সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৮ পি.এম
মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি, উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর। সংসারে সংকট দেখা দেওয়ার পর, অনুজা সাহা নিজেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন। তিনি বহু নারী-পুরুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। পাবনার নারী উদ্যোক্তা অনুজা সাহার এই উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।
গোপালপুর মহল্লার অমূল্য কুমার সাহা ও অঞ্জনা সাহার একমাত্র সন্তান অনুজা সাহা। তার বাবার স্বপ্ন ছিল, একমাত্র মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যে তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও সফলতা মেলেনি। ২০০৭ সালে তার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর ব্যবসার অবনতি হলে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও যখন সফলতা মেলেনি, তখন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নারী উদ্যোক্তাদের সফলতার গল্প তাকে অনুপ্রাণিত করে। চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন অনুজা।
প্রথমদিকে ব্যবসা করার বিষয়ে তার মা অঞ্জনা সাহা খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরে, শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
অঞ্জনা সাহা রান্নায় খুব দক্ষ ছিলেন। তার রান্নার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে, স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঘরে তৈরি খাবারের হোম ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করেন অনুজা সাহা।
প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘অর্ণব অ্যান্ড কোং’। শুরুতে পিঠা, কেক, মিষ্টি, বেকারি পণ্য, ভাত, বিরিয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া খাবার সরবরাহ করা হতো। ধীরে ধীরে অর্ডার বাড়তে থাকে। পাবনা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকেও বড় অর্ডার আসতে শুরু করে।
ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, অনুজা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেন। বিসিক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। মায়ের কাছ থেকে সেলাই ও কাটিংয়ের কাজও শেখেন। পরে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শুরু করেন বুটিক হাউসের ব্যবসা।
অনুজার সাংস্কৃতিক চর্চার হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। মাত্র তিন বছর বয়সে নৃত্যচর্চা শুরু করেন। পরে সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত হন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন পুরস্কার ও সনদ। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের সাংস্কৃতিক চর্চাকেও ধরে রেখেছেন অনুজা। গড়ে তুলেছেন ‘মন ময়ূরী’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
সেখানে শিশুদের আর্ট, নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও সুন্দর হাতের লেখা শেখান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার মধ্যেও তিনি নিজের আনন্দ খুঁজে পান।
অনুজা সাহার উদ্যোক্তা জীবনের আরেকটি উদ্যোগ ‘মায়ের পরশ’ রেস্টুরেন্ট। পাবনা শহরের জেলা পাড়ায় ডিসি অফিস সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ও আধুনিক খাবারও পরিবেশন করা হয় সেখানে।
অনুজার রেস্টুরেন্টে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল মানুষের জন্যও বিভিন্ন ধরনের খাবারের আয়োজন রয়েছে। খাবারের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি সাধ্যের মধ্যে ভালো খাবার পরিবেশনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে অনুজা সাহার প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ মিলে ১০ জন কাজ করছেন। কিছু নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের পথও তিনি করেছেন অন্য প্রতিষ্ঠানে।
তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী ফয়সাল বলেন, ‘আমার এখানে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। অনুজা দিদি নিষ্ঠাবান পরিশ্রমী মানুষ। তার কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে কিভাবে ছোট থেকে বড় বড় হওয়া যায়।’
অনুজা সাহা মনে করেন, পরিবার ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে এখনো অনেক নারী নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পান না। সুযোগ পেলে নারীরা নিজের পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারেন, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি চলমান উদ্যোক্তারাও তাদের ব্যবসা আরো সম্প্রসারণ করতে পারবেন। তার নিজের স্বপ্নও অনেক নারীকে কর্মের সঙ্গে যুক্ত করা।
অনুজা সাহা বলেন, ‘আমি শুধু নিজের জন্য এগিয়ে যেতে চাই না। আমার সঙ্গে যত বেশি মানুষকে কাজে যুক্ত করতে পারব, বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারব, ততই আমি আনন্দিত হব।’
সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজের কর্মজীবনের পথ তৈরি করা অনুজা সাহা এ্যানির গল্প তাই শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন শিক্ষিত নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা, পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির একটি বাস্তব উদাহরণ।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনার সব নারী উদ্যোগতার পাশে পাবনা জেলা প্রশাসন আছে। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা করব। পাবনার একজন সফল নারী উদ্যোক্তা অনুজা সাহা এ্যানির পাশেও আমরা আছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ আর কখনো রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ এবং পচে-গলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই দলের নেতাদের দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশের জনগণ তাদের চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি শেখ হাসিনা মারা গেলেও, তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কোনো সদস্য আর অবশিষ্ট নেই।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাশেদ খান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এখন একটি জাতীয় সমস্যা, যার সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু জামায়াত সংকট সমাধানে সহায়তার হাত না বাড়িয়ে ‘লং মার্চের’ নামে ‘লং ড্রাইভ’ শুরু করেছে। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াত যেভাবে আওয়ামী লীগকে পাশে টেনে নিয়েছিল, ঠিক একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে তারা অপশক্তিকে আবারও মাঠে নামার সাহস জোগাচ্ছে।
রাশেদ খান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাসুদ নিজেকে বিরাট শক্তির অধিকারী বা ‘হ্যাডমওয়ালা’ দাবি করে বলেছেন, তার শক্তির খবর নাকি শেখ হাসিনাও জানতেন। জামায়াত নেতারা দেশের সেনাবাহিনী কিংবা কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে মানতে চান না, কারণ তাদের চালিকাশক্তি হলো একটি ‘গুপ্ত বট বাহিনী’। এই সাইবার বাহিনীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের চরিত্রহননের নিকৃষ্ট খেলায় মেতে উঠেছেন।
