ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিলেটে সাংবাদিক সমাবেশে হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন : হুঁশিয়ারি


সিলেটে সাংবাদিক সমাবেশে হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন : হুঁশিয়ারি

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, "স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে শেকলবন্দি করতেই দুজন সাংবাদিকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে।" সিলেটের মানুষের সেবা পাওয়ার ন্যায্য দাবির প্রতি এটি একটি চরম আঘাত। এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা সিলেটবাসীর ওপরও আক্রমণ। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেটবাসীর সম্পত্তি, এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না।

সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এর প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সিলেটের সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, "এই প্রতিবাদ সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ।" অতীতে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরাই তাদের পাশে থেকে সংবাদ প্রচার করেছিলেন, যার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে। বক্তারা উল্লেখ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি চলতে পারে না।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ট্রাকে আগুন, শহর বিদ্যুৎহীন

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। বক্তারা বলেন, "এই হামলা পুরো চিকিৎসক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে।" ওসমানী হাসপাতালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মাস্তানি বন্ধ করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের মাধ্যমে রোগীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং লাঠিসোটা নিয়ে পেটানোর ঘটনা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। গত বুধবার দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় অবিলম্বে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, "কোনো আপসকামী সমাধান নয়, সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে শীঘ্রই বৈঠকে বসা হবে এবং সেখানেই পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেট-এর সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবীর লিটন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ রনি প্রমুখ।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে

সিলেটের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এবং দক্ষিণ সুমরা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেট কল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, দৈনিক সমকাল'র সিলেট ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসিন ও শফিকুর রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ (মাইস্লাম রাজেশ), দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনজেসি)-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, সিনিয়র সাংবাদিক কাউছার চৌধুরী, জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য নবীন সোহেল, রনজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব রাসেল, অধ্যক্ষ মকসুদ আহমদ, সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, সাংবাদিক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, মো. ইউসুফ আলী, সোয়েব বাসিত, সাঈদ চৌধুরী টিপু, পিংকু ধর, রাশেদুল হোসেন সুয়েব, এনামুল কবীর, সাঈদ নোমান, মো. আহসান হাবীব, মোজ্জাম্মেল আহমদ, লুৎফুর রহমান, মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মাকসুদ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, শামীম হোসেন সামী, আলমগীর আলম, কামরুল হাসান বুলবুল, মাকসুদুর রহমান নাহিদ, এস. এম. সুজন, দেবব্রত রায় দিপন, বাপ্পা মৈত্র, রোমান আহমদ, জিকরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান নগরী, আহমদ আলী হিরন, মো. আবদুর রাজ্জাক, আহমদ আলহাদী, মো. চমক আহমেদ, মো. আব্দুল মজিদ চৌধুরী, শাহ মিনশাদ আলম, সুব্রত দাস, পিয়াল আহমদ, সন্দীপন শুভ, মো. আহমদ শিপন, জহিরুল ইসলাম সিপু, শহীদুল রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, সাকির আল মামুন, সমাজসেবী শাহজাহান মাস্টার, সাংবাদিক কামাল আহমদ, ফারহান ইসলাম রাজু, মাহফুজুর রহমান সামি, নূর আলম, হোসাইন ইকবাল, হিমেল হাসান, মো. এমদাদুল হক, মো. মতিউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক শাওন, শিব্বির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম সবুজ, ফাহিম আহমদ, সাইফুর রহমান, রাজু আহমেদ, রহমতুল হোসেন লস্কর, নোমান ফয়সল, আশিক উদ্দিন, সাগর হাসান শুভ, মো. মুজিবুর রহমান, ফয়জুল আহমদ, শ্যামল নন্দী, মো. আফজাল হোসেন, মো. সালেক আলী খান, ফয়জুল কাদির, সৈয়দ আলমগীর, মেহেদী হাসান লিটু, এস কে তুহিন, সুমাইরুল ইসলাম রাহাত, মররুর আহমদ রাজু, মো. মারুফ হাসান, মো. সোহাগ, আনোয়ার হোসেন, মোবারক হোসেন বাপ্পু, তুহিন সরকার, তারেক চৌধুরী রাহেল, কাইয়ুম আল রানি, শিমুল চন্দ্র (জয়), আমজাদ আলী ও সুরত আলী মিয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে গত বুধবার রাত ১০ টার দিকে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার। তারা দুজনই সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এ দুজনকে স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে মাথায় আঘাত করে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তারা দুজন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। নির্যাতিত সাংবাদিকরা ওই সময় বার বার নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়েও রক্ষা পাননি হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাত থেকে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ১৯ মামলার আসামি বদিউজ্জামান গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালত থেকে বের হয়ে দীপের বক্তব্য, ‘আমি ফুললি স্ট্রং’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ পি.এম


