ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির


শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কথা স্মরণ করে বলেছেন, "শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুগ-যুগ ধরে অব্যাহত থাকবে।"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মীর কাসেম আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতি দিয়েছেন।তিনি বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মীর কাসেম আলী আজীবন বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ইসলামী জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ইসলামী ব্যাংক-বীমা, বহু মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নানাবিধ ইসলামী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। বিশেষত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী, যার সুফল আজও মানুষ পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ এজন্য কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর অবদান স্মরণ রাখবে।ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই ক্যাঙ্গারু আদালতে প্রমাণ করতে পারেনি। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু তারপরও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।জামায়াত আমির বলেন, তিনি দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে বাংলাদেশের জমিনে যে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন, তা ইনশাআল্লাহ সুদীর্ঘকাল অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের এই নিবেদিত দায়িত্বশীল তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন মীর কাসেম আলীর শাহাদাত কবুল করেন এবং তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।তিনি বলেন, মীর কাসেম আলীর রেখে যাওয়া কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে চট্টগ্রামে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) বাদ আছর নগরীর নাসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় জামে মসজিদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আলম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সদস্য মো. মহসিন, কামরুল ইসলাম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউছুপ, যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দে কোটা সমন্বয়ের সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দে কোটা সমন্বয়ের সুপারিশ

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নতুন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এখন থেকে এসব শ্রেণির বাসা সরাসরি বরাদ্দ না করে সংশ্লিষ্ট কোটা সমন্বয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি পত্র জারি করেছে। পত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২-এর রুল-৬ অনুযায়ী, এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তবে, তিন মাসের বেশি সময় ধরে খালি থাকা বাসাগুলো সরকারি রাজস্ব আদায় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটির গত ৩০ জুনের সভায় এ, বি ও সি-শ্রেণির বাসা বরাদ্দের নতুন সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২-এর রুল-৬ অনুসারে এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি সরাসরি বরাদ্দ না দিয়ে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর ফলে, দীর্ঘদিন খালি থাকা এসব শ্রেণির সরকারি বাসা সরাসরি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কোটা ও বিধিবিধান অনুসরণ করে উপযুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে বলে জানা গেছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত পত্রে এ সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর খবর কোথাও ছিল না, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জিত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


‘জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর খবর কোথাও ছিল না, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জিত’

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী যথাযথভাবে গণমাধ্যমে প্রচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন যে, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা উচিত এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কালকে মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক—মরহুম জেনারেল ওসমানীর—১০৮তম জন্মদিবস গেছে। ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু লক্ষ্য করলাম। মনে হলো, এই দেশে জেনারেল ওসমানী নামে কোনো লোকের জন্ম হয়নি।’

তিনি জানান, বিষয়টি জানার চেষ্টা করার পর টেলিভিশন ও পত্রিকায় খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কোথাও জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী নিয়ে সংবাদ দেখতে পাননি। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা ধরনের টকশো হলেও এ বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জা পেয়েছি। আমি ভাবলাম, আমরা কি কিছুই করতে পারলাম না?’—এভাবে তিনি তার হতাশা ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেনারেল ওসমানীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অন্তত তার অবদানের জন্য এই দেশের মানুষের—যারা সংশ্লিষ্ট—তাকে স্মরণ রাখা উচিত। মুক্তিযুদ্ধে তিনি কী করেছেন, এটা নিয়ে বলতে গেলে ঘণ্টা লাগবে।’

তিনি অভিযোগ করেন যে, পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানীর জীবন ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, নিজের সংগ্রহ করা শিশুদের বই ও স্কুলের বিভিন্ন বইয়ে খুঁজেও জেনারেল ওসমানীর বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা পাননি।জেনারেল ওসমানীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নির্মোহ, নিরহংকার, সৎ ও সাহসী কোনো লোক যদি বাংলাদেশে জন্ম হয়ে থাকে, জেনারেল ওসমানী তাদের একজন।বক্তব্যের শেষ দিকে জেনারেল ওসমানীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, তাঁর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের বিষয়ে সংসদ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে বিরোধী দলের জন্য সভাপতি পদ বরাদ্দ করা হবে, এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

বুধবার জাতীয় সংসদে ১০টি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে, এই কমিটিগুলোর মধ্যে কোনোটিতেই বিরোধী দলের কাউকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলকে সভাপতি পদ না দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে একই প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন হলে ওয়াকআউট করার হুমকি দেন। যদিও আজ ওয়াকআউটের ঘোষণা না দিলেও তাহেরের বক্তব্যের পরে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইয়েদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন।

 

 

