ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিরপুরের বাসিন্দারা চুরিতে অতিষ্ঠ, পুলিশ প্রতিরোধে উদ্যোগ নিয়েছে


মিরপুরের বাসিন্দারা চুরিতে অতিষ্ঠ, পুলিশ প্রতিরোধে উদ্যোগ নিয়েছে

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দারা চুরির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। রাতের অন্ধকারে চোর চক্র আবাসিক ভবনে প্রবেশ করছে এবং স্বর্ণালংকারসহ লাখ লাখ টাকা চুরি হচ্ছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৩টার দিকে মিরপুর ৬০ ফিটের পিরেরবাগ পাবনা গলিতে এক ব্যক্তি মালামাল নিয়ে রিকশায় উঠে চলে যাচ্ছেন। সকালে উঠেই হতভম্ব হয়ে যান ২৩৬/১ ভবনের বাসিন্দারা। কারণ, ৭তলা ভবনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাটে রাতের বেলা চুরি হয়েছে।

বাড়ির মালিক পলাশ, যিনি দ্বিতীয় তলায় থাকেন, তার স্ত্রী জানান, ওই রাতে রান্নাঘরের গ্রিল কেটে চোর প্রবেশ করে। চুরি হয়েছে একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ।

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে সকলের সমর্থন ও দোয়া চান মোহাঃ সাদিকুল ইসলাম

পঞ্চম তলার ভাড়াটিয়া বাসায় না থাকার কারণে তালা কেটে সেখান থেকে নগদ অর্থসহ চার থেকে ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি হয়। একইভাবে সপ্তম তলাতেও চুরি হয়েছে। সেখানে ভাড়াটিয়া বাসায় ছিলেন না এবং পুরো ফ্ল্যাট তছনছ করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।

এটি শুধু মিরপুরের একটি এলাকা নয়, আশপাশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ২ থেকে ৪ দিন পর পর এমন ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগের বিষয়। তারা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জনমনে উদ্বেগ কমাতে এবং চুরি প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় অপরাধী শনাক্ত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন বলেন, "এটা প্রতিরোধের জন্য আমরা কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করেছি। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে, যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং শনাক্তকরণে আমরা এই ফোর্স নিয়েই কাজ করব।"

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হলো

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ বছর আগের ঘটনায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


১৬ বছর আগের ঘটনায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত

উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি আদালত ২০১০ সালের একটি পুরোনো মৃত্যুর মামলায় বলিউডের ড্রামা কুইন হিসেবে পরিচিত রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) জারি করেছে। ১৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ২০১০ সালের। ঝাঁসির প্রেমনগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদের কারণে রাখি সাওয়ান্তের উপস্থাপনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অভিযোগ করা হয়, ওই শো-এর মঞ্চে রাখি লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মণ ভয়ংকর মানসিক অবসাদ ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হন। মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পর, তিনি ওই বছরেই মারা যান।

লক্ষ্মণের মৃত্যুর পর, তার মা রাখি সাওয়ান্তসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনার পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার ধারাও যুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট দাখিলের পর অবশেষে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছে।

ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব দ্রুত রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে। ১৬ বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে এখন এই অভিনেত্রীর মাথার ওপর গ্রেপ্তারির খাঁড়া ঝুলছে।

সূত্র: টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ল্যুভরে চুরি, এবার নিরাপত্তার দায়িত্ব চান সাবেক শিল্পকর্ম চোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


ল্যুভরে চুরি, এবার নিরাপত্তার দায়িত্ব চান সাবেক শিল্পকর্ম চোর

বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত জাদুঘর ল্যুভরে শতাব্দীর সেরা চুরি হিসেবে আলোচিত ডাকাতির এক বছর পরও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবার প্রশ্ন তুলেছেন এমন একজন, যিনি নিজেই একসময় ছিলেন দুর্ধর্ষ শিল্পকর্ম চোর। ডাচ নাগরিক অক্টাভ ডারহাম দাবি করেছেন, ল্যুভরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় এখনো অনেক দুর্বলতা রয়েছে।