মাঠ পর্যায়ে সারসংকট ও কৃষকদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে বাস্তবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের আমলে নিয়োগ পাওয়া অসাধু ডিলাররা কৃত্রিমভাবে গুদামে সার মজুদ করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সার সরবরাহের পুরো কাঠামোটি নতুন করে পুনর্গঠন করবে। একই সঙ্গে তিনি এই সংকট চলাকালে মাঠের কৃষকদের কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।
এর আগে সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপতি বিজয় এবং তৃষা কৃষ্ণানের প্রেমের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি দুজনেই। কিন্তু একাধিক স্থানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার কারণে সেই গুঞ্জন যেন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সিলভারস্টোন রেসিং সার্কিটে বিজয় ও তৃষাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগে নরওয়েতে এই জনপ্রিয় জুটির দেখা মিলেছিল। সিলভারস্টোনে তাঁদের পাশাপাশি উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিলভারস্টোন রেসিং সার্কিটে ৪৪টি গাড়ির একটি মেগারেসের উদ্বোধন করেন থালাপতি বিজয়। তিনি সবুজ পতাকা নেড়ে রেস শুরুর ঘোষণা দেন। গ্যালারিতে বিজয়ের পাশে ছিলেন তৃষা, যিনি জিনস, টি-শার্ট এবং মেরুন জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। রেসিং ট্র্যাকের উত্তেজনার মধ্যে বিজয়কে রেসার অজিত কুমারকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। দুই তারকার বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি ভক্তদের নজর কাড়ে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রাধিকা শরৎকুমারও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রাজনীতির ময়দানে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে থালাপতি বিজয় সম্প্রতি দীর্ঘ তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ‘আলবিদা’ জানিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তৃষার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা দাবি সামনে এসেছে। তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার অভিযোগ, স্বামী বিজয় দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত। তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে যাঁর নাম শোনা যায়, তিনিই তৃষা কৃষ্ণান। তবে এসব দাবি নিয়ে বিজয় বা তৃষার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি বিজয় ও তৃষা। তাঁরা একসঙ্গে ‘ঘিলি’, ‘থিরুপতি’, ‘আথি’, ‘কুরুভি’, ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ (গোট) ও ‘লিও’-সহ একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন। পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
বিনোদন দুনিয়ায় শোনা যাচ্ছে, ২০২১ সাল থেকেই বিজয় ও তৃষার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এর সত্যতা নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার কারণে সেই জল্পনায় নতুন করে হাওয়া লাগছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ীতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। খালটি পরিষ্কার করার ফলে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়ে কাদার বিল এলাকার প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ীর কপোতাক্ষ নদের পার্শ্ববর্তী ২ নম্বর সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাদার বিল এলাকায় চলতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে খালের সরু মুখ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এর সঙ্গে খালে কলমি শাক, কচুরিপানা, শ্যাওলা, ঘাস ও বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে ২ নম্বর সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও স্থানীয় দলনেতা মো. ইয়াছিন আলীর উদ্যোগে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে খালে নেমে জলজ আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ৫০০ ফুট খাল পরিষ্কারের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করা হয়। জনকল্যাণমূলক এ কার্যক্রমে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশ নেন।
খাল পরিষ্কারের পর পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হওয়ায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ বিঘা ফসলি জমি সম্ভাব্য জলাবদ্ধতার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। এতে আমন ধান চাষে কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও অনেকাংশে দূর হয়েছে। কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কৃষিবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন ২ নম্বর সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর ইসলাম।
বাহিনীর ডিজিটাল মোতায়েন কার্যক্রম এসটিডিএমএস-এর আওতায় এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবার ডাটাবেইজ রেকর্ড অন্তর্ভূক্তি বাহিনীর কার্যক্রমে দেশসেবার মানসিকতা আগামীতে গণপ্রতিরক্ষায় নবদিগন্ত উন্মোচিত করবে।
স্থানীয় জনদুর্ভোগ লাঘব, কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনকল্যাণে স্বেচ্ছাশ্রমের এমন উদ্যোগের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়ত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিকের বাসভবনে অভিযান চালানোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শিশু পর্নোগ্রাফি সামগ্রী উদ্ধার করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ গোপনে ওই কূটনীতিককে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই কূটনীতিকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলমান একটি আলাদা তদন্তের সূত্র ধরে মার্কিন তদন্তকারীরা শিশু পর্নোগ্রাফির সন্ধান পান। এর ভিত্তিতে গত আগস্টের শেষের দিকে মার্কিন মেরিন সেনারা লন্ডনে ওই কূটনীতিকের বাসভবনে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। ২৪ আগস্ট, একটি মার্কিন সামরিক বিমানে করে তাকে ব্রিটেনে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে, এই অভিযানের বিষয়ে ব্রিটিশ পুলিশ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। কূটনীতিককে নিয়ে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর বিষয়টি যুক্তরাজ্যকে অবহিত করা হয়। মার্কিন সামরিক অভিযানের আইনি বৈধতা নিয়ে ব্রিটেনের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বেন ওবেস-জেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, "ব্রিটিশ এখতিয়ারকে এড়িয়ে এভাবে মেরিন সেনা পাঠিয়ে কূটনীতিক আটক ও সামরিক বিমানে করে নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।"
ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, বিদেশি কূটনীতিকদের স্থানীয় আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, লন্ডনের মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং তাদের কর্মীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করা হয়। মার্কিন কূটনৈতিক সূত্র অবশ্য দাবি করেছে, আইনি জটিলতায় যেন বিলম্ব না হয়, তাই দ্রুত ওই কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