ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নরওয়েতে স্মার্ট গাড়ির মাধ্যমে সামরিক তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা উদ্বেগ


নরওয়েতে স্মার্ট গাড়ির মাধ্যমে সামরিক তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা উদ্বেগ

নরওয়ের সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর তথ্য ধারণের ঘটনা চীনে তৈরি স্মার্ট গাড়ির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গাড়ির ক্যামেরায় সেনাসদস্যদের চলাচল, তাদের ওঠানামা, এবং সামরিক স্থাপনায় প্রবেশের গেট ও দরজার কোডও ধরা পড়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব তথ্য অন্য কোনো পক্ষের কাছে, বিশেষ করে চীনে, পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নরওয়ের সংবাদপত্র দাগেনস নেরিংসলিভ–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর অসলো বিমানবন্দরে সামরিক বাহিনীর একটি নিরাপত্তা মহড়া চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। গাড়িতে অপেক্ষা করার সময় সেনাসদস্যেরা এর পর্দায় ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও দেখতে পান।

নরওয়ের হোম গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পের গুনার গ্রোসবার্গহাউগেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হোম গার্ডের সদস্যরা গাড়ির সেন্সরে ধারণ করা ভিডিও পেয়েছিলেন। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি যে এসব তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িগুলো ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে অন্তত দুটি ছিল চীনা গাড়ি নির্মাতা চ্যাংআনের তৈরি ডিপাল ব্র্যান্ডের গাড়ি। সেনাবাহিনীকে গাড়িগুলো সরবরাহ করেছিল হার্টজ নরওয়ে, যার পরোক্ষ মালিকানা চীনা গাড়ি নির্মাতা গিলির হাতে রয়েছে।

ক্যামেরায় স্পর্শকাতর তথ্য ধারণের বিষয়টি জানার পরও বিকল্প গাড়ি না থাকায় মহড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহার করে সামরিক বাহিনী। পরে সেনাসদস্যেরা ভিডিওগুলো মুছে দেন।

নরওয়ের সামরিক বাহিনী মনে করছে, চীনে তৈরি সব গাড়ি নিষিদ্ধ করলে নিরাপত্তার সম্ভাব্য সুফলের তুলনায় এর প্রভাব বেশি হতে পারে। তাই তারা সব চীনা গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞার বদলে নির্দিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে। প্রয়োজনে ক্যামেরা ও সেন্সরযুক্ত গাড়ি—সেগুলো যে দেশেই তৈরি হোক—কিছু স্থানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

হার্টজ নরওয়ের বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক হালভার্ড নেরবোভিক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নরওয়ে ও ইউরোপের আইন মেনে চলে। তিনি জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য গাড়ি নির্মাতা, মালিক বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হয় না। তবে ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও অন্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এ বিষয়ে চ্যাংআন গ্রুপ প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

‘চলন্ত কম্পিউটার’ হয়ে উঠছে গাড়ি :

নরওয়ের এই ঘটনা আধুনিক গাড়ির তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ক্যামেরা, সেন্সর ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত প্রযুক্তির কারণে গাড়ি এখন শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি বিপুল তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে সক্ষম।

গত বছর অসলো অঞ্চলের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ রুটারের জন্য চালানো এক পরীক্ষায় দেখা যায়, চীনা প্রতিষ্ঠান ইউটংয়ের তৈরি বৈদ্যুতিক বাস দূর থেকে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে তাত্ত্বিকভাবে অচল করে দেওয়া সম্ভব। জরুরি পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সরিয়ে নিতে এসব বাস ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে নরওয়ের। রুটার জানিয়েছে, এরপর থেকে দূর থেকে আসা সংকেত পর্যবেক্ষণ এবং সফটওয়্যার হালনাগাদ বিলম্বিত করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

গাড়ির বাইরেও স্মার্টঘড়ি ও স্ট্রাভার মতো শরীরচর্চার অ্যাপ থেকে সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশিত হওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে স্ট্রাভায় প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে আফগানিস্তান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক স্থাপনা এবং সেনাদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদ স্ট্রাভা ব্যবহারকারী এক নাবিকের তথ্যের ভিত্তিতে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরি শার্ল দ্য গলকে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছিল।

আরও পড়ুন: উটের প্রস্রাবেই সারবে ক্যানসার? সৌদি ভাইরাল দাবির সত্যতা জানাল

নরওয়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আন্দ্রেয়াস স্কজোল্ড-লোরাঞ্জ আধুনিক গাড়িকে ‘চলন্ত কম্পিউটার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এসব গাড়ি কী তথ্য সংগ্রহ করছে, সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই।

তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকির পাশাপাশি কোনো একটি দেশের পণ্য বা সেবার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার বিষয়েও সতর্ক করেছে নরওয়ের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করে না—এমন কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা

