বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০৩ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়ায় একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের সেফটি ট্যাংকির ভেতর সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাটি ঘটে।
মৃত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলেন জামাল হোসেন, যিনি বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। অপরজন হলেন মো. সোহাগ, যিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. চুন্নু মিয়ার ছেলে।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেনের নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের সেফটি ট্যাংকির ভেতর সেন্টারিংয়ের কাজ করছিলেন ওই দুই শ্রমিক। এসময় অক্সিজেনের অভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ওসি আরও জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জামাল হোসেন ও মো. সোহাগকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে ভারতে যাওয়ার সময় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তার গ্রেপ্তারকাজ সম্পন্ন হয়।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, কামাল আহমদ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গোয়াইনঘাটের তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছালে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং জৈন্তাপুর থানা পুলিশ একত্রে অভিযান পরিচালনা করে কামাল আহমদকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ‘তিনি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে আছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্য কোনো আইনি সমস্যা আছে কি না তাও দেখা হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আসাম রাজ্যে বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘকালীন বসবাসের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী এবং সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, "ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে।" তিনি আসামের সাম্প্রতিক উচ্ছেদের ঘটনাকে ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, "ভারত সরকার এসব পদক্ষেপকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি উদ্ধারের প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বাসস্থানের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।" তিনি উচ্ছেদ হওয়া মসজিদগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, "কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং তাদের জানমাল অনিরাপদ করে তোলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।" তারা মন্তব্য করে যে, ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা দিতে কেন্দ্র সরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
বিবৃতিতে ওলামা অ্যালায়েন্স আসামে উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের মূল কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়। তারা ভারতের সংবিধানে উল্লেখিত প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া, আসামের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসকক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের জন্য প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করার নির্দেশনা প্রদান করেছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি চিঠি সকল সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের জন্য অধিকারী বা যোগ্য না হয়েও অফিসকক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাঁড়াভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী, মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।
তবে কিছু অফিসে জাতীয় পতাকা সার্বক্ষণিকভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় পতাকার সঠিক আকার, অনুপাত ও রং বজায় না রেখে অফিসকক্ষের অভ্যন্তরে সজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর সরাসরি লঙ্ঘন। চিঠিতে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে অধীন দপ্তর এবং সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর তীরে বর্তমানে বিস্তৃত বালুচর দেখা যাচ্ছে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর এই চরাঞ্চল জেগে উঠেছে। যেখানে অন্য ফসল ফলানো কঠিন, সেই বালুময় জমিতে এখন বাদাম চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা এবং ভালো লাভের সম্ভাবনা নিয়ে চিনাবাদাম চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা। যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে বাদামের চাষের পাশাপাশি কৃষকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও বুনছেন। সঠিক পরিকল্পনা এবং কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলে বালুর বুকেই সচ্ছলতার হাসি ফুটবে।
সরেজমিনে যমুনা পাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচর এখন কৃষিকাজের কেন্দ্রবিন্দু। কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও সারি সারি জমিতে বীজ বুনতে দেখা যাচ্ছে। কেউ শ্রমিক নিয়ে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবার কোনো পরিবারের সব সদস্য মিলে বাদাম চাষে কাজ করছেন। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে তারা জীবিকার পথ খুঁজছেন।
স্থানীয়রা জানান, চরের উপরিভাগে বালুর আধিক্য থাকায় অন্য ফসল তেমন ফলানো সম্ভব হয় না। তাই কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকেরা এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেন। কাঁচা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর লাঙল দিয়ে জমিতে সারি তৈরি করে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পর তেমন পরিচর্যা ছাড়াই বাদামগাছ বেড়ে ওঠে।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার টাকায়। ফলে অল্প বিনিয়োগে ভালো আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চরাঞ্চলে।
তবে এই সম্ভাবনার পুরোটা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত বিঘা জমি অনাবাদি রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে বাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলাতে পারে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান স্থানীয় কৃষকেরা।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, বেলে-দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এই ফসলের জন্য উপযুক্ত। চরে বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। সার ও সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকেরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