ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইনজেকশনের ভয় দূর করতে অভিনব 'স্টিকি প্যাচ' উদ্ভাবন, ২৫ হাজার ডলার জয় ক্ষুদে ছাত্রীর


ইনজেকশনের ভয় দূর করতে অভিনব

ইনজেকশনের নাম শুনলেই ছোটদের মধ্যে ভয়ের অনুভূতি তৈরি হয়। চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার কথা বললেই শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। তবে, এই চিরচেনা ভীতি দূর করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার কলোম্বিয়ার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী কাইলিন ব্রাউন একটি যুগান্তকারী এবং চমৎকার উপায় উদ্ভাবন করেছে। সে তৈরি করেছে বিশেষ একটি 'স্টিকি প্যাচ' যা ইনজেকশনের ভয়কে একটি মজার অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করে।

কাইলিনের মাথায় এই অভিনব আইডিয়াটি আসে যখন সে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছিল। সে নিজেও একসময় ইনজেকশন নিতে ভীষণ ভয় পেত। সেই ভয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই সে ভাবতে শুরু করে, কীভাবে এই ভীতি থেকে শুধু সে নিজে নয়, বরং অন্য শিশুরাও মুক্তি পেতে পারে। এই চিন্তাভাবনার ফলস্বরূপ জন্ম নেয় 'স্টিকি পালস উইথ ম্যাজিক মেডিসিন' (Sticky Pals with Magic Medicine) নামের রঙিন স্টিকি প্যাচ।

এই প্যাচগুলো ইউনিকর্ন, ডাইনোসরসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের আদলে তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি, চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় 'মট মিলিয়ন ডলার চ্যালেঞ্জ' প্রতিযোগিতায় কাইলিন তার এই ধারণাটি উপস্থাপন করে। বিচারকদের নজর কাড়ার কারণে সে ২৫ হাজার ডলারের পুরস্কার জিতে নেয়।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

কাইলিন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, এই প্যাচটি কীভাবে কাজ করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুদের মন অন্যদিকে সরিয়ে নিতে এবং ইনজেকশনের ভয় কাটাতে এই স্টিকি প্যাচ রোগীর ইনজেকশন দেওয়ার নির্দিষ্ট স্থানে লাগাতে হবে। এরপর ওই কার্টুন চরিত্রের মুখের নির্দিষ্ট ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করা হবে। যদিও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও পরীক্ষিত হয়নি, তবে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই সৃজনশীল ভাবনা ইতোমধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গাদের দাস বানিয়ে শোষণ, জমি দখল ও জাতিগত নিধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গাদের দাস বানিয়ে শোষণ, জমি দখল ও জাতিগত নিধন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বিষয়ক সাময়িকী ওপিনিয়ন জুরিস-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাশলে এস. কিনসেথ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর 'আরাকান আর্মি' (এএ)-র দ্বারা পরিচালিত অমানবিক নির্যাতন ও প্রশাসনিক শোষণের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছেন।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্মমতার পর বর্তমানে রাখাইনে জাতিগত রাখাইন সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নতুন অত্যাচারী শাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের দাস বানিয়ে শোষণ, জমি দখল, জোরপূর্বক শ্রম এবং এলাকা খালি করার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত রয়েছে।

​

চলাচল ও জীবনযাত্রার ওপর অতিরিক্ত কর এবং বিধিনিষেধের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, উত্তর রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে বা অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পারমিট ফি দিতে হচ্ছে। এই অর্থ চোরাকারবারি, স্থানীয় গ্রাম প্রশাসক কিংবা সরাসরি আরাকান আর্মির পকেটে চলে যাচ্ছে।

এলাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে শুধু নয়, নিজ ভিটেমাটিতে বসবাসের খরচও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাশের গ্রামে একদিনের জন্য যাওয়ার অনুমতিপত্র পেতে প্রায় ৫,০০০ কিয়াত (প্রায় ২.৪০ ডলার) খরচ হচ্ছে এবং এর জন্য প্রয়োজন দুটি পৃথক স্বাক্ষর। ঘরে বসে থাকলেও রেহাই নেই; রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, নৌকা, মাছ ধরার জাল, গবাদিপশু এবং ধানের জমির ওপর নতুন করে ট্যাক্স বা কর ধার্য করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর একে "একচেটিয়াভাবে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে আরোপিত অন্যায্য কর ব্যবস্থা ও পদ্ধতিগত চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা" হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন'-এর আগে যেমন চলাচলের জন্য সামরিক অনুমতির প্রয়োজন হতো, ২০২৪ সালে রাজ্যটির সিংহভাগ দখল করার পর এখন সেই অনুমতিপত্রের মূল স্বাক্ষরকারীদের একজন হলো 'আরাকান আর্মি'। তারা আগের প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সঙ্গে যোগ করেছে জোরপূর্বক শ্রমের কোটা এবং রোহিঙ্গা জমি বাজেয়াপ্তকরণ।

