ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুষ্টিয়া শহরে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে


কুষ্টিয়া শহরে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে

এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টির ফলে কুষ্টিয়া শহরের অধিকাংশ স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক এবং অলিগলিতে কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও গোড়ালি সমান পানি জমে যায়। এতে সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে শহরে যান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে শহরের এনএস রোড, কোর্টপাড়া, কলেজ মোড় এবং হাসপাতাল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও সংযোগস্থলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কার্যত থমকে যায়। পানিতে সড়ক তলিয়ে থাকায় কোথায় খানাখন্দ আর কোথায় সমতল তা বুঝতে না পেরে পথচারীরা প্রতিনিয়ত হোঁচট খান।

মোটরসাইকেল চালক ও রিকশাযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। অনেককে বাধ্য হয়ে জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে পানি জমে থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে আসে। বিশেষ করে নিচু এলাকার সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে গেলেও জলাবদ্ধতা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে, যা শহরের একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং সড়কের স্থায়িত্ব কমে গিয়ে যান চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শহরের এনএস রোডে পথচারী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আজ মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তার যে হাল হয়েছে, তাতে হাঁটাচলাই কঠিন। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা না করলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।" কলেজপড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার জানান, বৃষ্টির মধ্যে বের হয়ে নোংরা পানিতে তার পোশাক ও জুতা ভিজে গেছে। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, "সামান্য বৃষ্টিতে এই হাল হলে টানা বর্ষণে শহরের কী অবস্থা হবে।" রিকশাচালক আব্দুল হালিম জানান, পানিতে ডুবে থাকা রাস্তার গর্ত বুঝতে না পারায় রিকশা চালাতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। মোস্তাক আহমেদ নামের আরেক বাসিন্দা জানান, "ভারী বৃষ্টি হলেই শহর পানিতে তলিয়ে যায়, অথচ বছরের পর বছর এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।"

এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় মোট ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো কুষ্টিয়ায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

জনদুর্ভোগ ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, "বর্তমানে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টি থামার পর সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি সরে যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ড্রেনের সংস্কার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেলে আগামীতে শহরে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।"

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজহারী পেলেন জাকির নায়েকের কাছ থেকে ‘কিসওয়াতুল কাবা’ উপহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


আজহারী পেলেন জাকির নায়েকের কাছ থেকে ‘কিসওয়াতুল কাবা’ উপহার

বাংলাদেশের ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী মালয়েশিয়ায় প্রখ্যাত ইসলামী আলোচক ও দায়ী ড. জাকির নায়েকের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎ শেষে বিদায় নেওয়ার সময়, ড. জাকির নায়েক তাকে ‘কিসওয়াতুল কাবা’ আতর উপহার দেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। পোস্টে তিনি ড. জাকির নায়েকের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ করেন।

পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, ‘মালয়েশিয়ায় ড. জাকির নায়েকের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিদায় লগ্নে তিনি ‘কিসওয়াতুল কাবা’ আতর উপহার দিলেন।’

পোস্টের শেষে তিনি বিশ্বের সকল দায়ীর নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেন। তিনি লেখেন, ‘দুনিয়ার সব দায়ীদের আল্লাহ তায়ালা নিরাপদে রাখুন।’

ছবিতে দেখা যায়, মিজানুর রহমান আজহারী ও ড. জাকির নায়েক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় আজহারীর হাতে একটি উপহারের প্যাকেটও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবিতে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল মারামারি, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


রাবিতে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল মারামারি, আহত ৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন খেলোয়াড় আহত হন, যারা দুই বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে গড়ায়। ইতিহাস বিভাগ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচ শেষে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড়দের উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় জীম ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের তানভীর আহত হন।

ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় সানাউল্লাহ রাফসান জানান, "ম্যাচের শুরু থেকেই চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন। তবে আমরা সেটাকে ম্যাচেরই একটি অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম।" তিনি আরও বলেন, "ম্যাচ জেতার পর আমরা যখন উদযাপন করছিলাম, তখন তারা সেটা নিতে পারেনি। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় হৃদয় আমাদের এক খেলোয়াড়কে বুট দিয়ে আক্রমণ করেন। এতে আমাদের এক খেলোয়াড়ের মাথা ফেটে যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় তানভীর জামান বলেন, "ইতিহাস বিভাগ ম্যাচ জিতেছে, আমরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু ম্যাচ জেতার পরই ইতিহাস বিভাগের গ্যালারি থেকে আমাদের গোলকিপারের ওপর ইট নিক্ষেপ করা হয়।" তিনি জানান, "ওই ইটটি আমাদের গোলকিপার ইতিহাস বিভাগের অধিনায়ককে দেখাতে গেলে তারা দাবি করে, আমাদের খেলোয়াড় নাকি ইট নিয়ে তাদের মারতে গিয়েছেন। তখন তাদের সব খেলোয়াড় মিলে আমাদের গোলকিপারের ওপর আক্রমণ করে। পরবর্তীতে আমরা ছুটে গেলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গ্যালারি ভেঙে আমাদের দর্শকদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ বলেন, "খেলা শেষে মারামারির কথা শুনে আমরা দ্রুত স্টেডিয়ামে চলে আসি। খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্টেডিয়াম এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা মারামারির ঘটনায় জড়িত ছিল, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৪৮৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৪৮৪

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুর কারণে মোট প্রাণহানি বেড়ে ১৭৬ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে ৪ জন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। অন্যজন রংপুর বিভাগের। অপরদিকে, এক দিনে সর্বাধিক ২৫২ জন ডেঙ্গু রোগী খুলনা বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া, এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২১১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২, ঢাকা বিভাগে ১৯০, রাজশাহী বিভাগে ১০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪, রংপুর বিভাগে ৩৫ এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গিয়েছিলেন, কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৭ দিনে ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঢাকা বিভাগে ঘটেছে। দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩২ জন, ময়মনসিংহে ১৮, চট্টগ্রামে ১৬, বরিশালে ১৩, রাজশাহীতে ৮, রংপুরে ৪ এবং সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের নতুন নির্দেশনা

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করবে। অন্যদিকে, গ্রাহক পর্যায়ে এই স্কিমের আওতায় ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ বা ‘ক্লোজড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিস সেক্টর ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম’-এর আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম গঠন করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জুন ও ৭ জুলাই পৃথক সার্কুলার ও সার্কুলারের মাধ্যমে এই স্কিম-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রদান করা হয়েছিল। এবার স্কিমটির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে।

বড় শিল্প নয়, ‘শিল্প’ হিসেবে বিবেচনা

সংশোধিত নির্দেশনায় প্রথমেই পরিভাষায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের নির্দেশনার বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘শিল্প’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় ‘বৃহৎ শিল্প’ উল্লেখ থাকার জায়গায় এখন ‘শিল্প’ শব্দটি প্রযোজ্য হবে।

ব্যাংক পর্যায়ে সুদ ৪ শতাংশ

স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণ করবে, তার বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এ সুদ পরিশোধ শুরু হবে না। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের ছয় মাস পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ প্রদান শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে। ফলে স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলোর প্রাক-অর্থায়নের ক্ষেত্রে ছয় মাসের একটি সময় সুবিধা রয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে সুদ সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ

গ্রাহক পর্যায়ে এই স্কিমের আওতায় ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো এই স্কিমের আওতায় গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, তার সুদের হার ৭ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার লক্ষ্যে ঋণ বিতরণের ছয় মাস পর থেকে সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায়ের আওতায় থাকবে।

গ্রেস পিরিয়ড শেষে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাক-অর্থায়ন নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করার পর নির্ধারিত ছয় মাসের সময়সুবিধা পাবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

তিন বছরের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ

নতুন নির্দেশনায় স্কিমের মেয়াদ ও প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কিমের আওতায় তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদ কালীন অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। ফলে স্কিম চালুর পর নির্দিষ্ট একটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তহবিলের প্রাপ্যতা এবং স্কিমের তিন বছরের মেয়াদের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এখন স্কিমটির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করেছে। সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনার ফলে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয় পর্যায়ের সুদহার, সুদ আদায়ের সময় এবং আবেদন করার সময়সীমা আরও স্পষ্ট হলো। বিশেষ করে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ এবং ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণের ফলে স্কিমটির আওতায় ঋণ বিতরণের কাঠামো নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%