ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীর জন্মদিনে তৌসিফের ভালোবাসার বার্তা, ‘তোমার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা দিনই আলাদা’


স্ত্রীর জন্মদিনে তৌসিফের ভালোবাসার বার্তা, ‘তোমার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা দিনই আলাদা’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝে ব্যক্তিজীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে দেখা যায়। সম্প্রতি, স্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার ছিল তৌসিফের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জারার জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটিতে, তিনি স্ত্রীর সঙ্গে তোলা ৯ বছর আগের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে, প্রিয় মানুষটির প্রতি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এই অভিনেতা।

তৌসিফ তার পোস্টে লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন, আমার মানুষ।

আরও পড়ুন: মানবতাই আমাদের পরিচয়: সাঈদ আল নোমান এমপি

এতগুলো বছর পার হয়ে গেল, তবুও তোমার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা দিন আমার কাছে আলাদা। জীবনের সবকিছু তোমার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই—ভালো, খারাপ, হাসি, ঝগড়া। শুধু এভাবেই পাশে থেকো।’

অভিনেতার এই ভালোবাসাময় পোস্টে তার ভক্তরা মুগ্ধ হয়েছেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই এই তারকা দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিছু ভক্ত তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও দাম্পত্যজীবনের প্রশংসাও করেছেন।

তৌসিফ মাহবুব এবং জান্নাতুল ফেরদৌস জারার বিয়ে ২০১৮ সালে হয়। তাদের পরিচয় বিয়ের আগে থেকেই ছিল, পরে তারা সম্পর্কে জড়ান। জারা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিবিএ পড়েছেন।

২০১০ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন তৌসিফ মাহবুব। তবে ২০১৩ সালের ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নির্মিত নাটক ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের নজরে আসেন।

আরও পড়ুন: ‘লংমার্চের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেলে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে লংমার্চ করতেন’

এরপর ‘ল্যান্ড ফোনের দিনগুলোতে প্রেম’, ‘রোড ট্রিপ’, ‘রুমমেট’, ‘রাব্বু ভাইয়ের বউ’ ও ‘নাইন অ্যান্ড আ হাফ’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তৌসিফ। বর্তমানে তিনি ছোটপর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি শুরু করে ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক বৈশাখী তেল পাম্পের সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আল ইমরান পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিজয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিযোগিতাটি শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বিজয়ীদের হাতে এখনো পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে যে, পুরস্কার কেনার জন্য বরাদ্দকৃত ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে বাকি বিল্লাহ ওই টাকা উত্তোলন করেন।

কোটচাঁদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার অবসর নেওয়ার পর শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানুয়ারিতে কোটচাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫টি ইভেন্টে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ক্রীড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, এখনো তা দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১ এপ্রিল পুরস্কার কেনার জন্য ৭৫ হাজার ৫০০ টাকার বিল-ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে, টাকা উত্তোলনের প্রায় পাঁচ মাস পরেও বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

কোটচাঁদপুরের এনসিপি নেতা হৃদয় আহম্মেদ বলেন, জানুয়ারিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ এখনো দেওয়া হয়নি। অথচ পুরস্কারের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, ‘পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের।

কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পুরস্কার দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘বিল পেতে দেরি হয়েছে। ২৫ আগস্ট পুরস্কারের সামগ্রী অফিসে পাঠানো হয়েছে। আর আমি দুর্ঘটনায় পড়ে এক মাস ছুটিতে ছিলাম। তাই একটু দেরি হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘বিল তোলার পরও পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত নাকি চীন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ‌‘বাবা-মায়ের কোনো বিকল্প হয় না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


ভারত নাকি চীন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ‌‘বাবা-মায়ের কোনো বিকল্প হয় না’

পিতা-মাতাকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না, ঠিক তেমনি ভারত ও চীনের সম্পর্কও একটি দিয়ে অপরটিকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই মন্তব্য করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

নেপাল, যা হিমালয়ের কন্যা, ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো একটি পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভীক্ষা: ভারত-নেপাল সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল তার দেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিক রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নেপাল তার দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো একটি সম্পর্ক ছিন্ন বা প্রতিস্থাপন করতে চায় না।

যেকোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি পারিবারিক সম্পর্কের আবেগঘন কিন্তু যুক্তিযুক্ত রূপক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা খুবই আবেগপ্রবণ জাতি, তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে।" ভারত ও চীন, দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সঙ্গেই নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা এই সম্পর্কগুলো বজায় রাখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, "আমি নিশ্চয়ই আমার পিতাকে বলতে পারি না যে আমি তাকে মায়ের জায়গায় বসাব, কিংবা মাতাকে পিতার স্থানে প্রতিস্থাপন করব।" নেপালের এই সম্পর্কগুলো অত্যন্ত অনন্য এবং তারা এই ধারা বজায় রাখবে।

'ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি' নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, শিশির খানাল জানান, যেকোনো কূটনৈতিক গতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো জাতীয় স্বার্থ। তিনি বলেন, "মানুষ হিসেবে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি বিষয়টিকে সেভাবেই দেখতে পছন্দ করি।" ভাইবোন বা মা-বাবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। প্রতিটি সম্পর্কেরই নিজস্ব অনন্য রূপ ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলোকে ইতিহাস, সভ্যতা ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নেপালের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করাই তার মূল দায়িত্ব। তাই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বরং নেপালের জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

