০২:৪৬ পি.এম
বাঙালির পরিচিত খাবারের বাইরেও দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও রান্নার ঐতিহ্য রয়েছে, যেমন বাঁশকোঁড়ল, হেবাঙ, জুমের সবজি, পাজন, বিন্নি চালের পিঠা। এই বৈচিত্র্যময় খাবার ও কৃষিপণ্য নগরবাসীর সামনে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মিরপুরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও মানবাধিকারকর্মী শিরীন পারভীন হক এবং অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে আটক ৫৪৪ জন
অনুষ্ঠানে দীপেন দেওয়ান মন্তব্য করেন, "আদিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি দেশের অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।" তিনি আরও বলেন, "এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে বাঙালির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এবং তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির চিত্র ফুটে উঠবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আদিবাসীদের খাদ্যসংস্কৃতি দেশের সম্পদ, যা জাতীয় বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করছে।" তিনি জানান, "পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" দীপেন দেওয়ান বলেন, "আদিবাসীদের স্বতন্ত্র পরিচয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
শিরীন পারভীন হক বলেন, "বাংলাদেশ বহুজাতি ও বহুসংস্কৃতির দেশ। এ মেলার আয়োজন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "খাদ্যে ভেজালের বিস্তারের মধ্যে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।" তবে তিনি সতর্ক করেন, "পাহাড়ের মানুষের খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে ভূমির অধিকার গভীরভাবে জড়িত।" ভূমি দখলের কারণে তাঁরা উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানান।
মেইনথিন প্রমীলা বলেন, "আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনপদ্ধতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।" তিনি বলেন, "পাশাপাশি তাঁদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"
আরও পড়ুন: পিএসসির ছাদে স্থাপন হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি
সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, "আদিবাসীরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা সবার দায়িত্ব।" তিনি ঢাকায় আদিবাসীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য আলাদা বাজার গড়ে তোলার দাবি জানান।
আলোচনা শেষে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাঁশকোঁড়ল, কলাপাতায় রান্না করা হেবাঙ, জুমের সবজি ও জনপ্রিয় পাজনসহ নানা ধরনের খাবার স্থান পেয়েছে। এছাড়া মণিপুরি, গারো ও রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার, কালো ও সাদা বিন্নি চালের পিঠা এবং বিভিন্ন ধরনের মুন্ডি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগীতশিল্পী মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্কুস চিসিমের পরিবেশনার পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা প্রকাশ করল আবহাওয়া অধিদপ্তর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন