ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী


দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সরকারের কাছে বাংলাদেশের, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন এবং স্বাস্থ্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার জন্য একটিও স্থান থাকতে পারে না। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর একটি ঘটনা ঘটার প্রমাণ পাওয়ার পর, এটি মানবিক ভুল এবং চরম অবহেলার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে এবং ঘটনার জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা উপস্থাপন করেন। বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ঘটানো মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ছয় নবজাতকের পরিবারগুলোর প্রতি। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব শুধুমাত্র সমবেদনা জানাতে শেষ হয় না; মানুষের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াটাও সরকারের কর্তব্য।

মন্ত্রী যোগ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য এবং মূল্যবোধের দিকে নজর দিতে হবে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় নবজাতকদের রাখা কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ ছিল, অথচ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কক্ষটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, জানালা না থাকায় সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবাহের ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণেই শিশুরা কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে শ্বাসরোধজনিত অবস্থায় মারা গেছে।

আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৬-১৭ জন মা আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের জন্য ছুটাছুটি করেছিলেন, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের দ্রুত সেখানে উপস্থিতি দেখা যায়নি। পরে তিনি নিজেই সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তারা স্বীকার করেন যে, অক্সিজেনের অভাব এবং অবহেলার কারণে শিশুদের মৃত্যু ঘটেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কি বসে থাকব? আমরা এর পরে দেশের সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।' তিনি উল্লেখ করেন, অনেকে অতীতের হাসপাতাল দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু তিনি বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল কিংবা বার্ন ইউনিটের দুর্ঘটনা বিদ্যুৎ শিখার অগ্নিকাণ্ডজনিত, অন্যদিকে আদ্-দ্বীনের ঘটনা সম্পূর্ণ মানবিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফলস্বরূপ।

মন্ত্রী আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, হাসপাতাল ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ ছিল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অগ্নি-নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি ছিল। এভাবে আগুন লাগলে কোথাও রোগী, স্বজন বা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো না। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। বরং প্রশাসনিক দায়িত্বে পরিবর্তন এনে নিজের স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নিহত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা জানানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, 'আমরা মাথা কাটতে বলিনি, আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। তদন্ত চলছে, সরকার সবকিছু নজর রাখবে। তবে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক বিষয় বানানো উচিত নয়।' বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে মানুষের কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন

মন্ত্রী জানান, বাজেটে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হবে। এছাড়াও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ওষুধ উৎপাদনের জন্য কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে বিশেষ করে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই)-এর ওপর। ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল চিকিৎসা-উপকরণের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্স’ বা চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

মন্ত্রী বলেন, এই বাজেট শুধুমাত্র সংখ্যার বাজেট নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুণগত বাজেট। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে সরকার সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সহায়ক হবে।

সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, জনগণের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের টেকনিক্যাল ও আলেকান্দা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে: স্কুল মাঠে মেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


বরিশালের টেকনিক্যাল ও আলেকান্দা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে: স্কুল মাঠে মেলা

আগামী ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫টি পরীক্ষার্থীদের জন্য বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ স্কুল মাঠে মাসব্যাপী চলমান মেলা চরম বিপাকে ফেলছে।

বিশেষ করে বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র মেলার পাশে অবস্থিত। পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্তে মেলা বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় তথ্য থেকে জানা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণের তীব্র শব্দদূষণ, মাইকের উচ্ছ্বাসিত আওয়াজ ও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেলা চলাকালীন কোলাহলের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা দেবেন তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরেশ স্কুল মাঠের চারপাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। এই এলাকার অসংখ্য এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থী মেলা থেকে আসা উঁচু শব্দ ও গভীর রাতের আওয়াজের কারণে ঘরে বসে শান্তিতে পড়াশোনা করতে পারছেন না। এর ফলে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে তারা চরম মানসিক ও পরিবেশগত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসনের এই অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বরিশাল দোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহিদ আক্তার সাথী তাঁর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জেলা প্রশাসক এত ক্ষমতা কোথায় পেলেন? নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এমন এক মাসের জন্য স্কুল মাঠ দখল করে মেলার অনুমোদন দিয়েছেন। এমন সময়ে, যখন শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসন্ন, তিনি মেলা বন্ধ করছেন না। এটাকে ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।"

একই সুরে মেলা-সংলগ্ন স্কুলের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "মেলাটি ইতিমধ্যে মাসব্যাপী চলছে। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার স্বার্থে অবিলম্বে এই মেলা বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।"

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছাকাছি ও আবাসিক এলাকার মধ্যে মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক ইভেন্টের আয়োজন করা সম্পূর্ণ নীতিবিরুদ্ধ। বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজের মতো বড় কেন্দ্রের পাশে চলমান মেলার কারণে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষা শুরুর দিনগুলোতে মাঠ খালি করার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বেড়ে চলেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অবিলম্বে এই মেলা বন্ধ করে মাঠটি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী করার দাবি উঠেছে। বরিশালের সর্বস্তরের নাগরিকের মধ্যে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকেএসপির পরিচালনা বোর্ডের ৪০তম সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


বিকেএসপির পরিচালনা বোর্ডের ৪০তম সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিচালনা বোর্ডের ৪০তম সভা ২০২৬ সালে ঢাকার আশুলিয়ার জিরানীর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিকেএসপি পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মো. আমিনুল হক।