প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সুপরিকল্পিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা আরাকান আর্মির এই কর্মকাণ্ডকে সাধারণত 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে চিহ্নিত করলেও, নিবন্ধে বলা হয় এটি কেবল যুদ্ধাপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের দমন করতে বুলেট ও অস্ত্রের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে করের তালিকা, পারমিট কাউন্টার, বাধ্যতামূলক শ্রমের রোস্টার এবং জমি বন্টনের মতো প্রশাসনিক হাতিয়ার।

এই আপাতদৃষ্টে আইনি বা প্রশাসনিক কাঠামোটি মূলত এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন ও বৈষম্য চালানো যায়। আইনি দৃষ্টিতে এটি স্পষ্টতই 'মানবতাবিরোধী অপরাধ', যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও নথিপত্রে অপরাধের প্রমাণ

১. হুইয়ার সিসি হত্যাকাণ্ড ও 'নাসাওর পারা' ক্যাম্প: ২০২৪ সালের মে মাসে 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'-এর তথ্য অনুযায়ী, 'হইয়ার সিসি' গ্রামে আরাকান আর্মির গুলিতে অন্তত ৯০টি শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত বা নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই হামলায় বেঁচে যাওয়াদের 'নাসাওর পারা' নামক একটি রুদ্ধদ্বার ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়। সেখান থেকে অনুমতি ছাড়া কারও বের হওয়া নিষেধ এবং তাদের দিয়ে অবৈতনিক নির্মাণকাজ ও লুট করা গবাদিপশু চড়ানোর কাজ করানো হচ্ছে।

২. জমি দখল ও অ-রোহিঙ্গা পুনর্বাসন: ২০২৬ সালের আগস্টে জাতিসংঘের 'ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার'-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের মতোই আরাকান আর্মি পুরো রোহিঙ্গা এলাকা খালি করে দিচ্ছে। এরপর মসজিদ ধ্বংস করে এবং প্রায় ২,০০০ একর জমি বাজেয়াপ্ত করে সেখানে অ-রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে খালি হওয়া অন্তত ১১টি সাবেক রোহিঙ্গা গ্রামে নতুনদের এনে বসানো হয়েছে এবং রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর নাম পরিবর্তনের গুরুতর চেষ্টা চলছে।

৩. শিশু ও বয়স্কদের জোরপূর্বক শ্রম: জাতিসংঘের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর রাখাইনে গ্রামভিত্তিক বাধ্যতামূলক শ্রমের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামকে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক পাঠাতে হয়। কেবল ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই ২,৩৫৩টি এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ৭৫টি ক্ষেত্রে শিশুদের ব্যবহার করা হয়েছে। ৬ বছরের মতো ছোট শিশুদের দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার, ভবন নির্মাণ এবং রাখাইন পরিবারগুলোর গৃহস্থালি কাজ করানো হচ্ছে।

কেন এটি 'যুদ্ধাপরাধ' নয়, বরং 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'?

নিবন্ধকার উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে অনেক মানবাধিকার সংস্থা আরাকান আর্মির এই আচরণকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, কিন্তু এতে তাদের মূল অপরাধ আড়াল হয়ে যায়। রোম সংবিধির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধের মধ্যে 'দাসত্ব' বা 'জোরপূর্বক শ্রম'-এর সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। কিন্তু অনুচ্ছেদ ৭(১)(সি) অনুযায়ী, যখন কোনো মানুষের ওপর মালিকানাসূলভ অধিকার প্রয়োগ করে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়, তখন তা 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'-এর অন্তর্ভুক্ত 'দাসত্ব' হিসেবে গণ্য হয়।

