সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৮ পি.এম
জার্সি বিক্রির পরিসংখ্যান তারকাদের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের জার্সির জন্য যে তীব্র চাহিদা রয়েছে, সেটি এই বাস্তবতার প্রমাণ।
বাংলাদেশেও কি তেমন একটি উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে জাতীয় দলের জার্সির বিক্রির পরিসংখ্যানে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজা চৌধুরী যখন বাংলাদেশে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন, তখন দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে।
হামজার আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আকর্ষণও বেড়েছে। ফুটবলারদের মধ্যে হামজা চৌধুরীর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত দেড় বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কিট স্পন্সর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয় দৌড়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে সাড়া ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে।
দৌড়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি ছিল খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর সংবলিত জার্সি। সেই তালিকায় হামজা চৌধুরী সবার উপরে স্থান পেয়েছেন।
হামজার নাম-নম্বর সংবলিত ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সি হাজার হাজার সমর্থক কিনেছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমের জার্সি।
হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবিদ আলম চৌধুরী একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “গত দেড় বছরে হামজার জার্সির চাহিদা বেশি ছিল। আমরা ৫ হাজারের মতো হামজার জার্সি বিক্রি করেছি। আসলে হামজা আসার পর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে হাওয়া লেগেছে।”
হামজার জার্সির এই চাহিদার মধ্যে নতুন করে জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও ভালো। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি অর্ডার পড়েছে।
অর্থাৎ হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নয়, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে সেই আগ্রহ আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা আবিদ আলমের। তিনি বলেন, “সামনে দেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আশা করছি তার আগেই উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে এক বছরে আমরা এক লাখ জার্সি বিক্রি করতে চাই।”
জাতীয় দলের নতুন জার্সি তৈরির পেছনে সমর্থকদের অংশগ্রহণও রয়েছে। আবিদ আলম জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পেয়েছিলেন। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে নতুন জার্সি তৈরি করা হয়েছে।
হোম জার্সির মূল থিমে মাতৃভাষা বাংলা রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মাত্র ৮ মিনিটে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।
খেলোয়াড়দের পরার জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের জন্য তৈরি জার্সির মূল্য ৭০০ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মিঠাপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মুখোশপরা ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী (৬৩) আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদা খাতুনের স্বামী। তিনি আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক প্রধান অফিস সহকারী। এ ঘটনায় তিনি আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে খাবার শেষে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন বাড়ির পূর্ব পাশের এসএস গ্রিল কেটে গেস্ট রুমের দুটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তাঁদের কক্ষের ছিটকিনি ভেঙে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ডাকাতরা মোহাম্মদ আলীর হাতে ও কাঁধে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আলমারি, ওয়ারড্রপ ও ফাইল ক্যাবিন খুলে দুটি গলার হার, আট জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, আটটি আংটি ও দুটি চেইনসহ মোট ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অভিযোগে লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য ২২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলী অভিযোগে জানান, ডাকাতদের সবার মুখ ও কপাল গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের হাতে চাপাতি, ছুরি, রামদা ও লোহার রড ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছর। তারা নিজেদের মধ্যে ফরিদপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডাকাতরা স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে রেখে চলে যায়। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয় হারেজ ও হেমায়েত শেখও ডাকাতির খবর পেয়ে বাড়ির দিকে আসার পথে অস্ত্রধারী ৫-৬ জনকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কাছে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, রাতে হঠাৎ অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আইনজীবী রাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির গ্রিল ও দরজা ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
[২:০৩ PM, ১৪/৯/২০২৬] তালাশ বিডি মিডিয়া লি::
ত্রিশালে আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে একাধিক পরিবার নিঃস্ব,
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১১নং মোক্ষপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির ওয়াইজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন(৪০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার কয়েক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তোভোগীরা হলেন উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাঈম মিয়া, মোঃ তাইজুল ইসলামের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম(২৬)সহ এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন।
এদের প্রত্যেকের কাছে থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা মাইন উদ্দিন আৎসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ওই পরিবারের ২ ভুক্তভোগী ত্রিশাল থানায় অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মোঃ মাইন উদ্দিন(৪০), আবুল কালাম ওরফে কালু (৩২) ও সেলিম মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে তাদের
বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নিশ্চিত করতে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাজী রীমা আক্তার, সহকারী পরিচালক স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রাম।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য এর সুফল এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা। তিনি জানান, চলতি বছরের (২০২৬ সাল) গত ছয় মাসে গ্রাম আদালতগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীরা মোট ১ হাজার ৯০টি আবেদন জমা দেন এবং ১ হাজার ১৩৮ জন আবেদনকারীর বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আদালতের বিচারপ্রার্থীরা মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অনেকেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। ফলে ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়বে এবং আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। সভায় ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের প্রতিনিধিদের জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ ও মাদরাসা সমুহে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহবান জানানো হয়।