সভাটি শুরু হয় পরিচালনা বোর্ডের ৩৯তম সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদনের মাধ্যমে। এরপর এজেন্ডাভুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় বিকেএসপির জনবল কাঠামো শক্তিশালীকরণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, ২০২১ সালের প্রশিক্ষণার্থী নীতিমালা হালনাগাদ এবং চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এছাড়া নারী খেলোয়াড়দের জন্য বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহীতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে স্বতন্ত্র প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, নতুন ক্রীড়া বিভাগ হিসেবে দাবা অন্তর্ভূক্তি, বিভাগীয় ও আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন নীতিমালা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিকেএসপির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে, ক্রীড়া বিভাগগুলোতে বিদেশী বিশেষজ্ঞ কোচ সংযুক্তি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিকেএসপির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার বিষয়ে পরিচালনা বোর্ড প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় ताकि দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

এছাড়া স্পোর্টস ডিপ্লেমেসির মাধ্যমে চীন ছাড়াও অন্যান্য দেশ যেমন জাপান, দ.কোরিয়া, তুরস্ক, মালয়েশিয়া এর সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ফেডারেশন-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকাশনা ও কোচিং প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।

সভায় পরিচালনা বোর্ডের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিকেএসপির মহাপরিচালক, পরিচালকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিকেএসপির শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধীদল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


বিরোধীদল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত বলেছেন, বিরোধীদল মাঝেমধ্যে সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তোলে। কিন্তু তারা যেন শুধুমাত্র সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দিতে পারে। আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা একদিনও কোন কথা বলেনি।

রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনটি সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, তা আমরা সকলেই জানি। বিগত ১৫ বছরের উপর দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ত সরকারের পতন হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই এই সংসদটির প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব।

ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, আমি স্বাস্থ্যখাতের বাজেট নিয়ে আমার বক্তব্যকে কেন্দ্রভিত্তিক রাখতে চাই। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বলব, আসুন শুধু তর্ক বা সমালোচনার জন্য নয়, আমরা আলোচনায় বসি। আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা নিশ্চিত করবে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাবে। অর্থাৎ এই বাজেটটি প্রস্তুত করা হয়েছে একটি সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা, এবার তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ বা সাময়িক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের গড় আয়ু বাড়াতে, সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে, দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে এবং কর্মক্ষম জনগণ গড়ে তোলে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সুখ নিশ্চিত করে, সমাজে বৈষম্য কমায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. মুহিত বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অতিমারি ও মহামারির ঝুঁকি, দ্রুত নগরায়ণ এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই রোগীকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। অথচ থাইল্যান্ডে এ হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হবে এই ব্যয় কমিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করে তোলা।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল মাঝেমধ্যে সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের বিষয়ে আলোচনা করে। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। আমি খুশি হতাম, যদি তারা সেই প্রতিবেদনের আলোকে সংসদে আলোচনা করতেন।

তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সংস্কার চাই। এজন্য স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, চিকিৎসা পদ্ধতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

অন্যদের সুযোগ করে দিতেই বেঞ্চে থাকতে চেয়েছিলেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


অন্যদের সুযোগ করে দিতেই বেঞ্চে থাকতে চেয়েছিলেন মেসি

গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল লিওনেল মেসির শুরুর একাদশে না থাকা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, বেঞ্চে বসার সিদ্ধান্তটি ছিল মেসির নিজের। অধিনায়ক চেয়েছিলেন অন্য সতীর্থরা মাঠে নামার সুযোগ পাক এবং তিনি নকআউট পর্বের আগে সতেজ থাকতে পারেন।

স্কালোনি বলেন, ‘আজ মেসি চাইলে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারত। প্রতিপক্ষকে অসম্মান না করেই বলছি, চাইলে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়াতে পারত। কিন্তু সে চেয়েছে অন্যরা খেলুক, যেন সবাই আগামী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এটাই তার মহত্ত্ব। মানুষ যেখানে রেকর্ড আর পরিসংখ্যান নিয়ে ব্যস্ত থাকে, লিও সেখানে দলকেই সবার আগে রাখে।’

যদিও শুরুতে মাঠে নামেননি, দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেই নিজের ছাপ রাখেন মেসি। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার জয়কে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলেন তিনি।

গ্রুপ পর্ব শেষ করে এবার রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না স্কালোনি।

আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘কেপ ভার্দে অসাধারণ একটি দল। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব—প্রতিটি দলের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তারা দ্রুতগতির, সংগঠিত এবং মানসম্মত ফুটবল খেলে। এই বিশ্বকাপে কাউকেই সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই।’

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি স্কালোনি ব্যবহার করেছেন মূলত স্কোয়াডের গভীরতা যাচাইয়ের জন্য। নিয়মিত একাদশের কয়েকজনকে বিশ্রাম দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল মিডফিল্ডার এজেকিয়েল পালাসিওসকে রাইটব্যাক হিসেবে খেলানো।

এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘এই পজিশনে আমাদের বিকল্প তৈরি রাখা প্রয়োজন। নাহুয়েল মলিনাকে বিশ্রাম দিয়েছি, কারণ সে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেছে। আর গঞ্জালো মন্তিয়েলকে নিয়েও ঝুঁকি নিতে চাইনি। নকআউট পর্বের আগে নতুন বিকল্প পরীক্ষা করার জন্য এটিই ছিল আদর্শ ম্যাচ.’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%