চাকরির সাক্ষাৎকারে এক নারীকে তার পারিবারিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) একজন প্রতিনিধি। ভারতের শাতাক্ষী দ্বিবেদী নামের ওই চাকরিপ্রত্যাশী নারীকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি তুলে ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দ্বিবেদী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাকে করা সবচেয়ে অযৌক্তিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

দ্বিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারের শুরুতে তার বাসস্থান এবং অফিসে যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানান, অফিসে যাতায়াত করতে তার কোনো সমস্যা হবে না। তার স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন, ফলে প্রয়োজনে তিনি স্বামীর সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে এইচআর প্রতিনিধি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘একটা প্রশ্ন করতে আপনার আপত্তি নেই তো? আপনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাই তো?’

প্রশ্নটি শুনে হতবাক হয়ে যান দ্বিবেদী। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বাস্তবে তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বৈপরীত্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

দ্বিবেদী বলেন, ‘এরপর আমরা আবার কাচের ছাদ ভাঙার কথা বলি। এসব প্রতিষ্ঠানই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।’

তবে কোন প্রতিষ্ঠানে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি দ্বিবেদী।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাদেরও বিয়ে, সন্তান নেওয়া এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাক্ষাৎকারে অবিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে বিয়ে করবেন। বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে সন্তান নেবেন। সন্তান থাকলে জানতে চাওয়া হয়, কাজ আর সন্তান কীভাবে সামলাবেন। অর্থাৎ, ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত, এমনকি ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এই দ্বিমুখী মানসিকতার সমাজে সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন চলতেই থাকবে।’

আরেক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। তারা সরাসরি আমার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ২০২৬ সালেও নারীদের এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

তৃতীয় এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জবাবটা এমন হওয়া উচিত ছিল, “দুঃখিত, আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ আমি মেনে নিই না।” অথবা শুধু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুপ থাকা উচিত।’

ঘটনাটি আবারও চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বিরোধীদল সাংবিধানিক সংশোধনীতে সহযোগিতা করছে না।

তিনি সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

সাংবিধানিক সংশোধনী আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে চাই; যে সংশোধনীকে অনেকে সংস্কার বলতে পারেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘তারা সংস্কার বলে যদি তুষ্ট থাকেন, আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু তারা এই সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা এখনো পর্যন্ত করছে না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, ‘আমরা শুনেছি গতকাল, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন তারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন না। ১৮ কোটি জনগণকে সহযোগিতা করবেন। ১৮ কোটি জনগণকে সহযোগিতা করুন, এটাই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনা এবং সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরে দেবেন, এটাই আমরা চাই। কিন্তু রাস্তার বক্তব্য এবং সাংবিধানিক সংস্কারে আপনাদের যে অবদান, দুটোর মধ্যে মিল থাকতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যর্থ হলো আরো এক চেষ্টা, মিলল না নিখোঁজ পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের হদিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ব্যর্থ হলো আরো এক চেষ্টা, মিলল না নিখোঁজ পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের হদিস

প্রায় ৯০ বছর আগে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বিমান চালানোর সময় কিংবদন্তি বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। সিএনএন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে নতুন একটি অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, সেখান থেকেও ইয়ারহার্টের বিখ্যাত ‘লকহিড ১০ই ইলেক্ট্রা’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনভিত্তিক ‘আর্কিওলজিক্যাল লিগ্যাসি ইনস্টিটিউট’ এবং ইনডিয়ানার ‘পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের ১৭ সদস্যের একটি যৌথ দল গত ১২ অক্টোবর নিকুমারোরো নামক নির্জন দ্বীপটিতে পৌঁছায়। এর আগে ২০২০ সালে স্যাটেলাইট ছবিতে নিকুমারোরো দ্বীপের একটি লেগুনে বিমান-আকৃতির একটি ঝাপসা বস্তু দেখা যায়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তারাইয়া অবজেক্ট’। গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। তবে উচ্চপ্রযুক্তির ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে পুরো এলাকা অনুসন্ধানের পর তারা নিশ্চিত হন যে সেটি কোনো বিমানের অবশেষ নয়—বরং উপকূলে জমা হওয়া বড় বড় গাছের গুঁড়ির সমষ্টি ছিল।

অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই প্রথম নারী হিসেবে বিমানে বিশ্ব প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যে রওনা হন তার সহ-চালক ফ্রেড নুনানের সঙ্গে। নিউ গিনির লায়ে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্রতম ভূখণ্ড হাওল্যান্ড দ্বীপের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর তারা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার যাত্রাপথে তাদের বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায় এবং গন্তব্যের কাছাকাছি মহাসাগরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে অন্য এক দলের গবেষকদের ধারণা ছিল, বিমানটি হাওল্যান্ড দ্বীপের প্রায় ৪০০ মাইল দক্ষিণে নিকুমারোরো দ্বীপে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং সেখানেই আটকে পড়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিকুমারোরো দ্বীপে এ পর্যন্ত ১৫ বার অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রতিবারই গবেষকদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালে বিখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানী বব ব্যালার্ড এবং ২০২৪ সালে অনুসন্ধানকারী সংস্থা ‘ডিপ সি ভিশন’-এর সোনার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম এই অ্যাটলটিতে সাম্প্রতিক মিশনটি ব্যর্থ হলেও গবেষকদের দাবি, এই তত্ত্ব যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের রহস্যময় অন্তর্ধানের সত্য উন্মোচনে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে আরো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাটুরিয়ার কৃষকরা আগাম ফুলকপিসহ শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


সাটুরিয়ার কৃষকরা আগাম ফুলকপিসহ শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জমির বিভিন্ন স্থানে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবজির চারা রোপণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও গাছের পরিচর্যা চলছে। কিছু জমিতে কৃষকরা আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করছেন। গত মৌসুমে আগাম সবজি চাষ করে তারা ভালো লাভ পেয়েছিলেন, তাই এবারের মৌসুমেও তারা আশাবাদী। শীতের শুরুতেই সবজি বিক্রি করে অধিক মুনাফার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ চলছে। ফুকুরহাটি, জান্না, তিল্লী, দরগ্রাম ও চর তিল্লীসহ বিভিন্ন স্থানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, করলা, পটল, লাউ, মুলা, টমেটো, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, গাজর ও নানা ধরনের শাকের আবাদ হচ্ছে। কৃষকরা এসব সবজি চাষ করে একদিকে পরিবারের চাহিদা পূরণ করছেন, অন্যদিকে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫০ হেক্টর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যে ৯৯১ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে আবাদি জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজির ব্যাপক আবাদ হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক লাভবান হন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারে শীতের পুরোপুরি আগমনের আগেই আগাম জাতের সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতা সহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সবজির চাষাবাদ চলছে। কোথাও কৃষকরা জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করছেন, কোথাও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবার কোনো জমিতে উৎপাদিত সবজি তুলে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষকদের পরিবহন খরচ ও বাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা কমছে।

কৃষকদের ভাষ্য, শীতকালীন সবজির চাহিদা সারা মৌসুমেই থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম সবজির দাম ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে আগাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক সবজি অল্প সময়ে বিক্রির উপযোগী হয়। ফলে দ্রুত পুঁজি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি লাভের সুযোগও তৈরি হয়।

উপজেলার ফুকুরহাটি এলাকার কৃষক নায়েব আলী (৫৫) জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে তিনি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।

নায়েব আলী বলেন, ‘সবজি চাষ করে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। এখন আর সবজি বিক্রির জন্য হাটবাজারে যেতে হয় না। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগে। ভালো দাম পেলে কৃষকের লাভও বেশি হয়।’

তিনি আরও জানান, ফুকুরহাটি ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার দরগ্রাম এলাকার রৌহা গ্রামের কৃষক নয়া মিয়া (৫৫) জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত দুই দফায় প্রায় ছয় মণ বেগুন তুলে আড়তে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ বেগুনের দাম পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫০ টাকা। জমিতে আরও তিন থেকে চার দফা বেগুন তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

নয়া মিয়া বলেন, ‘অন্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আমি সবজি আবাদ করছি। এখন ঢাকার পাইকাররা জমি থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যান। ফলে সবজি বাজারে নেওয়া ও বিক্রি করার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। এতে আমাদের সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে।’

চর তিল্লী গ্রামের কৃষক আতাউর হোসেন (৪০) জানান, তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে করলার আবাদ করেছেন। তার মতে, তুলনামূলক কম জমি ও পুঁজি দিয়েও সবজি চাষ শুরু করা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক সবজি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। এতে নিয়মিত আয় করার সুযোগ তৈরি হয়।

আতাউর হোসেন বলেন, ‘সবজি চাষে খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই সবজি বিক্রি করা যায়। পাশাপাশি পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। চলতি মৌসুমে সবজির দামও ভালো। সব মিলিয়ে আমরা সবজি চাষকে লাভজনক মনে করছি।’

স্থানীয় কৃষকদের মতে, ক্ষেত থেকে সরাসরি পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রির সুযোগ তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এতে বাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ, সময় ও শ্রম কম লাগছে। তবে উৎপাদন খরচ, আবহাওয়া এবং বাজারদরের ওঠানামা তাদের লাভের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘সাটুরিয়া সবজি চাষের জন্য একটি পরিচিত উপজেলা। এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে চাষ হচ্ছে। আগাম জাতের সবজি উৎপাদনের ফলে একদিকে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, সবজির উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আগাম জাতের সবজি চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%