ফরাসি জাদুঘর ল্যুভরে গত বছরের আলোচিত চুরির ঘটনার পরও নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে বলে মনে করেন অক্টাভ ডারহাম। তার প্রশ্ন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্ব দিতে তারা আমার কাছে আসে না কেন?’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৩ বছর বয়সি ডারহাম কোনো নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নন, এমনকি প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষীও নন। তিনি একসময় ছিলেন শিল্পকর্ম চোর। বর্তমানে অপরাধজগৎ থেকে অবসর নেওয়ার দাবি করা ডারহাম নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিচয় দেন ‘ডাচ লুপিন’ হিসেবে। নেটফ্লিক্সে ফরাসি অভিনেতা ওমর সি অভিনীত জনপ্রিয় ভদ্রবেশী চোরের চরিত্র থেকে এই নাম নেওয়া।

নিজের অপরাধজগতের অতীত নিয়ে কোনো রাখঢাক নেই তার। সিএনএনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডারহাম বলেন, ‘আমি ব্যাংক, সেফ ডিপোজিট ভল্ট, সাঁজোয়া গাড়ি থেকে চুরি করেছি। যা কল্পনা করতে পারেন, সবই চুরি করেছি।’

২০০২ সালে এক সহযোগীকে নিয়ে আমস্টারডামের ভ্যান গঘ জাদুঘরে ঢুকে দুটি চিত্রকর্ম চুরি করেন তিনি। পরে গ্রেফতার হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করেন ডারহাম। তবে তার আগেই চুরি করা ছবিগুলো এক কুখ্যাত অপরাধীর কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে ওই অপরাধীর কাছ থেকে চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার করা হয়।

শিল্পকর্ম উদ্ধারে

অপরাধজগৎ থেকে সরে এলেও চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের প্রতি আগ্রহ হারাননি ডারহাম। তবে এখন তার উদ্দেশ্য চুরি করা নয়, বরং চুরি যাওয়া মূল্যবান শিল্পকর্ম উদ্ধার করা। এ কাজে অপরাধজগতের পুরোনো যোগাযোগগুলো ব্যবহার করেন তিনি।

এ জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেন না ডারহাম। তার ভাষায়, কাজটি তিনি মূলত আনন্দের জন্য করেন। মানুষকে খুশি করতে পারলে তার ভালো লাগে।

তবে তাকে পুলিশের তথ্যদাতা বললে আপত্তি করেন তিনি। ডারহামের ভাষায়, ‘আমি তথ্যদাতা নই, আমি যোগাযোগের মাধ্যম। দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলি না।’

ডারহাম কাজ করেন ডাচ শিল্পকর্ম অনুসন্ধানী আর্থার ব্র্যান্ডের সঙ্গে। শিল্পজগতে তাকে ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’ নামে ডাকা হয়।

২০২০ সালে নেদারল্যান্ডসের একটি জাদুঘর থেকে ভ্যান গঘের ‘স্প্রিং গার্ডেন’ চিত্রকর্মটি চুরি হয়েছিল। ২০২৩ সালে নীল রঙের একটি আইকিয়া ব্যাগে ভরে সেটি ব্র্যান্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চিত্রকর্মটি উদ্ধারে ডারহামের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ব্র্যান্ড।

ব্র্যান্ড আরও উদ্ধার করেছেন পোল্যান্ড থেকে ১৯৭০-এর দশকে চুরি হওয়া পিটার ব্রুগেলের একটি বিখ্যাত শিল্পকর্ম এবং নাৎসি নেতা হারমান গোরিংয়ের হাতে লুট হওয়া এক ইহুদি পরিবারের চিত্রকর্ম। শিল্পকর্ম কেনার আগে সংগ্রাহকদের পরামর্শ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। উদ্ধারকাজটি করেন বিনা পারিশ্রমিকে।

ইউরোপজুড়ে জাদুঘরে চুরি

গত বছরের অক্টোবরে ল্যুভরে দিনের আলোয় চোরেরা ঢুকে নেপোলিয়ন আমলের মূল্যবান সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রান্সের আরেকটি জাদুঘরে চুরি হয়। সেখান থেকে এক লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার মুদ্রা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এরপর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা নিয়মিত খবরের শিরোনাম হচ্ছে।

গত মাসে ফ্রান্সের রেনোয়া জাদুঘর থেকে দুটি রেনোয়া চিত্রকর্ম চুরি হয়। কয়েক সপ্তাহ পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে মার্চে ইতালির পারমার কাছে ম্যাগনানি রোকা ফাউন্ডেশন থেকে রেনোয়া, সেজান ও মাতিসের তিনটি চিত্রকর্ম চুরি হয়েছিল। সেগুলোও পরে উদ্ধার করা হয়।

