বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০১ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার দুপুরে নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেট এলাকার সিটি রাজবাড়ী রেস্তোরাঁয় এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে এ জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্তোরাঁটির রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করে। রান্নাঘরের বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে ডালডা, কিশমিশ, দুধ, মোরব্বা, তেল, মশলা ও রুটি তৈরির খামিসহ জীবিত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছাড়পোকার উপস্থিতি দেখা যায়।
এছাড়া রান্নাঘরের ফ্লোর স্যাঁতসেঁতে ছিল এবং কয়েকটি টাইলস ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ফ্রিজারে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পোড়াতেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ মোরব্বা সংরক্ষণের বিষয়টিও ধরা পড়ে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, রেস্তোরাঁয় অননুমোদিত ঘি রাখা হয়েছে। বিরিয়ানি তৈরিতে অত্যন্ত ক্ষতিকর কেওড়াজল ব্যবহৃত হচ্ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও ছিল না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানান, রেস্তোরাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। এই কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে যখন সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে, তখন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সালের নোয়াপাড়া এলাকার বাসভবন ঘিরে আলোকসজ্জার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি এস এম ফয়সালের বাসভবনের চারপাশে একাধিক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। একইসঙ্গে বাসভবনের আশপাশের সড়কের দুই পাশেও আলোর ব্যবস্থা দেখা যায়।
অন্যদিকে মাধবপুর ও চুনারুঘাটের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করে আসছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুতের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, তখন একজন সংসদ সদস্যের বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় এত আলো জ্বলছে কীভাবে?
এ নিয়ে কেউ কেউ বিষয়টিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই বলছেন, ভিডিওতে দেখা আলোকসজ্জার প্রকৃত উৎস, সংযোগের ধরন কিংবা সেটি কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে—এসব তথ্য যাচাই না করে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সময়, বিদ্যুৎ সংযোগের ধরন এবং আলোকসজ্জার প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল কিংবা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে মাধবপুর-চুনারুঘাটের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কি সমানভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ চত্বরের খেলার মাঠ দিনব্যাপী আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সকালে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) এ কে এম রায়হানুর রহমান।
প্রতিযোগিতায় উপজেলার ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাঁতার, দাবা, কাবাডি ও হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়। প্রতিটি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জয়ের প্রত্যয় ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক ও সহপাঠীদের উৎসাহে পুরো মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য।
বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে। ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয় এবং তারা আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কথা স্মরণ করে বলেছেন, "শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুগ-যুগ ধরে অব্যাহত থাকবে।"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মীর কাসেম আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতি দিয়েছেন।তিনি বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মীর কাসেম আলী আজীবন বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ইসলামী জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ইসলামী ব্যাংক-বীমা, বহু মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নানাবিধ ইসলামী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। বিশেষত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী, যার সুফল আজও মানুষ পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ এজন্য কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর অবদান স্মরণ রাখবে।ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই ক্যাঙ্গারু আদালতে প্রমাণ করতে পারেনি। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু তারপরও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।জামায়াত আমির বলেন, তিনি দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে বাংলাদেশের জমিনে যে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন, তা ইনশাআল্লাহ সুদীর্ঘকাল অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের এই নিবেদিত দায়িত্বশীল তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন মীর কাসেম আলীর শাহাদাত কবুল করেন এবং তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।তিনি বলেন, মীর কাসেম আলীর রেখে যাওয়া কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে চট্টগ্রামে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) বাদ আছর নগরীর নাসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় জামে মসজিদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আলম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সদস্য মো. মহসিন, কামরুল ইসলাম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউছুপ, যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