সভায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় জেলা ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করা এবং গ্রাম আদালতের বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি, উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর। সংসারে সংকট দেখা দেওয়ার পর, অনুজা সাহা নিজেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন। তিনি বহু নারী-পুরুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। পাবনার নারী উদ্যোক্তা অনুজা সাহার এই উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।
গোপালপুর মহল্লার অমূল্য কুমার সাহা ও অঞ্জনা সাহার একমাত্র সন্তান অনুজা সাহা। তার বাবার স্বপ্ন ছিল, একমাত্র মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যে তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও সফলতা মেলেনি। ২০০৭ সালে তার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর ব্যবসার অবনতি হলে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও যখন সফলতা মেলেনি, তখন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নারী উদ্যোক্তাদের সফলতার গল্প তাকে অনুপ্রাণিত করে। চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন অনুজা।
প্রথমদিকে ব্যবসা করার বিষয়ে তার মা অঞ্জনা সাহা খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরে, শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
অঞ্জনা সাহা রান্নায় খুব দক্ষ ছিলেন। তার রান্নার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে, স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঘরে তৈরি খাবারের হোম ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করেন অনুজা সাহা।
প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘অর্ণব অ্যান্ড কোং’। শুরুতে পিঠা, কেক, মিষ্টি, বেকারি পণ্য, ভাত, বিরিয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া খাবার সরবরাহ করা হতো। ধীরে ধীরে অর্ডার বাড়তে থাকে। পাবনা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকেও বড় অর্ডার আসতে শুরু করে।
ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, অনুজা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেন। বিসিক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। মায়ের কাছ থেকে সেলাই ও কাটিংয়ের কাজও শেখেন। পরে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শুরু করেন বুটিক হাউসের ব্যবসা।
অনুজার সাংস্কৃতিক চর্চার হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। মাত্র তিন বছর বয়সে নৃত্যচর্চা শুরু করেন। পরে সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত হন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন পুরস্কার ও সনদ। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের সাংস্কৃতিক চর্চাকেও ধরে রেখেছেন অনুজা। গড়ে তুলেছেন ‘মন ময়ূরী’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
সেখানে শিশুদের আর্ট, নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও সুন্দর হাতের লেখা শেখান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার মধ্যেও তিনি নিজের আনন্দ খুঁজে পান।
অনুজা সাহার উদ্যোক্তা জীবনের আরেকটি উদ্যোগ ‘মায়ের পরশ’ রেস্টুরেন্ট। পাবনা শহরের জেলা পাড়ায় ডিসি অফিস সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ও আধুনিক খাবারও পরিবেশন করা হয় সেখানে।
অনুজার রেস্টুরেন্টে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল মানুষের জন্যও বিভিন্ন ধরনের খাবারের আয়োজন রয়েছে। খাবারের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি সাধ্যের মধ্যে ভালো খাবার পরিবেশনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে অনুজা সাহার প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ মিলে ১০ জন কাজ করছেন। কিছু নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের পথও তিনি করেছেন অন্য প্রতিষ্ঠানে।
তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী ফয়সাল বলেন, ‘আমার এখানে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। অনুজা দিদি নিষ্ঠাবান পরিশ্রমী মানুষ। তার কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে কিভাবে ছোট থেকে বড় বড় হওয়া যায়।’
অনুজা সাহা মনে করেন, পরিবার ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে এখনো অনেক নারী নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পান না। সুযোগ পেলে নারীরা নিজের পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারেন, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি চলমান উদ্যোক্তারাও তাদের ব্যবসা আরো সম্প্রসারণ করতে পারবেন। তার নিজের স্বপ্নও অনেক নারীকে কর্মের সঙ্গে যুক্ত করা।
অনুজা সাহা বলেন, ‘আমি শুধু নিজের জন্য এগিয়ে যেতে চাই না। আমার সঙ্গে যত বেশি মানুষকে কাজে যুক্ত করতে পারব, বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারব, ততই আমি আনন্দিত হব।’
সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজের কর্মজীবনের পথ তৈরি করা অনুজা সাহা এ্যানির গল্প তাই শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন শিক্ষিত নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা, পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির একটি বাস্তব উদাহরণ।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনার সব নারী উদ্যোগতার পাশে পাবনা জেলা প্রশাসন আছে। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা করব। পাবনার একজন সফল নারী উদ্যোক্তা অনুজা সাহা এ্যানির পাশেও আমরা আছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ আর কখনো রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ এবং পচে-গলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই দলের নেতাদের দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশের জনগণ তাদের চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি শেখ হাসিনা মারা গেলেও, তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কোনো সদস্য আর অবশিষ্ট নেই।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাশেদ খান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এখন একটি জাতীয় সমস্যা, যার সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু জামায়াত সংকট সমাধানে সহায়তার হাত না বাড়িয়ে ‘লং মার্চের’ নামে ‘লং ড্রাইভ’ শুরু করেছে। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াত যেভাবে আওয়ামী লীগকে পাশে টেনে নিয়েছিল, ঠিক একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে তারা অপশক্তিকে আবারও মাঠে নামার সাহস জোগাচ্ছে।
রাশেদ খান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ নিজেকে বিরাট শক্তির অধিকারী বা ‘হ্যাডমওয়ালা’ দাবি করে বলেছেন, তার শক্তির খবর নাকি শেখ হাসিনাও জানতেন। জামায়াত নেতারা দেশের সেনাবাহিনী কিংবা কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে মানতে চান না, কারণ তাদের চালিকাশক্তি হলো একটি ‘গুপ্ত বট বাহিনী’। এই সাইবার বাহিনীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের চরিত্রহননের নিকৃষ্ট খেলায় মেতে উঠেছেন।
মাঠ পর্যায়ে সারসংকট ও কৃষকদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে বাস্তবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের আমলে নিয়োগ পাওয়া অসাধু ডিলাররা কৃত্রিমভাবে গুদামে সার মজুদ করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সার সরবরাহের পুরো কাঠামোটি নতুন করে পুনর্গঠন করবে। একই সঙ্গে তিনি এই সংকট চলাকালে মাঠের কৃষকদের কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।
এর আগে সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