শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ এম
প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। ইতিহাস আমাদের সামনে তুলে ধরে ভালো-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রথম অর্জন কিংবা মানবসভ্যতার অভিশাপ ও আশীর্বাদের নানা দিক। ইতিহাসই আমাদের নতুন নতুন দিগন্তের দিকে পথ দেখায়।
আজ ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার), ২০২৬। ইতিহাসের দিক থেকে এই দিনটি নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আসুন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘটনাবলি
৪৫৬ সালে রিসিমার পিয়াচেনৎসায় অ্যাভিটাসকে পরাজিত করে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতি হন।
৬৯০ সালে উ জে তিয়ান চীনের প্রথম সম্রাজ্ঞী হন। তিনি চীনের ইতিহাসে একমাত্র সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত।
৯১২ সালে তৃতীয় আবদুর রহমান কর্ডোভার অষ্টম আমির হন।
৯৫৫ সালে রাজা প্রথম অটো বর্তমান মেকলেনবুর্গ-ফরপোমার্নে স্লাভ বিদ্রোহ দমন করেন।
১৩১১ সালে ভিয়েনা কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
১৩৮৪ সালে জাদউইগা পোল্যান্ডের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন, যদিও তিনি একজন নারী ছিলেন।
১৫৯০ সালে ভেনোসার যুবরাজ কার্লো জেসুয়ালদো তার স্ত্রী ও তার প্রেমিককে হত্যা করেন।
১৭১০ সালে ব্রিটিশ সৈন্যরা পোর্ট রয়্যাল দখল করে।
১৭৩৬ সালে গণিতবিদ উইলিয়াম হুইস্টনের ভবিষ্যদ্বাণীকৃত ধূমকেতু পৃথিবীতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়।
১৭৫৬ সালে মনিহারীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছে শওকত জং পরাজিত ও নিহত হন।
১৭৫৭ সালে অস্ট্রিয়ার সৈন্যরা বার্লিন দখল করে।
১৭৮০ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের নেতৃত্বে রয়্যালটন অভিযান নিউ ইংল্যান্ডে শেষ আদিবাসী অভিযান হিসেবে পরিচালিত হয়।
১৭৮০ সালে ১৭৮০-এর মহা হারিকেন ষষ্ঠ দিনে শেষ হয়, এতে লেসার অ্যান্টিলিসের ২০,০০০ থেকে ২৪,০০০ বাসিন্দা নিহত হন।
১৭৯৩ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় রানী মারি আঁতোয়ানেতকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৭৯৩ সালে প্রথম জোটের যুদ্ধের ভাতিনি যুদ্ধে ফরাসি বিজয়ের ফলে অস্ট্রিয়া মোবেজ অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয়।
১৮০৫ সালে তৃতীয় জোটের যুদ্ধের সময় নেপোলিয়ন উলমে অস্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে ঘিরে ফেলেন।
১৮১৩ সালে ষষ্ঠ জোট চার দিনব্যাপী লাইপজিগের যুদ্ধে নেপোলিয়নকে আক্রমণ করে।
১৮১৫ সালে ওয়াটারলু যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
১৮১৭ সালে ইতালীয় অভিযাত্রী ও প্রত্নতাত্ত্বিক জোভান্নি বেলজোনি রাজাদের উপত্যকায় প্রথম সেতির সমাধি আবিষ্কার করেন।
১৮১৭ সালে সিমোন বলিভার ভেনেজুয়েলায় বর্ণপ্রথাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ম্যানুয়েল পিয়ারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
১৮২৯ সালে আমেরিকার প্রথম আধুনিক ট্রিমন্ট হোটেল উদ্বোধন করা হয়।
১৮৩৪ সালে আগুনে লন্ডন পার্লামেন্টের অনেক মূল্যবান দলিল পুড়ে যায়।
১৮৩৬ সালে গ্রেট ট্রেকের সময় আফ্রিকানার ভোর্ট্রেকাররা মাতাবেলে আক্রমণ প্রতিহত করে, তবে তাদের গবাদি পশু হারায়।
১৮৪১ সালে কানাডা প্রদেশে কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৪৩ সালে উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিল্টন কোয়াটারনিয়ন আবিষ্কার করেন, যা জটিল সংখ্যার ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা।
১৮৪৬ সালে উইলিয়াম টি. জি. মর্টন একটি অস্ত্রোপচারের সময় ইথার অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন।
১৮৫৯ সালে বিলোপবাদী জন ব্রাউন ও তার সমর্থকরা হার্পার্স ফেরিতে অভিযান শুরু করেন।
১৮৬৭ সালে আলাস্কা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।
১৮৬৯ সালে বিখ্যাত আমেরিকান প্রতারণা কার্ডিফ জায়ান্ট আবিষ্কৃত হয়।
১৮৬৯ সালে গার্টন কলেজ, কেমব্রিজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ইংল্যান্ডের নারীদের জন্য প্রথম আবাসিক কলেজ।
১৮৭৫ সালে ইউটার প্রোভোতে ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৮২ সালে নিকেল প্লেট রেলপথ ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
১৮৯১ সালে ভালপারাইসোতে মার্কিন নাবিকদের ওপর হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিলির মধ্যে কূটনৈতিক সংকট দেখা দেয়, যা প্রায় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়। লর্ড কার্জন প্রথম বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করলে পূর্ববঙ্গের জন্ম হয় এবং সারা বাংলায় এর বিরুদ্ধে অরন্ধনসহ প্রতিবাদ হয়।
১৯০৫ সালে স্বদেশি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র কলকাতার ফেডারেশন হলের (ভগিনী নিবেদিতা প্রদত্ত নাম- মিলন মন্দির) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আনন্দমোহন বসু।
