০২:২৬ পি.এম
পিতা-মাতাকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না, ঠিক তেমনি ভারত ও চীনের সম্পর্কও একটি দিয়ে অপরটিকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই মন্তব্য করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
নেপাল, যা হিমালয়ের কন্যা, ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো একটি পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভীক্ষা: ভারত-নেপাল সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল তার দেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিক রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নেপাল তার দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো একটি সম্পর্ক ছিন্ন বা প্রতিস্থাপন করতে চায় না।
যেকোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি পারিবারিক সম্পর্কের আবেগঘন কিন্তু যুক্তিযুক্ত রূপক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা খুবই আবেগপ্রবণ জাতি, তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে।" ভারত ও চীন, দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সঙ্গেই নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা এই সম্পর্কগুলো বজায় রাখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, "আমি নিশ্চয়ই আমার পিতাকে বলতে পারি না যে আমি তাকে মায়ের জায়গায় বসাব, কিংবা মাতাকে পিতার স্থানে প্রতিস্থাপন করব।" নেপালের এই সম্পর্কগুলো অত্যন্ত অনন্য এবং তারা এই ধারা বজায় রাখবে।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪
'ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি' নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, শিশির খানাল জানান, যেকোনো কূটনৈতিক গতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো জাতীয় স্বার্থ। তিনি বলেন, "মানুষ হিসেবে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি বিষয়টিকে সেভাবেই দেখতে পছন্দ করি।" ভাইবোন বা মা-বাবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। প্রতিটি সম্পর্কেরই নিজস্ব অনন্য রূপ ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলোকে ইতিহাস, সভ্যতা ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নেপালের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করাই তার মূল দায়িত্ব। তাই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বরং নেপালের জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
নেপাল তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে; এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা এবং বিশেষ করে দক্ষিণের গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়শই এমন এক ধরণের বয়ান তৈরি করা হয় যেন নেপাল বুঝি তার উত্তরমুখী প্রতিবেশী দ্বারা দখলিকৃত হয়ে গেছে।" তবে বাস্তব সত্য হলো, চীনের সঙ্গেও নেপালের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা তা বজায় রাখতে চায়। চীনের সঙ্গে নেপালের শত শত বছরের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সভ্যতার ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি চীনা অর্থনৈতিক উপস্থিতি বা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, তবে তিনি ভারতের পক্ষ থেকেও সমপরিমাণ বা ততোধিক বিনিয়োগ দেখতে চান। ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে খানাল বলেন, নেপালের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই সম্পন্ন হয় ভারতের সাথে। নেপাল সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিময় বজায় রাখে একক দেশ ভারতের সঙ্গেই।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন