ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্যারিসে মন্দির উদ্বোধনে আবেগাপ্লুত মোদি, নতুন উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক


প্যারিসে মন্দির উদ্বোধনে আবেগাপ্লুত মোদি, নতুন উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

ভারত-ফ্রান্স সর্ম্পকের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি

 

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন ফ্রান্সে সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

 

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন মাইলস্টোন’। মোদি উল্লেখ করেন, এটি ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্বোধনী ভাষণে মোদি বলেন, ‘প্যারিসের এই বিশাল মন্দির উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন কেবল কূটনীতি বা কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

 

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী বুসি-সাঁ-জর্জ ও সেন-এট-মার্ন এলাকায় এই বিশাল মন্দির নির্মিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি, তবে এর নির্মাণে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টা রয়েছে। মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত পাথরের বড় অংশ ভারতে আনা হয়েছিল, যেখানে শিল্পীরা পাথরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করেন।

 

পরে সেই পাথর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মন্দিরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এই মেলবন্ধনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ। অর্থাৎ, ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তি ও নির্মাণ দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই মন্দিরে।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

মন্দিরটির গুরুত্ব শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এমন একটি মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় আরও বাড়াবে।’

এছাড়া, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরো গভীর হবে।

ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে মন্দিরটি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়াবে বলেও জানান মোদি। ফ্রান্সে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি স্থায়ী নিদর্শন তৈরি হওয়াকে তাই শুধুমাত্র প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশা, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই মন্দির প্রবাসী হিন্দুদের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ নাম বদলের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ নাম বদলের প্রস্তাব

সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব

 

জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ দেশের লাইব্রেরি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই’ কর্নারে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছেন। তিনি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন

 

এর আগে সংসদের বৈঠকটি বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শুরু হয়।

মারদিয়া মমতাজ তার উত্থাপিত প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ‘আমরা জানি, গত ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারগুলো এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুজিব কর্নার স্থাপন করা হয়েছিল। ২৪ আগস্টের পর এই নোটিশগুলো বা শিরোনামগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পাঠাগারগুলো আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।

 

তিনি স্পিকার মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘যদি এই লাইব্রেরিগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নারে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে তা দেশের মানুষের জন্য কল্যাণের কাজ হতে পারে। এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আছে কি না?’

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় তার জবাবে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত অনেক পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। সংসদ সদস্য যে লাইব্রেরিগুলোর কথা বললেন, আমরা অবশ্যই এগুলোকে আমাদের আওতায় নেব। তিনি একটি তালিকা করে আমাদের দিতে পারেন, আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুরনো ঋণের চাপ সামলে বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারের অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


পুরনো ঋণের চাপ সামলে বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারের অগ্রগতি

বর্তমান সরকার বৈদেশিক ঋণের চাপ সামলাতে সক্ষম হয়েছে, যদিও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বড় অঙ্কের ঋণের পরিশোধের বাড়তি চাপ রয়েছে। নিয়মিতভাবে এবং সফলতার সঙ্গে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করছে সরকার। নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানও গ্রহণ করা হয়েছে।

 

বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগের সুফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সরকার ৪৫ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১৮ কোটি ১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

 

এ মাসে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এটি নির্দেশ করে যে, সরকার আগের ঋণের দায় নিয়মিত পরিশোধের পাশাপাশি নতুন ঋণ গ্রহণেও সংযত অবস্থান নিয়েছে। ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, বিশেষ করে উৎপাদনশীল ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। এর প্রধান কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের ঋণ এখন পরিশোধের পর্যায়ে এসেছে। আগের দেড় দশকে নেওয়া এসব প্রকল্প ঋণের অনেকগুলোর অবকাশকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারের সময়ে এসব ঋণের পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাসসকে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপকভাবে ঋণ নিয়েছে। এসব ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের বিপরীতে প্রাপ্ত সুফল এবং সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল ঋণ ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এখন ওই ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে। তবে সরকার এই দায় পরিশোধ করছে।

যত্রতত্র ঋণ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা রেখে গেছে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি যেকোনো ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগ, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঋণের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঋণ নিলে তার বিপরীতে কী রিটার্ন আসবে এবং কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো বেড়ে ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক বৈদেশিক অর্থায়ন নেওয়া হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বৈদেশিক সহায়তার ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।

ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪ কোটি ডলার এবং অর্থছাড় হয়েছিল ১ হাজার ২৮ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাসসকে বলেন, অতীতে যতটুকু বৈদেশিক ঋণ পাওয়া সম্ভব, তা নেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। এখন দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করেই বৈদেশিক সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এবং জাপান থেকে পাওয়া অর্থায়ন আগের মতো সহজ শর্তের নয়। তাই এসব ঋণ ভবিষ্যতে পরিশোধের সক্ষমতা দেশের রয়েছে কি না, সেটিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।

ড. জাহিদ আরো বলেন, ‘ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।

একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন এবং এর সুফল দৃশ্যমান করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রকল্প গ্রহণের আগে এর সম্ভাব্য আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুফল এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় দাঁড়িয়েছে ৮০৭ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮৫৭ কোটি ডলার। প্রকল্প সহায়তার অর্থছাড় ৮৫২ কোটি ডলার থেকে কমে ৮০২ কোটি ডলারে নেমেছে।

তবে অনুদানের অর্থছাড় বেড়ে ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় উৎস ছিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি এ সময়ে ২০৭ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে এসেছে ১৯১ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া ঋণের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ এখন পরিশোধযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাই চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা এবং এসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরও ভালো শর্তে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এবং সম্ভব হলে রেয়াতি বা সহজ শর্তের অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার নিতে দীর্ঘ অপেক্ষা, গোডাউনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


সার নিতে দীর্ঘ অপেক্ষা, গোডাউনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা নিয়ে গেলেন কৃষকেরা
 
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ডিলারের দেখা না পেয়ে উত্তেজিত কৃষকেরা একটি সার ডিলার পয়েন্টের গোডাউনের টিনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
 
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা সার সংগ্রহের জন্য গভীর রাত থেকেই ওই ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পাওয়ায় একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
 
স্থানীয়রা জানান,সকাল ১১টা পর্যন্ত ডিলার সার বিতরণ করতে না আসায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
 
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ডিলারের গোডাউনের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে সারের বস্তা নিয়ে যায়।
 
মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার মো: মতিয়ার রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনও’র কাছে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গোডাউন থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিনশেষে হিসাব করে জানা যাবে।
 
এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাহবুবুল হাসান বলেন,আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
 
 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার পাথরডুবির মানুষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার পাথরডুবির মানুষের
স্বাধীনতার পর থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি থেকে থানাঘাট যাওয়ার পথে গলাচিপা এলাকায় স্থায়ী সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ ৫৫ বছরেও সেখানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের।
 
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ পাথরডুবি ও থানাঘাট এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। কিন্তু গলাচিপা এলাকায় সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকোটিই তাদের একমাত্র ভরসা। 
 
স্থানীয়রা নিজেদের বাঁশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হলেও এক বছর পার না হতেই ভেঙে যায়। আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়। 
 
এই সাঁকো দিয়ে কৃষি চাষাবাদ ও অসুস্থ রোগী নিয়ে যাওয়া যায় না। পানি কম থাকলে কাঁধে করে পারাপার করা হয়। অনেকে অসুস্থ হলেও যাতায়াতের ভোগান্তিতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি দিয়ে পারাপারের সময় অনেকেই ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে এবং সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সাঁকো পার হতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই আহত হয়েছেন। কারও হাত-পায়ে আঘাত লেগেছে, আবার কারও হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
 
শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সাঁকোটি পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
 
এ বিষয়ে পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, “একটা ব্রিজের জন্য স্থানীয় পর্যায় ছাড়াও সাবেক ও বর্তমান এমপি এবং ঢাকা থেকে আগত পিডি ও ইঞ্জিনিয়ারদের দেখানো হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।”
 
সংসদ অধিবেশন চলায় কুড়িগ্রাম -১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
এলাকাবাসীর দাবি, বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ।
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%