১৯০৯ সালে উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফ্ট ও পোরফিরিও দিয়াস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে প্রথম শীর্ষ বৈঠক করেন। তারা অল্পের জন্য হত্যাচেষ্টা থেকে রক্ষা পান।
১৯১৫ সালে রাজকীয় ব্রিটেন বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসিটিতে প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রক ক্লিনিক উদ্বোধন হয়।
১৯১৯ সালে অ্যাডলফ হিটলার জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় প্রথম জনসমক্ষে ভাষণ দেন।
১৯২৩ সালে ওয়াল্ট ডিজনি ও তার ভাই রয় মিলে দি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৩৪ সালে চীনে চিয়াং কাই শেকের বিরুদ্ধে এক লক্ষ সেনাসহ মাও সেতুংয়ের ৯ হাজার মাইল লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নং ৬০৩ স্কোয়াড্রন আরএফ ব্রিটেনে লুফটওয়াফের প্রথম বিমান হামলা প্রতিহত করে।
১৯৪০ সালে পোল্যান্ডে ওয়ারশ ঘেটো প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৩ সালে বাংলায় ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ৪০ হাজার লোকের জীবনাবসান ঘটে।
১৯৪৩ সালে ইতালিতে রোমান ঘেটোতে অভিযান পরিচালিত হয়।
১৯৪৫ সালে কানাডার কুইবেকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৬ সালে নুরেমবার্গ বিচার চলাকালে আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত দশজন আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৯৪৭ সালে ফিলিপাইন যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে টার্টল দ্বীপপুঞ্জ ও মাংসি দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসন গ্রহণ করে।
১৯৪৯ সালে চীন ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৯ সালে গ্রিক কমিউনিস্ট পার্টি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, এর ফলে গ্রিক গৃহযুদ্ধ শেষ হয়।
১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান রাওয়ালপিন্ডিতে নিহত হন।
১৯৫৩ সালে কিউবার বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো তার ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে ভাষণ দেন এবং ফুলহেনসিও বাতিস্তা সরকার কর্তৃক মনকাডা ব্যারাকে হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
১৯৬২ সালে কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট শুরু হয়: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে ১৪ অক্টোবর ইউ-২ বিমানের তোলা পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি সম্পর্কে জানানো হয়।
১৯৬৪ সালে চীনে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
১৯৬৪ সালে লিওনিদ ব্রেজনেভ সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হন, অন্যদিকে আলেক্সেই কোসিগিন সরকার প্রধান হন।
১৯৬৮ সালে টমি স্মিথ ও জন কার্লোস অলিম্পিকে ব্ল্যাক পাওয়ার স্যালুটে অংশ নেওয়ায় মার্কিন অলিম্পিক দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
১৯৬৮ সালে জ্যামাইকার কিংস্টন রডনি দাঙ্গায় কেঁপে ওঠে, যা ওয়াল্টার রডনিকে দেশ থেকে নিষিদ্ধ করার কারণে ঘটে।
১৯৬৮ সালে ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম জাপানি ব্যক্তি হন।
১৯৭০ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী পিয়ের ট্রুডো অক্টোবর সংকটের সময় যুদ্ধ ব্যবস্থা আইন জারি করেন।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জর্ডান।
১৯৭৩ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ও লে ডুক থো নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭৫ সালে ইন্দোনেশীয় সৈন্যরা পর্তুগিজ তিমুরে অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকদের একটি দল বালিবো ফাইভকে হত্যা করে।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের তিন বছর বয়সী রহিমা বানু প্রাকৃতিকভাবে সংক্রমিত গুটিবসন্তের শেষ পরিচিত রোগী।
১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলীয় জোট সরকারের বার্ষিক বাজেটের তহবিল স্থগিত করার পক্ষে ভোট দিলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়।
১৯৭৮ সালে কার্ডিনাল ক্যারল ভয়তিলা পোপ দ্বিতীয় জন পল হিসেবে পোপ নির্বাচিত হন, তিনি ১৫২৩ সালের পর প্রথম অ-ইতালীয় পোপ হন।
১৯৮৪ সালে ডেসমন্ড টুটু নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯১ সালে জর্জ হেনার্ড টেক্সাসের কিলিনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৩ জনকে হত্যা ও ২০ জনকে আহত করেন।
১৯৯৫ সালে ওয়াশিংটন, ডি.সি.তে মিলিয়ন ম্যান মার্চ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৮,৩৭,০০০ মানুষ অংশ নেয়।
১৯৯৫ সালে স্কটল্যান্ডে স্কাই সেতু উদ্বোধন করা হয়।
১৯৯৬ সালে গুয়াতেমালা সিটিতে একটি ফুটবল ম্যাচে পদদলিত হয়ে ৮৪ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হন।
১৯৯৭ সালে এক কোটি ৩৮ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগে সুইস তদন্তকারী কর্তৃক পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও তার পরিবার বর্গের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে।
