শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৫ এম
ওমানের উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজটি ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে আগুনের কবলে পড়ে। এ সময় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাইরে যাচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তায় ইউকেএমটিও জানায়, তৃতীয় একটি পক্ষ তাদের জাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুন লাগার ঘটনায় জাহাজের নাবিক ও অন্যান্য ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আরও জানা যায়নি, আগুনের কারণে সমুদ্রের পরিবেশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা।
ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইউকেএমটিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে, কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। একই দিনে চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুক শহরে হামলায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিনে একের পর এক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে আবারও শান্তি আলোচনা শুরুর আশা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব হামলার কোনো যুক্তি নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কোনো ব্যাখ্যাও থাকতে পারে না।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে শহরের কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত হন এবং কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়। দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন সবাই উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অপেক্ষায়, তখনই রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃত।
জেলেনস্কি আরো জানান, ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে তিনি মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ওই অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে শহরটি যুদ্ধের মধ্যে আটকে রয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই পক্ষই জানিয়েছে, ওই এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরটিতে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে খেরসনে যুদ্ধবিরতি হলেও ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।
ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া হামলা বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় জেট ইঞ্জিনচালিত একটি ড্রোন প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মরদেহ ও বিস্ফোরণের ধাতব টুকরা। মেঝেতে জমে ছিল রক্ত। এ সময় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছিল। এর মধ্যেই পুলিশ কালো ব্যাগে মরদেহ সরিয়ে নিচ্ছিল। স্টেশনের নিচে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী স্বিতলানা শেরবাক। তিনি বলেন, ‘আর এসব কেন? তারা আসলে কী অর্জন করতে চাইছে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’
দিনিপ্রো শহরের আরেকটি হামলায় শিক্ষার্থীদের একটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবারের হামলায় শহরটির তিন লাখ ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় নিয়মিত বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন। তবে মস্কো সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২৩ জন, যাদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রিঝিনস্কি বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষ ছিলেন। তারা কাজে যাচ্ছিলেন এবং প্রতিদিনের মতো নিজেদের কাজ করছিলেন।
মধ্য ইউক্রেনের ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবনে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন। আঞ্চলিক গভর্নর এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলায় কয়েকটি ব্যক্তিগত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে তিনটি পৃথক হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার ড্রোন। শহরের কয়েকটি বাসে এসব ড্রোন আঘাত হানে। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালানো হলো। আগামী মাসে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টা কিরিলো বুদানভসহ দেশটির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিনে দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাদিসে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোও রয়েছে।
এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)
জুমার দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিম্নে আলোচনা করা হলো—
১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তৃতীয়ত, এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চতুর্থত, এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন, যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পঞ্চমত, এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)
২. জুমার দিন ফজরের নামাজে তিলাওয়াত
জুমার দিনে ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা তিলাওয়াত করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)
জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করার কারণ হলো, এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। তাই এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
৩. জুমার দিন গোসল করা
জুমার দিনে গোসল করা এবং আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা
জুমার দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)
৫. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা
জুমার দিনে মসজিদে আগে প্রবেশ করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)
৬. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)
৭. খুতবা শোনা ও জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে জুমার নামাজ আদায় করা। সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)
৮. জুমার নামাজে নির্ধারিত সুরা পাঠ করা
নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)
কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।
৯. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় রয়েছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
১০. সুরা কাহাফ পাঠ
জুমারের অন্যতম আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)
১১. গুনাহ মাফের বিশেষ আমল
সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
১২. দরুদ পাঠ
জুমার দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা চলছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে হেফাজতে নিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপ তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার কাছে আর বিস্তারিত কিছু জানা নেই।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে তার বাসার নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও হাত মেলানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার ওই সিসিটিভি ফুটেজে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়।
তাহসিফের পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে ওই ব্যক্তির দেখা হয়। হাত মেলানোর পর তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তারা ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর তারা বাসায় ফিরে খাবার খান। এরপর সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন দীপ। তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের ভূমিকা কী, তা তদন্তসাপেক্ষ।
এর আগে, ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের আশঙ্কা, তার ছেলেকে হত্যার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও কেনাকাটা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি।
তাহসিফের বাবা বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি মেসেজ পেয়েছিলেন তারা। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা। তার ভাষ্য, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।
তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময় আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাহসিফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। দীর্ঘকাল ধরে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৯ম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৪২, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান স্কোর ওঠানামা করতে পারে।
তালিকার শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের রিয়াদে দূষণের মাত্রা আবারো ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রিয়াদের বায়ুমানের স্কোর ২১৭, যা শহরটির বাসিন্দাদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত।
এদিকে, বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর তালিকায় পাঁচটি দেশের নাম রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের মুম্বাই, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, চীনের সাংহাই ও ইরাকের বাগদাদ।
বাংলাদেশ ছাড়া আরও ১১টি দেশের বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- কাজাখস্তানের আলমাতি, পাকিস্তানের করাচি, উজবেকিস্তানের তাসকেন্ট, কঙ্গোর কিনসাসা, চীনের গুয়াংজু ও হাংজু, ভিয়েতনামের হেনোয় ও হো চি মিন সিটি, নেদারল্যান্ডসের রোটারদাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতের কুয়েত সিটি।
একটি শহরের বাতাসের মান কতটা নির্মল বা দূষিত, তাৎক্ষণিকভাবে জানায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য হয়। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মান বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে বিবেচিত।
বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এ অবস্থায় দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা এবং বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