নেপাল তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে; এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা এবং বিশেষ করে দক্ষিণের গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়শই এমন এক ধরণের বয়ান তৈরি করা হয় যেন নেপাল বুঝি তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী দ্বারা দখলিকৃত হয়ে গেছে।" তবে বাস্তব সত্য হলো, চীনের সঙ্গেও নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা তা বজায় রাখতে চায়। চীনের সঙ্গে নেপালের শত শত বছরের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সভ্যতার ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি চীনা অর্থনৈতিক উপস্থিতি বা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, তবে তিনি ভারতের পক্ষ থেকেও সমপরিমাণ বা ততোধিক বিনিয়োগ দেখতে চান। ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে খানাল বলেন, নেপালের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই সম্পন্ন হয় ভারতের সাথে। নেপাল সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিময় বজায় রাখে একক দেশ ভারতের সঙ্গেই।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার সাদা মনের কিছু কঠিন প্রশ্ন—উত্তর চাই’—সাবের শাহকে ঘিরে মিজান কাদরির প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


আমার সাদা মনের কিছু কঠিন প্রশ্ন—উত্তর চাই’—সাবের শাহকে ঘিরে মিজান কাদরির প্রশ্ন

পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ হুজুর কেবলার বাংলাদেশ সফর ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচিকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন হবিগঞ্জের জনপ্রিয় শায়ের মিজান কাদরি।

আল্লামা সাবের শাহের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই এসব প্রশ্ন তুলেছেন জানিয়ে মিজান কাদরি বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো বিরোধিতার জন্য নয়; বরং সুন্নিয়তের বৃহত্তর স্বার্থে আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “হুজুর কেবলা কি শুধু প্রতিবছরের ঈদে মিলাদুন্নবীর সময়ই বাংলাদেশে আসবেন? বছরের মাঝামাঝি সময়ে বা বছরে অন্তত এক-দুইবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করা কি সম্ভব নয়?”

মিজান কাদরির মতে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগেও নিয়মিত বড় ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে দেশের লাখো মুরিদ, আশেক ও নবীপ্রেমিক মানুষ সরাসরি হুজুর কেবলার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, “সবাই চট্টগ্রামে যেতে পারে না। অনেক বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন, যাদের অন্তরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম যাওয়া সম্ভব হয় না।”

ঢাকা জুলুস নিয়েও প্রশ্ন

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জুলুসে বিভিন্ন দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় কি না—এ প্রশ্নও তুলেছেন মিজান কাদরি।

তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বহু ঐতিহাসিক দরবার ও মাজার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়ে বৃহত্তর সুন্নি ঐক্যের ভিত্তিতে জুলুসে সম্পৃক্ত করা হলে আয়োজন আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তার প্রশ্ন, “ঢাকার আশপাশের অন্তত শতাধিক দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করা গেলে ঢাকার জুলুসের ব্যাপ্তি ও শক্তি কতটা বৃদ্ধি পেত—সেটা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?”

‘শুধু একটি অঞ্চলকে শক্তিশালী করলেই কি জাতীয় সুন্নিয়ত শক্তিশালী হবে?’

মিজান কাদরি বলেন, চট্টগ্রাম সুন্নিয়তের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হলেও বাংলাদেশ শুধু চট্টগ্রাম নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় বিপুলসংখ্যক সুন্নি জনশক্তি রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সুন্নিয়তকে কি বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার সময় এখনো আসেনি?”

এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে আধুনিক ও শক্তিশালী জামিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, একটি বিভাগে একটি শক্তিশালী জামিয়া গড়ে উঠলে সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের আলেম, গবেষক, খতিব, বক্তা ও সুন্নি নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে।

‘শুধু জনসমাগম নয়, প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ’

মিজান কাদরি বলেন, “আমরা কি শুধু প্রতিবছর বড় বড় সমাবেশ করে আবেগ প্রকাশ করব, নাকি সেই আবেগকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, সংগঠন ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে রূপান্তর করব?”

তিনি বলেন, জুলুস হবে, মিলাদ হবে এবং নবীপ্রেমের প্রকাশ থাকবে—তবে এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

তার ভাষায়, “শুধু জনসমাগম ইতিহাস তৈরি করে না—প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ। শিক্ষা তৈরি করে নেতৃত্ব। আর ঐক্য তৈরি করে শক্তি।”

চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সফর নিয়ে আলোচনা

প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আল্লামা সাবের শাহের বাংলাদেশ সফর এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়া সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। তবে তাঁর সফর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা যায় কি না—এ নিয়ে সুন্নিয়ত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

মিজান কাদরির প্রশ্ন, “সাবের শাহ কি শুধু চট্টগ্রামের জন্য, নাকি তাঁর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও দাওয়াতের পরিধি পুরো বাংলাদেশের সুন্নি মুসলমানদের জন্যও উন্মুক্ত হওয়া উচিত?”

তবে আল্লামা সাবের শাহকে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় না কিংবা তাঁকে অন্য কোথাও প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না—এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

সবশেষে মিজান কাদরি বলেন, “প্রশ্নগুলো বিরোধিতার নয়—সুন্নিয়তের আগামী দিনের জন্য ভাবনার। উত্তর ও বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চাই।”

তার বক্তব্যকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের কী উত্তর আসে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুন্নিয়তের কার্যক্রম বিস্তারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনেক সুন্নি মুসলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%