১৯৯৮ সালে লন্ডনে চিলির সাবেক স্বৈরশাসক অগুস্তো পিনোশে গ্রেফতার হন।
১৯৯৯ সালে ৭.১ মাত্রার হেক্টর মাইন ভূমিকম্প দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আঘাত হানে।
২০০২ সালে প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের স্মরণে মিশরে বিবলিওথেকা আলেকজান্দrina উদ্বোধন করা হয়।
২০১৩ সালে লাও এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৩০১ লাওসের পাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়, এতে ৪৯ জন নিহত হন।
২০১৭ সালে ওফেলিয়া ঝড় যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে আঘাত হানে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটায়।
২০২০ সালে প্রথমবারের মতো কোন বেসরকারি সংস্থা হিসেবে স্পেস এক্স আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পৌঁছে দেয়।
জন্ম
১৪৩০ - দ্বিতীয় জেমস (স্কটল্যান্ড)।
১৭৫৮ - নোয়া ওয়েবস্টার, মার্কিন অভিধান লেখক, পাঠ্যপুস্তক লেখক ও বানান সংস্কারক।
১৮৪০ - কাউন্ট কুরোদা কিয়োতাকা, জাপানি রাজনীতিবিদ ও ২য় প্রধানমন্ত্রী।
১৮৫৪ - অস্কার ওয়াইল্ড, আয়ারল্যান্ডীয় নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং কবি।
১৮৬১ - খেতড়ির রাজা অজিত সিং, স্বামী বিবেকানন্দের একনিষ্ঠ অনুগামী ভক্ত ও পৃষ্ঠপোষক।
১৮৬৩ - স্যার অস্টেন চেম্বারলেইন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও চ্যান্সেলর।
১৮৭৬ - জিমি সিনক্লেয়ার, প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৮৮৮ - ইউজিন ওনিল, মার্কিন নাট্যকার।
১৯০৮ - এনভার হোক্সা, আলবেনিয়া এন কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ।
১৯১৮ - লুই আলত্যুসের, ফরাসি মার্ক্সবাদী দার্শনিক।
১৯২১ - সীতা রাম গোয়েল, ভারতীয় ইতিহাসবিদ, প্রকাশক ও লেখক।
১৯২৫ - অ্যাঞ্জেলা ল্যান্সবারি, ব্রিটিশ-আইরিশ-মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯২৭ - গুন্টার গ্রাস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক, চিত্রকর, ভাস্কর এবং নাট্যকার।
১৯২৯ - ফের্নান্ডা মন্টেনেগ্রো, ব্রাজিলীয় অভিনেত্রী।
১৯৪৬ - নবীন পট্টনায়ক, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ওড়িশা।
১৯৪৮ - হেমা মালিনী, ভারতীয় অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক ও রাজনীতিবিদ।
১৯৫৬ - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশি কবি, গীতিকার।
১৯৫৮ - টিম রবিন্স, মার্কিন অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, প্রযোজক ও সংগীতজ্ঞ।
১৯৬২ - ফ্লেয়া, অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান খাদ প্লেয়ার, গীতিকার ও অভিনেতা।
১৯৭০ - মেহমেট সচহল, জার্মান ফুটবলার ও ম্যানেজার।
১৯৭৫ - রাজীব খান্ডেলওয়াল, ভারতীয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৭৫ - জ্যাক ক্যালিস, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯৮৩ - রাহুল ব্যানার্জী, বাঙালি ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা।
১৯৮৬ - ডারক বেররিগটের, ডাচ ফুটবলার।
১৯৯০ - আমিনা সাট, জাপানি গায়ক।
১৯৯৭ - নাওমি ওসাকা, হাইতিয়ান-জাপানি টেনিস খেলোয়াড়।
মৃত্যু
৯৭৬ - দ্বিতীয় আল-হাকাম, উমাইয়া খলিফা।
১৩৫৫ - সিসিলির রাজা লুইস।
১৫৫৩ - লুকাস ক্রানাচ এল্ডার, জার্মান চিত্রকর ও খোদকার।
১৭৯১ - গ্রেগরি পটেমকিন, রাশিয়ান সাধারণ ও রাজনীতিবিদ।
১৭৯৩ - মারি অঁতোয়ানেত, ফরাসি বিপ্লবে নিহত ফ্রান্সের সম্রাট ষোড়শ লুই-এর স্ত্রী।
১৮৯৬ - মনমোহন ঘোষ, কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম বাঙালি ব্যারিস্টার।
১৯৫১ - লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
১৯৫৬ - জুলে রিমে, ফরাসি ব্যবসায়ী।
১৯৫৯ - জর্জ মার্শাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনানায়ক, সেনা প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং তৃতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
১৯৭৮ - ড্যান ডেইলি, মার্কিন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেতা।
১৯৮১ - রাধিকা মোহন মৈত্র, বিংশ শতাব্দীর সেরা সরোদবাদক।
১৯৮৭ - বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও কমিউনিস্ট নেত্রী মনোরমা বসু মাসিমা।
১৯৮৯ - কর্নেল ওয়াইল্ড, আমেরিকান অভিনেতা।
১৯৯১ - ভারতের কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রামী বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়।
১৯৯২ - বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক বাণী রায়।
১৯৯২ - শার্লি বুথ, মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৯৪ - সাহিত্যিক গজেন্দ্রকুমার মিত্র।
২০০৩ - আভনি আরবাস, তুর্কি চিত্রশিল্পী।
২০০৫ - উরসুলা হওেলস, ইংরেজ অভিনেত্রী।
২০০৭ - ডেবরা কার, স্কটিশ অভিনেত্রী।
২০১০ - বারবারা বিলিংসলির, আমেরিকান অভিনেত্রী।
২০২০ - প্রদীপ ঘোষ, বিশিষ্ট বাঙালি আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী।
২০২২ - দিলীপ মহলানবিশ, ওআরএস-স্রষ্টা ভারতীয় বাঙালি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
২০২৪ - আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদের সাবেক উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী।
অন্যান্য
বিশ্ব খাদ্য দিবস ৷
বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস ৷
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের এক ব্যতিক্রমী ইমাম। স্থানীয়দের কাছে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির নাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
তিনি চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে ভূঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা শুরু করেন। তার লাগানো শত শত গাছ এখন বড় হয়ে পথিকদের ছায়া দিচ্ছে।
গণমাধ্যমে তার এই উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পান বাবুল মিয়া।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইমামের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।"
রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে তার নিজ হাতে লাগানো শত শত তালগাছ এখন সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক পথ।
অনুভূতি প্রকাশ করে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমার এই কাজকে মূল্যায়ন করায় আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি।"
তিনি আরও বলেন, "এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজারই তালগাছের বীজ ও চারা। এই কাজকে আমি সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন গাছ লাগিয়ে যেতে চাই।"
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, "গাছ লাগানো নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ ধারাবাহিক কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ায় আমরাও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিসান্দ্রো মার্তিনেস ক্লাবের পরিচালকদের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও শাস্তি থেকে রেহাই পাননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে জরিমানা করার খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বর্তমান মৌসুমে ইউনাইটেড মাঠে খুব একটা ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারছে না। সব প্রতিযোগিতায় তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচে জয়হীন অবস্থায় রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মার্তিনেস দলের ব্যর্থতার জন্য ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গ্রীষ্মকালীন দলবদলে স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে যথেষ্ট উদ্যোগ ও অর্থ ব্যয় করেনি কর্তৃপক্ষ।
এমন মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে হয় মার্তিনেসকে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান। তিনি জানান, হারের হতাশা থেকেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এমন মন্তব্য করেছিলেন।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, ধর্মীয় চর্চা ও মানবিক বিকাশে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়া এবং হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্যোগে ছাত্রদল সবসময় সহায়তা করবে।
বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরা এলাকার মদিনাতুল উলুম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এতিমখানায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কোরআনের হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল পদ্ধতির কোরআন শরীফ ও সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। পরে তাদের সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত বলেন, "এই প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পৃথিবীর আলো দেখতে পান না। কিন্তু তাদের প্রতিভা, অধ্যবসায় ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ অনন্য। তাদের উৎসাহ ও সাহস জোগাতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমাজে ভূমিকা রাখতে পারেন।"
ছাত্ররাজনীতির মানবিক দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে চায় ছাত্রদল। আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।"
