১২:৩৮ এম
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে দাঁড়াতে এনসিপি অন্তর্বর্তী সরকারের সহায়তা ছাড়া সম্ভব হতো না। এ দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। জামায়াত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো রাজনৈতিক দলের টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এনসিপির পরিণতি হতে যাচ্ছে ফ্রিডম পার্টির মতো।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘৬ আগস্ট জুলাই কারাবন্দিদের মুক্তি দিবস’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, শেখ হাসিনার পতন বা জুলাই গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং এর পেছনে বহু মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম এবং ত্যাগ রয়েছে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনটি প্রায় নয় মাস ধরে চলছিল এবং সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ডাকসু নির্বাচন, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং একতরফা নির্বাচন বর্জনের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল ছাত্র ও যুবকদের।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় যারা সামনের সারিতে ছিলেন, তারাই ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যদি অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে তারা আবারও প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে।
নুরুল হক নুর বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধৈর্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, তারা দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৭ বছর দলকে সংগঠিত না রাখলে বিএনপি আজকের দেশের সবচেয়ে সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো না।
তিনি মন্তব্য করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ সুবিধার জন্য গঠন করেনি, বরং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপির সঙ্গে জোট করেছে। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন