ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারত নাকি চীন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ‌‘বাবা-মায়ের কোনো বিকল্প হয় না’


ভারত নাকি চীন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ‌‘বাবা-মায়ের কোনো বিকল্প হয় না’

পিতা-মাতাকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না, ঠিক তেমনি ভারত ও চীনের সম্পর্কও একটি দিয়ে অপরটিকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই মন্তব্য করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

নেপাল, যা হিমালয়ের কন্যা, ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো একটি পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভীক্ষা: ভারত-নেপাল সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল তার দেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিক রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নেপাল তার দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো একটি সম্পর্ক ছিন্ন বা প্রতিস্থাপন করতে চায় না।

যেকোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি পারিবারিক সম্পর্কের আবেগঘন কিন্তু যুক্তিযুক্ত রূপক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা খুবই আবেগপ্রবণ জাতি, তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে।" ভারত ও চীন, দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সঙ্গেই নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা এই সম্পর্কগুলো বজায় রাখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, "আমি নিশ্চয়ই আমার পিতাকে বলতে পারি না যে আমি তাকে মায়ের জায়গায় বসাব, কিংবা মাতাকে পিতার স্থানে প্রতিস্থাপন করব।" নেপালের এই সম্পর্কগুলো অত্যন্ত অনন্য এবং তারা এই ধারা বজায় রাখবে।

আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

'ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি' নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, শিশির খানাল জানান, যেকোনো কূটনৈতিক গতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো জাতীয় স্বার্থ। তিনি বলেন, "মানুষ হিসেবে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি বিষয়টিকে সেভাবেই দেখতে পছন্দ করি।" ভাইবোন বা মা-বাবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। প্রতিটি সম্পর্কেরই নিজস্ব অনন্য রূপ ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলোকে ইতিহাস, সভ্যতা ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নেপালের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করাই তার মূল দায়িত্ব। তাই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বরং নেপালের জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

নেপাল তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে; এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা এবং বিশেষ করে দক্ষিণের গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়শই এমন এক ধরণের বয়ান তৈরি করা হয় যেন নেপাল বুঝি তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী দ্বারা দখলিকৃত হয়ে গেছে।" তবে বাস্তব সত্য হলো, চীনের সঙ্গেও নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা তা বজায় রাখতে চায়। চীনের সঙ্গে নেপালের শত শত বছরের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সভ্যতার ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি চীনা অর্থনৈতিক উপস্থিতি বা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, তবে তিনি ভারতের পক্ষ থেকেও সমপরিমাণ বা ততোধিক বিনিয়োগ দেখতে চান। ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে খানাল বলেন, নেপালের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই সম্পন্ন হয় ভারতের সাথে। নেপাল সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিময় বজায় রাখে একক দেশ ভারতের সঙ্গেই।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার সাদা মনের কিছু কঠিন প্রশ্ন—উত্তর চাই’—সাবের শাহকে ঘিরে মিজান কাদরির প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


আমার সাদা মনের কিছু কঠিন প্রশ্ন—উত্তর চাই’—সাবের শাহকে ঘিরে মিজান কাদরির প্রশ্ন

পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ হুজুর কেবলার বাংলাদেশ সফর ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচিকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন হবিগঞ্জের জনপ্রিয় শায়ের মিজান কাদরি।

আল্লামা সাবের শাহের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই এসব প্রশ্ন তুলেছেন জানিয়ে মিজান কাদরি বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো বিরোধিতার জন্য নয়; বরং সুন্নিয়তের বৃহত্তর স্বার্থে আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “হুজুর কেবলা কি শুধু প্রতিবছরের ঈদে মিলাদুন্নবীর সময়ই বাংলাদেশে আসবেন? বছরের মাঝামাঝি সময়ে বা বছরে অন্তত এক-দুইবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করা কি সম্ভব নয়?”

মিজান কাদরির মতে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগেও নিয়মিত বড় ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে দেশের লাখো মুরিদ, আশেক ও নবীপ্রেমিক মানুষ সরাসরি হুজুর কেবলার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, “সবাই চট্টগ্রামে যেতে পারে না। অনেক বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন, যাদের অন্তরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম যাওয়া সম্ভব হয় না।”

ঢাকা জুলুস নিয়েও প্রশ্ন

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জুলুসে বিভিন্ন দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় কি না—এ প্রশ্নও তুলেছেন মিজান কাদরি।

তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বহু ঐতিহাসিক দরবার ও মাজার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়ে বৃহত্তর সুন্নি ঐক্যের ভিত্তিতে জুলুসে সম্পৃক্ত করা হলে আয়োজন আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তার প্রশ্ন, “ঢাকার আশপাশের অন্তত শতাধিক দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করা গেলে ঢাকার জুলুসের ব্যাপ্তি ও শক্তি কতটা বৃদ্ধি পেত—সেটা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?”

‘শুধু একটি অঞ্চলকে শক্তিশালী করলেই কি জাতীয় সুন্নিয়ত শক্তিশালী হবে?’

মিজান কাদরি বলেন, চট্টগ্রাম সুন্নিয়তের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হলেও বাংলাদেশ শুধু চট্টগ্রাম নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় বিপুলসংখ্যক সুন্নি জনশক্তি রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সুন্নিয়তকে কি বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার সময় এখনো আসেনি?”

এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে আধুনিক ও শক্তিশালী জামিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, একটি বিভাগে একটি শক্তিশালী জামিয়া গড়ে উঠলে সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের আলেম, গবেষক, খতিব, বক্তা ও সুন্নি নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে।

‘শুধু জনসমাগম নয়, প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ’

মিজান কাদরি বলেন, “আমরা কি শুধু প্রতিবছর বড় বড় সমাবেশ করে আবেগ প্রকাশ করব, নাকি সেই আবেগকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, সংগঠন ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে রূপান্তর করব?”

তিনি বলেন, জুলুস হবে, মিলাদ হবে এবং নবীপ্রেমের প্রকাশ থাকবে—তবে এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

তার ভাষায়, “শুধু জনসমাগম ইতিহাস তৈরি করে না—প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ। শিক্ষা তৈরি করে নেতৃত্ব। আর ঐক্য তৈরি করে শক্তি।”

চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সফর নিয়ে আলোচনা

প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আল্লামা সাবের শাহের বাংলাদেশ সফর এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়া সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। তবে তাঁর সফর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা যায় কি না—এ নিয়ে সুন্নিয়ত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

মিজান কাদরির প্রশ্ন, “সাবের শাহ কি শুধু চট্টগ্রামের জন্য, নাকি তাঁর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও দাওয়াতের পরিধি পুরো বাংলাদেশের সুন্নি মুসলমানদের জন্যও উন্মুক্ত হওয়া উচিত?”

তবে আল্লামা সাবের শাহকে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় না কিংবা তাঁকে অন্য কোথাও প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না—এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

সবশেষে মিজান কাদরি বলেন, “প্রশ্নগুলো বিরোধিতার নয়—সুন্নিয়তের আগামী দিনের জন্য ভাবনার। উত্তর ও বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চাই।”

তার বক্তব্যকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের কী উত্তর আসে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুন্নিয়তের কার্যক্রম বিস্তারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনেক সুন্নি মুসলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা , তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩০ পি.এম


আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা , তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল: ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন যে, নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়া সম্ভব, যদি ওয়াশিংটন তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এবং বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি একটি স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এই বক্তব্য দেন।

র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক্স-এ একটি পোস্টে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আস্থা তৈরি করা এবং সম্মানের সাথে আলোচনা করা। তিনি বলেন, "আমাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা"।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। কাতারের নেতৃত্বের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়ে আলোচনাটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি বর্ণনা করেছেন।

আব্বাস আরাগচি আরও জানান, তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানির সাথে সৃজনশীল আলোচনা করেছেন।

এই আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হয়নি। একইসাথে, তিনি তেহরানের সাথে অবিলম্বে আলোচনার সম্ভাবনা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশটির সক্ষমতা এখন সীমিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোডশেডিং নিয়ে বড় দুঃসংবাদ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


লোডশেডিং নিয়ে বড় দুঃসংবাদ!

দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে আজ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। 

পাওয়ার সিস্টেমের ‘ফোরকাস্ট সিনারিও’ অনুযায়ী, রাত ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৭ হাজার ১৪০ মেগাওয়াটে। ওই সময়ে উৎপাদনের পূর্বাভাস রয়েছে ১৪ হাজার ৩১৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুরের পর বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দুপুর ১২টায় ৩৬৩ মেগাওয়াট, দুপুর ১টায় ১ হাজার ১৪১ মেগাওয়াট এবং বিকেল ৩টায় ৯৪১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। বিকেল ৪টায় ৭৩৮ মেগাওয়াট এবং ৫টায় ৫২৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতিও বাড়তে পারে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ২৬৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পর সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে ১ হাজার ৮ মেগাওয়াটে দাঁড়াতে পারে। রাত সাড়ে ৭টায় ১ হাজার ৭০৪ মেগাওয়াট এবং রাত ৮টায় ১ হাজার ৭৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, রাত ৯টায় লোডশেডিং আরও বেড়ে ২ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াটে এবং রাত ১০টায় ২ হাজার ১৬ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর রাত ১১টায় দিনের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে।

এর আগে, চলতি আগস্টে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। চলতি মাসে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া করবে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া করবে দক্ষিণ কোরিয়া

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সিউলের সাথে তাদের বার্ষিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার পর এই ঘোষণা এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

জেসিএস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিন দেশ প্রতিবছর এই প্রতিরক্ষামূলক মহড়া আয়োজন করে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত এই মহড়ায় সমুদ্রপথে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ ও আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সাইবার প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

২০২৩ সালে ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে তিন দেশের নেতাদের মধ্যে সমঝোতার পর ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবার ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

ইয়োনহাপ বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ক্লোয়ি মরগান বলেছেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ বহুমাত্রিক মহড়ার মাধ্যমে আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হবে, পারস্পরিক সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে— যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’

এদিকে, চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময় ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন।

ওয়াশিংটন যখন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, ট্রাম্প সেই সময়ে বলেছিলেন, এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জন্য ‘খুবই অপমানজনক’ এবং কিম ‘খুবই ভালো আচরণ’ করছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া সোমবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়া—দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত ‘সাংইয়ং’ মহড়াও বাতিল করেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনো তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। উত্তর কোরিয়া একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, অন্যদিকে কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে দেশটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%