গত আগস্টে সিসিলির একটি জাদুঘর থেকে আন্তোনেলো দা মেসিনার আঁকা রেনেসাঁ যুগের চারটি চিত্রকর্ম চুরি হয়। একই মাসে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লায়েড আর্টস থেকে ৪০ লাখ ডলারের একটি হীরার নেকলেস নিয়ে যায় চোরেরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাদুঘরে চুরির ঘটনায় অপরাধীরা ক্রমেই বেশি বেপরোয়া, সহিংস ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।

ব্র্যান্ড বলেন, শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা নতুন নয়। তবে ল্যুভরের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সাবেক চোরদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, বর্তমান অপরাধীরা ল্যুভরের ঘটনা দেখে একই ধরনের চুরিতে উৎসাহিত হচ্ছে।

তার মতে, অপরাধীরা ভাবছে, ল্যুভরের মতো জাদুঘর থেকে যদি শিল্পকর্ম চুরি করা সম্ভব হয়, তাহলে স্থানীয় জাদুঘরগুলো থেকে চুরি করা আরও সহজ।

ব্যাংকে নগদ অর্থ কমে যাওয়া এবং গয়নার দোকানে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার কারণে চোরেরা এখন জাদুঘরকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে বলেও মনে করেন ব্র্যান্ড।

কেন ইউরোপের জাদুঘরগুলো ঝুঁকিতে

বিশ্বজুড়ে শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা ঘটলেও ইউরোপের জাদুঘরগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করেন ব্র্যান্ড। কারণ, বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান শিল্পকর্মের বড় অংশ ইউরোপে রয়েছে। পাশাপাশি অনেক জাদুঘরই শত শত বছরের পুরোনো ভবনে অবস্থিত।

ব্র্যান্ড বলেন, ইউরোপের জাদুঘরগুলোতে সাধারণত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকে না। অনেক প্রতিষ্ঠানই ঐতিহাসিক ভবনে পরিচালিত হয়, যেগুলোর নিরাপত্তা আধুনিক দুর্গের মতো নয়।

বেলজিয়ামভিত্তিক জাদুঘর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম বালুত বলেন, ল্যুভর, ভিয়েনার জাদুঘর ও রেনোয়া জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানে চোরেরা ঢুকে তিন মিনিটেরও কম সময়ে মূল্যবান বস্তু নিয়ে পালিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ভাঙচুর করে দ্রুত চুরি করার প্রবণতা বাড়ছে।

বালুতের মতে, অপরাধীরা এখন হাতুড়ি, কুঠার, শাবল এমনকি বিস্ফোরকও ব্যবহার করছে। ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সহজে বহন করা যায় এবং দ্রুত কাজ করা সম্ভব হওয়ায় চুরির ঝুঁকি বেড়েছে।

জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের জন্য শিল্পকর্ম উন্মুক্ত রাখা। এ কারণে ব্যাংক বা গয়নার দোকানের মতো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে একটি কাচের বাক্স বা নিরাপত্তারক্ষীই দর্শনার্থী ও মূল্যবান শিল্পকর্মের মধ্যে একমাত্র বাধা।

বালুত বলেন, অপরাধীরা চুরির আগে জাদুঘর ঘুরে দেখে, কোন জিনিস সহজে নেওয়া যাবে এবং পালানোর পথ কতটা সুবিধাজনক। তাই শুধু ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রশিক্ষিত কর্মী, যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন, শক্তিশালী প্রদর্শনী বাক্স, কার্যকর অ্যালার্ম এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা।

শিল্পকর্ম বিক্রি করাই বড় চ্যালেঞ্জ

ব্র্যান্ডের মতে, গত এক দশকে শিল্পকর্ম চুরির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। অপরাধীরা এখন স্বর্ণ, রুপা ও হীরার দিকে বেশি ঝুঁকছে। কারণ, এসব গলিয়ে বা নতুনভাবে কেটে ফেললে আসল মালিকানা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরির পেছনেও অপরাধীদের ভুল ধারণা কাজ করে। ভ্যান গঘের একটি ছবি কোটি কোটি ডলারের হতে পারে, কিন্তু চুরি করলেই তা বিক্রি করা সহজ নয়।