আদালত থেকে বের হয়ে দীপের বক্তব্য, ‘আমি ফুললি স্ট্রং’

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার ‘স্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় দীপ তার স্বজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’ তিনি টেনশন করতে নিষেধ করেন। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে রিমান্ড শুনানিতে দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। আমরাও চাই সত্য উদঘাটন হোক। আসামি কিন্তু প্রথম থেকে সহযোগিতা করে আসছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা সন্দেহ হয়। আর ভিকটিমের শরীরে কিন্তু কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। ডিজিস্টের (ভুক্তভোগী) পরিবার কিন্তু মামলা করতে চায়নি। আমরাও সত্য উদঘাটনের পক্ষে। এ কারণে জামিন আবেদন করিনি।’

দীপের আইনজীবী আরো বলেন, ‘ভিকটিমের সঙ্গে আসামির ৬ বছরের সম্পর্ক, পারিবারিকভাবে এ সম্পর্ক। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একটিবারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়।’

আরেক আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আসামি (দীপ) ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি জড়িত থাকলে কিন্তু বাসায় থাকতেন না। প্রথম থেকে কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরাও চাই প্রকৃত রহস্য উঠে আনুক।’

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এ দিন বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। রিমান্ড শুনানির জন্য বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে দীপের পক্ষে মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শত্রুর হামলার জবাব দিতে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান: খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


শত্রুর হামলার জবাব দিতে ভৌগোলিক সীমা মানবে না ইরান: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি এই নির্দেশনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দেন।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈঠকে খামেনি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি অপরিহার্য শর্ত।

খামেনি বলেন, “যদি শত্রুরা আবারও কোনো সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইরানি জাতিই নির্ধারণ করবে—সেই হামলার সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে ঘটবে।”

এর আগে শনিবার মোজতবা খামেনির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টে জানানো হয় যে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, ওই নির্দেশনাগুলো শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামসুল হক খান কলেজের পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


সামসুল হক খান কলেজের পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ

রাজধানীর অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গড় পাসের হার ৯৯.০৭ শতাংশ এবং মোট ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাতেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।" তিনি ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনি এই সময় বলেন, "শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পরিকল্পিত পাঠদান এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।"

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এভাবে নিয়মিত সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটিতে প্রয়োজনীয় বাক্যবিন্যাস, যতিচিহ্ন ও বানান সংশোধন করা হয়েছে। এটি এখন প্রকাশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত! আর কোনো নিউজ এডিট করার প্রয়োজন থাকলে নির্দ্বিধায় দিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটকে নেতিবাচক কমেন্টের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রণক্ষেত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


টিকটকে নেতিবাচক কমেন্টের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রণক্ষেত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা টিকটক ভিডিওতে নেতিবাচক কমেন্ট করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আশুগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) টিকটক ভিডিওতে কমেন্টস করার জেরে আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের আবির হাটি ও নাগর বাড়ির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার সকালে পুলিশ এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও, বৈঠক শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ফলে আশুগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং বাজারে উপস্থিত মানুষজন ছুটতে থাকে। দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, টিকটকে কমেন্টস নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সালিশ বৈঠকও মীমাংসা করা হয়। বৈঠক শেষে পুলিশ চলে আসলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কায় আশুগঞ্জ বাজারে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%