ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

সৌদিতে হামলা মানেই পাকিস্তানে হামলা: পাক ধর্মমন্ত্রী


সৌদিতে হামলা মানেই পাকিস্তানে হামলা: পাক ধর্মমন্ত্রী

পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো এবং ওমরাহযাত্রীদের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে ইসলামাবাদ, যা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আসে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউসুফ আরব নিউজকে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যরা, যারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১১ জন আহত হন।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

আরব নিউজকে ইউসুফ বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা থেকে আলাদা করে দেখে না। তিনি উল্লেখ করেন, “সৌদি আরবে যে-ই হামলা চালাক না কেন, আমরা তাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করি।”

তিনি আরও বলেন, “হারামাইন শরিফাইন (মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ) এবং হিজাজে মুকাদ্দাসকে (পবিত্র মক্কা ও মদিনা) দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চালানো হামলা কোনো মুসলমানই মেনে নিতে পারেন না।”

সৌদি আরবকে সহযোগিতায় পাকিস্তান বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইউসুফ ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলারও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব ধর্মপ্রাণ মানুষ কারো জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের

তিনি বলেন, “ওমরাহযাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মুসলমান হিসেবে এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ। যারা ওমরাহ বা হজ পালন করতে যান, তারা নিজেদের পাপের ক্ষমা চাইতে যান। তারা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে কিংবা কাউকে আক্রমণ করতে যান না।”

পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউসুফ বলেন, “সময় এলে সৌদি আরবের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্বের মুসলমানরা, বিশেষ করে পাকিস্তানের জনগণ জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সরকার ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা

সূত্র: আরব নিউজ

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান দাবি করেছে ফাতাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


পাকিস্তান দাবি করেছে ফাতাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, বর্ধিত পাল্লার ফাতাহ-২ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার, দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই তথ্য প্রকাশ করে। খবরটি জানানো হয়েছে জিওটিভি নিউজের মাধ্যমে।

আইএসপিআরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফাতাহ-২ এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ (ইআর) অস্ত্রব্যবস্থায় উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিকস ব্যবহার করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ গতিপথ এবং উড্ডয়নের সময় দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেছে। আইএসপিআর জানায়, বর্ধিত পাল্লার কারণে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ডের প্রধান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। কমান্ডার, ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নয়নে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের নিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করেন।

পরীক্ষার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং তিন বাহিনীর প্রধানেরা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

কিছু দিন আগে, পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ফাতাহ-৪ ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত পাল্লার সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে আইএসপিআর জানায়, উন্নত অ্যাভিওনিকস ও আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তিতে সজ্জিত ফাতাহ-৪ দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ নির্ভুলতায় আঘাত হানতে সক্ষম।

তবে, ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ও পরীক্ষার সফলতা সম্পর্কে এই তথ্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতির ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: জিওটিভি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই : রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে কোনো ফল লাভ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ আর কখনো ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রে পা দেবে না। একই সঙ্গে, তিনি বিএনপির সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে দেশের জনগণকে সচেতন রাখা যায়।

বুধবার সকালে ফরিদপুর-৪ আসনে সাংগঠনিক সফরের সময় ভাঙ্গা উপজেলায়, স্থানীয় যুবদল নেতা মেহেদী পারভেজ চন্দনের বাসভবনে স্বল্পসময়ের যাত্রা বিরতির সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এই বক্তব্য দেন।

যাত্রা বিরতির সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং সিনিয়র সহসভাপতি ওবায়দুল আলম সম্রাটসহ উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল জানান, ভাঙ্গায় যাত্রা বিরতি শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র উদ্যোগে চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির নেতা প্রবাসী আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উখিয়ার মাছকারিয়া শাপলা বিলে লাল শাপলার টানে দর্শনার্থীরা ছুটছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


উখিয়ার মাছকারিয়া শাপলা বিলে লাল শাপলার টানে দর্শনার্থীরা ছুটছেন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মাছকারিয়ার শাপলা বিল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। উখিয়া সদর থেকে দক্ষিণপাশে অবস্থিত এই মাছকারিয়া শাপলা বিল। এক সময় এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, যার কারণে স্থানীয়ভাবে এই বিলকে বলাহত মাছকারিয়া বা 'মাছের কাঁইজ্জা' বলা হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখানে মাছের সেই প্রাচুর্য আর দেখা যায় না। বর্তমানে বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলার দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। চারপাশের সবুজের সমারোহ ও শান্ত জলরাশির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। বিশেষ করে ভোরের কোমল আলোয় ফুটন্ত শাপলার সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলটির সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ফলে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসছেন।

নগরজীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাছকারিয়ার শাপলা বিলে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারো কাছে এটি অবসর কাটানোর স্থান, আবার কারো কাছে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সুযোগ। এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন এখানে শত শত নারী পুরুষ উপস্থিত হচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখে এখানে আসার জন্য আগ্রহী হয়েছেন। তবে বিলটির প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভোরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। এ সময় শাপলাগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত অবস্থায় থাকায় বিলের সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করা যায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "সত্যি বলতে, এটি একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। আমি বাইরে থাকি। ফেসবুক ও ইউটিউবে এই শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখেছি এবং এর কথা শুনেছি। তাই আজ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সন্ধ্যার দিকে আসায় সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারিনি। সকালে এলে ফুলগুলো আরও সুন্দরভাবে ফুটে থাকত। তবে এখানকার আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে। ইনশাআল্লাহ, আবারও আসার পরিকল্পনা রয়েছে।"

আরেক দর্শনার্থী জানান, তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একাধিকবার এই বিলে ঘুরতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, "এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমরা আনন্দিত।"

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা দেশের প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সৌন্দর্যের পরিচিত প্রতীক। জলাশয়ের বুকে ফুটে থাকা লাল শাপলা বর্ষা-পরবর্তী প্রকৃতিতে এক বিশেষ সৌন্দর্য যোগ করে। মাছকারিয়ার শাপলা বিলও সেই চিরচেনা বাংলার প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণে আগ্রহীদের জন্য স্থানটি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

তবে এ ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জরুরি। নির্বিচারে শাপলা তোলা, জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা কিংবা অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রমের কারণে যেন বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মাছকারিয়ার শাপলা বিলের সৌন্দর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকায় পর্যটন কার্যক্রমের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, লাল শাপলার মায়াবী রূপ আর শান্ত জলরাশি—সব মিলিয়ে উখিয়ার মাছকারিয়ার শাপলা বিল কক্সবাজারের পর্যটন আকর্ষণের একটি সম্ভাবনাময় সংযোজন হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিলটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় আটক ১২০ বস্তা সার বিক্রি, অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


নওগাঁয় আটক ১২০ বস্তা সার বিক্রি, অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা

নওগাঁর সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে রাতে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ডিএপি সার আটক করেছে স্থানীয়রা। মালিকবিহীন এই আটককৃত সার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করার পর বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার দুবলহাটিতে অবস্থিত সারের অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স। মঙ্গলবার রাতে ওই ডিলার পয়েন্টের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার গোডাউন থেকে দুটি ভটভটিতে ১২০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে গাড়ি দুটি থামিয়ে দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নসিমনের চালকেরা প্রথমে ওই ইউনিয়নের ইণ্টিতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে জেরার মুখে স্বীকার করে যে সারগুলো রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সার সংকটে ভুগছে, আর স্থানীয় ডিলার অধিক মুনাফার লক্ষ্যে সার অন্য জেলায় পাচার করছে- এমন খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি দুটি আটক করে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশকে খবর দেয়।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া এলাকার কিছু মানুষ ফোনে সার পাচারের বিষয়টি জানালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বস্তা ডিএপি সার দুটি ভটভটি নামক গাড়িতে পান। যেহেতু সারগুলোর মালিককে পাওয়া যায়নি, সেহেতু সারগুলো জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত সার বুধবার ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত সারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সারগুলো কোন ডিলারের নামে বরাদ্দ করা ছিল, সেই ডিলারের বিরুদ্ধেও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অরাজকতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন জানান, শতাধিক বস্তা সার অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ৬০ বস্তা করে দুটি গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে সারের ডিলার কিংবা তাঁর কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে না পাওয়ার কারণে সার আইন-২০০৬ অনুসারে সারভর্তি ভটভটি দুটি জব্দ করে দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ১২০ বস্তা সার সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ওই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের মাঝে চাহিদামাফিক বিক্রি করা হয়। আর সার বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়মকে মেনে নেওয়া হবে না। আগামীতে কোনো ডিলার কিংবা সার ব্যবসায়ীরা সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%