০২:২১ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মাছকারিয়ার শাপলা বিল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। উখিয়া সদর থেকে দক্ষিণপাশে অবস্থিত এই মাছকারিয়া শাপলা বিল। এক সময় এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, যার কারণে স্থানীয়ভাবে এই বিলকে বলাহত মাছকারিয়া বা 'মাছের কাঁইজ্জা' বলা হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখানে মাছের সেই প্রাচুর্য আর দেখা যায় না। বর্তমানে বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলার দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। চারপাশের সবুজের সমারোহ ও শান্ত জলরাশির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। বিশেষ করে ভোরের কোমল আলোয় ফুটন্ত শাপলার সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলটির সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ফলে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসছেন।
নগরজীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাছকারিয়ার শাপলা বিলে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারো কাছে এটি অবসর কাটানোর স্থান, আবার কারো কাছে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সুযোগ। এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন এখানে শত শত নারী পুরুষ উপস্থিত হচ্ছেন।
দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখে এখানে আসার জন্য আগ্রহী হয়েছেন। তবে বিলটির প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভোরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। এ সময় শাপলাগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত অবস্থায় থাকায় বিলের সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করা যায়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, নাগরদোলায় চড়ার সুযোগ নেই
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "সত্যি বলতে, এটি একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। আমি বাইরে থাকি। ফেসবুক ও ইউটিউবে এই শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখেছি এবং এর কথা শুনেছি। তাই আজ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সন্ধ্যার দিকে আসায় সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারিনি। সকালে এলে ফুলগুলো আরও সুন্দরভাবে ফুটে থাকত। তবে এখানকার আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে। ইনশাআল্লাহ, আবারও আসার পরিকল্পনা রয়েছে।"
আরেক দর্শনার্থী জানান, তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একাধিকবার এই বিলে ঘুরতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, "এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমরা আনন্দিত।"
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা দেশের প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সৌন্দর্যের পরিচিত প্রতীক। জলাশয়ের বুকে ফুটে থাকা লাল শাপলা বর্ষা-পরবর্তী প্রকৃতিতে এক বিশেষ সৌন্দর্য যোগ করে। মাছকারিয়ার শাপলা বিলও সেই চিরচেনা বাংলার প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণে আগ্রহীদের জন্য স্থানটি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জরুরি। নির্বিচারে শাপলা তোলা, জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা কিংবা অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রমের কারণে যেন বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: উৎসবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে
স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মাছকারিয়ার শাপলা বিলের সৌন্দর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকায় পর্যটন কার্যক্রমের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, লাল শাপলার মায়াবী রূপ আর শান্ত জলরাশি—সব মিলিয়ে উখিয়ার মাছকারিয়ার শাপলা বিল কক্সবাজারের পর্যটন আকর্ষণের একটি সম্ভাবনাময় সংযোজন হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিলটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন