোরিকশাচালক মাইদুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে পৌঁছালে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। মোড়টি বড় হলে সময় বাঁচবে। তবে যদি শহীদ মিনারের ক্ষতি না করে কাজটি করা যায় তাহলে সেটি ভালো হবে।

এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমির অধিগ্রহণ এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করার সম্ভাবনা ছিল।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি সামিউল হক নান্টু জানান, এ ঘটনা দুঃখজনক। তিনি কুড়িগ্রামের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানান। রাস্তা সম্প্রসারণের অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ এ শহীদ মিনার স্থাপনের পেছনে রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিত নয়।

রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করতে হবে অথবা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করতে হবে। তাঁর মতে, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%