বুধবার বৈঠকে দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের প্রস্তাবে একে একে ১০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন শেষে সংসদের বৈঠকে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করতে গেলে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

তাহের বলেন, সরকারি দলের সাথে আমরা বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হারে ২৬ শতাংশ শেয়ার বিরোধী দল পাওয়ার কথা। সরকারি দল সেটি গ্রহণ করেছে এবং সদস্যের ব্যাপারে সরকারি দল তা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সভাপতির পদেও তারা ২৬% পাবেন, কারণ এটি তাদের অধিকার। তিনি বলেন, সভাপতি কোন দল থেকে কত হবে, কী অনুপাতে হবে—এ বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে কোনো উল্লেখ নেই। এক সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে তালিকাও নেওয়া হয়েছিল এবং তারা তালিকা জমাও দিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তার মনে হচ্ছে সরকারি দল টু-থার্ড মেজরিটির কারণে কিছুটা বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সেটাই এখানে প্রয়োগ করছে। সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

তার বক্তব্যের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যখনই কোনো কথা বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কেউ জবাব না দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যান। তিনি একটি জবাব দেন।

তিনি বলেন, এটি খুবই অশোভন যে সরকারি দল যখন বলে যে আপনারা এই কমিটিতে আসেন তাহলে আপনাদেরকে এটা দেবো। তারা শিশু নয় যে তাদেরকে ললিপপ দেখানো হবে এবং পরে অন্যভাবে ডিল করা হবে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তারা সভাপতির পদ সরকারের কাছে চাইছেন এবং এটি তাদের অধিকার। সরকার এ অধিকারকে উপেক্ষা করছে।

আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, তারা তো এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে শতভাগ সভাপতি তারা নেবেন। এটি কোথায় লেখা আছে? এটি কি সংবিধানে আছে? তাহলে দ্য উইল অফ দ্য মেজরিটি পার্টি হ্যাজ বিকাম দ্য ল, দ্য ডিসিশন অফ দিস পার্লামেন্ট, এটাই তো স্বৈরাচার।

তাহের বলেন, স্বৈরাচার বলতে বোঝায়, আমি যা চাই, সেটাই আইন, সেটাই আমার আচরণ হবে। তারা এই পার্লামেন্টকে এভাবে দেখতে চান না। তাই তিনি মনে করেন সরকারি দল দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্টের বাইরে বৈষম্য সৃষ্টি করা উচিত নয়। কারণ তারা আরেকটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চান না। বিরোধী দলকে কোনো সভাপতি পদ না দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতে এভাবে কমিটি গঠন হলে বিরোধী দল নাও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পরবর্তী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি একই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, তাহলে ওই সময় তারা সংসদে থাকতে নাও পারে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উপনেতা বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এখন জবাব শুনতে চান না। সম্ভবত ওয়াকআউট নয়, তবে ওয়াকআউট। যাই হোক, ওই আরকি, তাল পড়িয়া ধপ করিল না পড়িয়া দপ করিল।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের আসনের অনুপাতিক হারে সভাপতি দেওয়া যাবে না, এটি কোথাও নেই, আবার বাধ্যবাধকতাও নেই। অতীতের ইতিহাসেও এমন কিছু দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।

স্বৈরাচার বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য থাকলেও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করেনি। বিএনপি যখন দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি থাকে এবং সরকার গঠন করে, তখন গণতন্ত্রের পদ্ধতিকে সুদৃঢ় করে।সালাহউদ্দিন বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা তারা করেছেন, আমরাও করেছি। সেখানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি—এই সংসদীয় চর্চায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে সংখ্যার অনুপাতে, আসনের সংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলীয় সদস্যরা সভাপতিত্ব পাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা যে অঙ্গীকার করেছেন তা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, সংবিধান সংশোধিত হলে, তখন কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। আনুপাতিক হারে বিরোধী দল সভাপতি পাবে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল কোনো সহযোগিতায় আসছে না।

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন। এখানেই কথা বলি। যদি সংবিধান সংশোধনীর জায়গায় আপনারা সংস্কার বলতে আরাম পান, তাহলে তাই বলবেন। কিন্তু সংশোধনী হিসেবে তো সংসদীয় ভাষায় এখানে এমেন্ডমেন্টটা গৃহীত হতে হবে।

দশটি কমিটি গঠন

রাজনৈতিকখবর আপডেট

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিমা রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে হুইপ রকিবুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে কলিম উদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আমানউল্লাহ আমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে হুইপ জি কে গউছকে, ভূমি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নাসের রহমান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম জামালকে নিয়োগ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ সংক্রান্ত। এর মধ্যে ২৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংসদ সম্পর্কিত একটি কমিটিতে বিরোধী দলের উপনেতাকে সভাপতি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%