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ছাত্রদলের এই নেতা জানান, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া হাফেজরা ব্রেইল কোরআনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোরআন তিলাওয়াত ও আয়াত লেখার দক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্ব দিচ্ছে ছাত্রদল। এ সময় তিনি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিম্বার্লি গিলফয়েলের বিদায়ের ঘটনা ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তিনি গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির প্রথম সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচারকালে তার বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে গিলফয়েলের এই বাধ্যতামূলক পদত্যাগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই নারী—তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন অথবা তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর শীর্ষপদ থেকে বিদায় নেওয়া সর্বশেষ নারী গিলফয়েল। এর আগে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন আট নারী কর্মকর্তার মধ্যে চারজন পদত্যাগ করেন অথবা বরখাস্ত হন। তারা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-দেরেমার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি এল. নোয়েম এবং জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। তাদের প্রত্যেকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুরুষ কর্মকর্তা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগের অনুমোদন নিয়ে ভোটাভুটির আগে নিজের এক লাখ ডলারের আমেরিকান এক্সপ্রেস বিল পরিশোধ করতে এক দাতাকে অনুরোধ করেছিলেন গিলফয়েল। এরপর তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গিলফয়েল ‘ভালো কাজ করলেও’ প্রতিবেদনে যা পড়েছেন তা তার ‘পছন্দ হয়নি’।
গিলফয়েল ট্রাম্পের অন্যতম একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। একসময় তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে গিলফয়েলের বাগ্দানও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গিলফয়েলের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি আমার পরিবারের সদস্য ছিলেন না।’ এরপর যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, অনেক আগে তিনি আমার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা নারী কর্মকর্তারা পুরুষদের তুলনায় বেশি বিতর্কে জড়ান—এমন কোনো চিত্র নেই। বরং তার মনোনীত পুরুষ কর্মকর্তারাও বারবার সমালোচনা ও তাদের অপসারণের দাবির মুখে পড়েছেন।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলকে তার আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান, বান্ধবীর নিরাপত্তায় সোয়াট দল নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি বিমান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে উঠে এসেছে। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপে যারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে লুটনিকের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপে কথোপকথনের সময় গোপন যুদ্ধপরিকল্পনা প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। ওই কথোপকথনে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ।
ওই ঘটনার পর ট্রাম্প একজন পুরুষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ, যিনি ওই কথোপকথনে সাংবাদিককে যুক্ত করেছিলেন। তবে ওয়াল্টজের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কঠোর ছিল না। তাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ট্রাম্প এ পদে কংগ্রেসে তার দীর্ঘদিনের নারী মিত্র এলিস স্টেফানিককে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নিজেকে ‘আল্ট্রা মাগা’ যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়া স্টেফানিক শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন।
প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে একই লিঙ্গের এতজনের বিদায় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক।
রিগ্যানের আমল থেকে মার্কিন প্রশাসনে বৈচিত্র্যের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অনাবাসিক ফেলো ক্যাথরিন ডান টেনপাস। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি, যেখানে মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দফায় বিদায় নেওয়া সবাই একই লিঙ্গের—সবাই নারী।’
শীর্ষ পর্যায়ে নারী
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প যখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তখন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও ছিলেন। তিনি সুসি ওয়াইলসকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ নিয়োগ করেন। মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনিই প্রথম নারী। ক্যারোলিন লেভিটও ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। দুই ছোট সন্তানের লালন-পালনের জন্য গত আগস্টে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন আরেক নারী কেটি জাকারিয়া।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসন গঠন করেছেন। তার অসাধারণ দলের প্রত্যেক সদস্যকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয়কেই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে—তারা মার্কিন জনগণের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিতে আচ্ছন্ন ডেমোক্র্যাটদের মতো নন প্রেসিডেন্ট। তিনি মানুষের অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন।’