ব্র্যান্ড বলেন, চুরির পরদিনই অপরাধীরা জানতে পারে, ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে চিহ্নিত হয়ে গেছে। ফলে তা প্রকাশ্যে বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তবে অপরাধজগতের কেউ কেউ চুরি করা শিল্পকর্মকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ব্র্যান্ডের দাবি, কালোবাজারে চুরি করা একটি চিত্রকর্মের মূল্য বৈধ বাজারমূল্যের মাত্র ১০ শতাংশ হতে পারে। কোনো অপরাধী গ্রেফতার হলে শাস্তি কমানোর দর-কষাকষিতে সেটি ব্যবহার করতে পারে।

আর্ট ক্রাইমবিষয়ক গবেষণা সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর রিসার্চ ইনটু ক্রাইমস এগেইনস্ট আর্টের প্রধান লিন্ডা অ্যালবার্টসন বলেন, মূল্যবান ও সহজে বহনযোগ্য শিল্পকর্ম, নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং সীমিত নিরাপত্তাসম্পদ একসঙ্গে অপরাধীদের সুযোগ তৈরি করে।

তার মতে, কিছু জাদুঘর নিরাপত্তা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। শুধু ক্যামেরা দিয়ে চুরি রেকর্ড করা সম্ভব, কিন্তু তা সব সময় চুরি ঠেকাতে পারে না। প্রয়োজন প্রশিক্ষিত কর্মী, নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কার্যকর অ্যালার্ম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মহড়া।

অ্যালবার্টসন বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকেরা সচরাচর এগিয়ে আসেন না। অথচ একটি সংগ্রহশালা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হবে কি না, তা অনেক সময় নিরাপত্তায় বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে।

তার ভাষায়, ‘আমরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অমূল্য বলতে পারি না, অথচ সেটির সুরক্ষাকে ঐচ্ছিক ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না।’

এদিকে, ডারহাম এখনো মনে করেন, ল্যুভরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে। সম্প্রতি জাদুঘরটি পরিদর্শন করে তিনি কয়েকটি জানালায় ফাটল দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

গত বছরের চুরির প্রবেশপথে লোহার বেড়া ও ক্যামেরা বসানো হলেও পাশের জানালাগুলোর অবস্থা আগের মতোই রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

ল্যুভর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

ডারহামের দাবি, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিরাপত্তা পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি এখনো সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন, তা দেখিয়ে দিতে প্রস্তুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট

জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাতে বিপন্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকটের ফলে জনজীবনে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি, বসতভিটা, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরগুনার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি, মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই জেলার বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদ এবং উপকূলীয় জনপদে বসবাসকারী মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং দুর্যোগের ঝুঁকি এই নির্ভরশীলতাকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে।

নদীভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক নদীতীরবর্তী মানুষ। তালতলী, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়ী এলাকায় পায়রা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের একটি অংশে ফাটল ও মাটিধসের সৃষ্টি হয়। এর ফলে আশপাশের গ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীভাঙনে জমি হারানোর পাশাপাশি পরিবারগুলো হারায় বসতঘর, গাছপালা ও জীবিকার অবলম্বন। পুনর্বাসন ও নতুন করে ঘর নির্মাণের ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

বরগুনা জেলা শহরে বসবাসরত হযরত আলী হাওলাদার নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাতের শিকার। একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি জীর্ণ ঘরে তাঁর দিন কাটছে।

তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, 'একসময় নিজের ঘরবাড়ি ছিল, সংসার চলত। কখনো ভাবিনি নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য জায়গায় এসে এভাবে থাকতে হবে। নদীভাঙনে সব হারানোর পর আগের অবস্থায় আর ফিরতে পারিনি। এখন এই ছোট, জীর্ণ ঘরেই দিন কাটে। আগে নিজের জমি ও বাড়ি নিয়ে যে নিশ্চিন্ত জীবন ছিল, এখন সেই নিশ্চয়তা নেই।'

হযরত আলীর মতো নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ শুধু জমি বা ঘর হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে হারিয়ে যায় সঞ্চয়, সামাজিক অবস্থান, পরিচিত পরিবেশ এবং নতুন করে জীবন গড়ার সামর্থ্য। স্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে বাধ্য হন।