গত বছর নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে রিপাবলিকান দলের কোনো প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার তুলনায় আমার মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা বেশি।’
এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন পদগুলোতে মাত্র চারজন নারী দায়িত্বে রয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া নারী কর্মকর্তারা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে মনে হয়েছে।
এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি সামাল দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাম বন্ডি সমালোচনার মুখে পড়েন। কংগ্রেসের শুনানি ও টেলিভিশনেও তার ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ট্রাম্প।
কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যও ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে, ট্রাম্পের অনুমোদনে সরকারের কয়েক কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল বলে তার দেওয়া বক্তব্যটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে নোয়েমকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নোয়েমের এই বক্তব্য অস্বীকার করেন ট্রাম্প।
তুলসি গ্যাবার্ড অসুস্থ স্বামীর দেখাশোনার জন্য পদত্যাগ করলেও তার এ ঘোষণা এমন এক সময়ে আসে, যখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি তৈরি করেছিল—ট্রাম্পের এমন দাবির পক্ষে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ট্রাম্প ওই দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে গ্যাবার্ডের অবস্থান নিজের তুলনায় ‘অনেক বেশি নমনীয়’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
লরি শাভেজ-দেরেমার পদত্যাগ করেন একাধিক অভিযোগের জেরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে। অভিযোগ ছিল, তার দপ্তরে বিষাক্ত কর্মপরিবেশ ও চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছিল। এ ছাড়া এক কর্মীর সঙ্গে অনুচিত সম্পর্কে জড়ানো এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে নারী মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিদায়ে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিষয়টিতে স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড দেখেছেন বলে সমালোচনা করেছেন।
পাম বন্ডি ও ক্রিস্টি নোয়েমের বিদায়ের পর প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ‘তাহলে কি তার কাছে আর কোনো নারী নেই?’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পকে দেখে মনে হয়, নারী মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার সামর্থ্যই শুধু তার আছে।’
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেটও পিট হেগসেথকে পরবর্তী বিদায়ী কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চান বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন। প্রেসিডেন্টের বিদ্রূপের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু এই আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের আচরণ প্রসঙ্গে লেখেন, ‘আমি একটা ধরন দেখতে পাচ্ছি। অযোগ্য নারীদের তিনি অযোগ্য পুরুষদের তুলনায় অনেক দ্রুতই বিপাকে ফেলে দেন।’
গত এপ্রিলে কংগ্রেসের এক শুনানিতে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেডেলিন ডিন নারী-পুরুষের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে বাণিজ্য সচিব লুটনিককে তুলাধোনা করেন এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।
ডিন জানতে চান, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আপনার যে সম্পর্ক ছিল, তা এখনো অব্যাহত থাকায় প্রেসিডেন্ট কি উদ্বিগ্ন?’ জবাবে লুটনিক বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার যেসব কথোপকথন হয়, সেগুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব না।’
এরপর ডিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্যকে বরখাস্ত করেছেন—তিনজনই নারী। জেফরি এপস্টিনকে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যদি সামান্যতম উদ্বেগও থাকে, তাহলে আপনাকেও বরখাস্ত করা উচিত।’
ইন্ডিপেনডেন্ট উইমেনস ল সেন্টারের পরিচালক মে মেইলম্যান অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অনেক প্রভাবশালী নারী দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সুসি ওয়াইলসের পাশাপাশি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এরিকা শোয়ার্টজ এবং বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলনের কথা উল্লেখ করেন।
মেইলম্যান বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনে কনজার্ভেটিভ নারীদের নিঃসঙ্গতা নেই, বরং এখানে তাদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। নারী হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায়ই আপনি দলের অপরিহার্য সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