লবণাক্ততা বরগুনার আরেকটি বড় সংকট। উপকূলীয় কিছু এলাকায় পুকুর, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ পানীয় জল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বরগুনার বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে লবণাক্ততার ঝুঁকি ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। নিরাপদ পানির উৎস নির্ধারণে স্থানভিত্তিক পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা। পানির সংকটে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। দূর থেকে পানি সংগ্রহ এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার জরিনা বেগম সেই সংকটেরই একজন ভুক্তভোগী। পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে তাঁকে দূরের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ঘরের অন্যান্য কাজ সামলানোর পাশাপাশি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, 'সংসারের রান্নাবান্না, খাওয়া আর ছেলেমেয়েদের জন্য নিরাপদ পানি জোগাড় করতে অনেক কষ্ট হয়। কাছাকাছি সব জায়গার পানি পান করার উপযোগী নয়। তাই দূরের উৎস থেকে পানি আনতে হয়। পানি সংগ্রহ করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। আমাদের এলাকায় নির্ভরযোগ্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না।'

নিরাপদ পানির অভাব উপকূলীয় নারীদের ওপর বাড়তি শ্রমের বোঝা তৈরি করছে। একই সঙ্গে পানির গুণমান নিশ্চিত না হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী উৎস তৈরি এবং বিদ্যমান উৎসগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা তাই জরুরি।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কৃষিতেও পড়ছে। লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ফসল, বীজতলা, পুকুর এবং গবাদিপশুর ক্ষতি হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকের আয় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

তালতলী উপজেলার আবদুল করিম নামের এক কৃষকের অভিজ্ঞতা এই অনিশ্চয়তার চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, জমিতে লবণাক্ততার প্রভাব এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। উৎপাদন খরচ উঠে না। সংসার চালানো ও পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদের অর্থ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

আবদুল করিম বলেন, 'জমিতে ঠিকমতো ফসল না হলে আমাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। চাষ করতে আগে টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টি আর জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে ফসল নষ্ট হলে সেই টাকা আর ওঠে না। তখন ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। জমি আছে, কিন্তু জমি থেকে আগের মতো আয় হয় না। নেই জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা।'

কৃষকের এই সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের সম্প্রসারণ, মাটির লবণাক্ততা পরীক্ষা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের সময়োপযোগী পরামর্শ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বরগুনার জেলেদের জীবনেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে না পারলে আয় বন্ধ থাকে। নৌকা ও জালের ক্ষতি হলে নতুন করে কাজ শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া কিংবা জেলেদের আয়হানির সব কারণকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা না গেলেও অতিরিক্ত আহরণ, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বাজারদর ও পরিচালন ব্যয়ের প্রভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণাতেও পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি করছে। বরগুনা সদরের বড় লবণগোলা জামে মসজিদের ইমাম মো. নজরুল ইসলাম মনে করেন, ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও সময়ের পরিচিত ছন্দে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, 'ছয় ঋতুর বাংলাদেশের যে পরিচিত রূপ আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, এখন তার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক অমিল মনে হয়। কখনো দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরম, কখনো অসময়ে বৃষ্টি, আবার শীতও ঠিক সময়ে অনুভব করা যায় না। প্রকৃতির পরিবর্তন দেখে আগে অনেকটা বোঝা যেত কোন ঋতু চলছে। এখন সেই স্বাভাবিক ছন্দ যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।'

ইমাম মো. নজরুল ইসলামের এই পর্যবেক্ষণ উপকূলের মানুষের আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে। দুর্যোগের পর পানির উৎস দূষিত হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত গরমে শ্রমজীবী মানুষ অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়েন। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ব্যাহত হয়। বারবার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আয় কমে গেলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্য ব্যয়ের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা, বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধ, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসন, লবণাক্ততা মোকাবিলা, বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং সরকারি সেবা জোরদার করা জরুরি।

বরগুনার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণ, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয় ও পুনর্বাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের দায় একা উপকূলের মানুষের নয়, অথচ এর ক্ষতির ভার তাদেরই বেশি বহন করতে হচ্ছে। নদী, সাগর ও কৃষিজমিনির্ভর বরগুনার মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ৩ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


মাগুরায় ৩ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত মেসার্স সীমান্ত ব্রিকস, মেসার্স নদী ব্রিকস এবং মেসার্স নাবা ব্রিকস নামক তিনটি ইটভাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রসিকিউটর কমল কুমার বর্মণ, যিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মাগুরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে যখন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়, তখন উল্লিখিত তিনটি ইটভাটাকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধনী ২০১৯) এর ৪, ৫ ও ৬ ধারার বিধান লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, ১৪, ১৫ ও ১৬ ধারায় ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাগুরা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। অভিযানে অংশগ্রহণ করে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%