তাছাড়া, ভবিষ্যতে মিয়ানমার সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি হলে 'যুদ্ধাপরাধ'-এর ধারায় তাদের বিচার করা আইনিভাবে জটিল হয়ে পড়তে পারে (যেমনটি আইসিসির সাইদ মামলায় দেখা গেছে)। কিন্তু 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'-এর ক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধ চালু থাকার শর্ত নেই; বরং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কোনো সংস্থাগত নীতির অধীনে পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালানো হয়েছে কি না—তা প্রমাণ করাই যথেষ্ট।

আরাকান আর্মি নিজেই দিচ্ছে নিজেদের অপরাধের প্রমাণ

কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে "সংগঠনিক নীতি" প্রমাণ করা কঠিন হলেও, আরাকান আর্মির নিজস্ব প্রশাসনিক দাবিগুলোই তাদের অপরাধের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আরাকান আর্মি নিজেদের একটি সরকার বা 'আরাকান পিপলস রেভোলিউশনারি গভর্নমেন্ট' হিসেবে দাবি করে, যারা ৮টি জেলা, ১০টিরও বেশি বিভাগ এবং ৩ স্তরের বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। অর্থাৎ, তাদের এমন একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে যা দিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর কোটা, পারমিট, জোরপূর্বক শ্রম ও জমি দখলের মতো পরিকল্পিত আক্রমণ পরিচালনা করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাশলে এস. কিনসেথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডি এ তায়েব: ‘সপ্তাহে ৪০ প্রেমের প্রস্তাব, ৪০ বছরে একটিও পাইনি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


ডি এ তায়েব: ‘সপ্তাহে ৪০ প্রেমের প্রস্তাব, ৪০ বছরে একটিও পাইনি’

অভিনেতা ডি এ তায়েব সপ্তাহে অন্তত ৪০টি প্রেমের প্রস্তাব পান। অনেকেই তাকে ছুঁয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ডি এ তায়েবের এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ফেসবুকে নিজের প্রেমের অভিজ্ঞতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়।

জয় ডি এ তায়েবের বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, ‘তায়েব ভাই সপ্তাহে ৪০টি প্রেমের প্রস্তাব পান। আর আমি গত ৪০ বছরে একটি প্রেমের প্রস্তাবও পাইনি। তবে দিয়েছি অনেক।’

এরপর জয় নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা জানিয়ে লেখেন, ‘ভবিষ্যতে আর প্রস্তাব পাবো না কখনোই এটা আমি জানি। মনস্থির করেছি আর প্রস্তাব দেবোও না। অবহেলার এবং অপমানের একটা শেষ তো হওয়া উচিত। ওরা তায়েব ভাইকে নিয়ে খুশি থাকুক।’

জয়ের এই পোস্টে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া, প্রত্যাখ্যান এবং অবহেলার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ডি এ তায়েবের সপ্তাহে ৪০টি প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার বক্তব্যের বিপরীতে নিজের ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রসিকতা ও অভিমানের মিশেল নিয়ে কথাগুলো লিখেছেন জয়।

জয়ের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে তার বক্তব্যের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা রয়েছে কি না, তা পোস্টে স্পষ্ট করেননি জয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কবি নজরুল কলেজে পানির ফিল্টার নষ্ট, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


কবি নজরুল কলেজে পানির ফিল্টার নষ্ট, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য পানির সুব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অবহেলিত বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য পানির ফিল্টার স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ ফিল্টার কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানির মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে ফিল্টার স্থাপন করা থাকলেও তা কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। বি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাঁধন কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একই চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘এ’ ভবনের আয়তন বড় হলেও সেখানে মাত্র একটি ফিল্টার রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান রিডিং রুমের সামনেও ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে, তবে বেশির ভাগ সময় সেখানে পানি পাওয়া যায় না।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের ফিল্টারটি অচল থাকায় সেখানে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কার্যকর ফিল্টার মাত্র তিনটি—সি ভবনের চতুর্থ তলায়, বি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং এ ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি করে রয়েছে। ফিল্টার অকেজো থাকায় সি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার শিক্ষার্থীদের পানি পান করতে চতুর্থ তলায় যেতে হয়। তবে সেখানেও অধিকাংশ সময় পানি পাওয়া যায় না। ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলু রিফাত বলেন, "সুস্থ থাকার জন্য নিরাপদ পানি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। অথচ তারা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।" তিনি আরও বলেন, "বেশির ভাগ সময় পানি কিনে পান করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এত বড় একটি সমস্যা থাকলেও কলেজ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনের কোনো চিন্তাই নেই।"

রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, “আমাদের ‘এ’ ভবনের আয়তন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী অন্তত তিনটি ফিল্টার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে মাত্র একটি ফিল্টার রয়েছে। আমাদের একটি পরীক্ষাগারে ব্যবহারিক পরীক্ষা করতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে। এত দীর্ঘ সময় পরীক্ষার পর পানি পান করতে ভবনের অন্য পাশে যেতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ফিল্টারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে আসা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আহমেদ সিয়াম বলেন, "লাইব্রেরিতে পড়ার সময় পানির পিপাসা পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পানি পান করতে নিচতলায় রিডিং রুমের সামনে গেলেও বেশির ভাগ সময় পানি পাওয়া যায় না।" প্রশাসনের কাছে তার দাবি, লাইব্রেরিসহ প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে আরও একাধিক ফিল্টার স্থাপন করা হোক।

রিডিং রুমে পড়তে আসা রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান বলেন, "রিডিং রুমের সামনে ফিল্টার থাকলেও বেশির ভাগ সময় পানি পাওয়া যায় না।" তিনি দ্রুত ফিল্টারটি সচল করার দাবি জানান।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, "ব্যবস্থাপনা বিভাগের সামনে ফিল্টার থাকলেও তা কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে শিক্ষকদের জন্য রাখা পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, মাঠে পানির জন্য একটি ট্যাংক বসানো হয়েছে, তবে সেই পানি পান করার উপযোগী নয়। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অবহেলার চোখে দেখছে। তার দাবি, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "পানির ফিল্টার তো প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে। আমি লাইব্রেরির সামনের ফিল্টারটি মেরামত করতে বলেছিলাম, কিন্তু সেটি মেরামত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।" তিনি আরও বলেন, "রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিভাগের সামনে কারা ফিল্টার স্থাপন করেছে, তা আমার জানা নেই। তারা আমাদের এ বিষয়ে জানায়নি।"

তিনি আরও জানান, "শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রিডিং রুমের সামনের ফিল্টারটি নষ্ট হয়ে আছে। ওই ফিল্টারটি আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছি, তবে কাজ শেষ হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কাজের খোঁজে গিয়ে’ মোবাইল নিয়ে উধাও, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


‘কাজের খোঁজে গিয়ে’ মোবাইল নিয়ে উধাও, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

রাজধানীর শান্তিনগরে গৃহকর্মী দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমা আক্তার।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসমা আক্তার সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। তার বাসায় নিয়মিত একজন গৃহকর্মী কাজ করেন। এছাড়াও, তার বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী শহীদুল ও আনোয়ার গত তিন থেকে চার বছর ধরে সেখানে কর্মরত আছেন। তবে, এই নিরাপত্তা কর্মীরাই বাসার নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বারবার তাদের বলা সত্ত্বেও বাইরের লোকজন ঢুকে পড়ে এবং গেটে প্রবেশের কোনো রেকর্ড রাখে না। তাদের দাপটে মালিকদের নিরাপদে থাকতে সমস্যা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার জানান, গত ১৯ অক্টোবর শহীদুল তাকে জানান যে একজন বয়স্ক নারী কাজ খুঁজছেন। নিরাপত্তাকর্মী ওই নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখার বিষয়ে জানতে চান। পরবর্তীতে শহীদুল ওই নারীকে নিয়ে আসতে বলেন।

তিনি বলেন, পরদিন ২০ অক্টোবর সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে শহীদুল ফোন করে জানান যে ওই নারী এসেছেন। এরপর দুই নারী আসমার বাসায় আসেন। তাদের নাম ও বেতনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার পর আসমা তাদের একজনকে বিকেলে পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে আসতে বলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই নারী জানান তার নিজের ফোন নেই; বরং তার স্বামীর ফোন রয়েছে এবং তিনি অটোরিকশা চালান। শহীদুল ওই নারীকে ভালোভাবে চেনেন না জানালে আসমা নিরাপত্তাকর্মীদের গেটের দিকে নজর রাখতে বলেন, যাতে ওই নারী বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন।

আসমার অভিযোগ, তিনি পুরো ঘটনাটি বুঝতে পারেননি যে এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা ছিল। তার দাবি, তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শহীদুল আবার ওই নারীকে খবর দিয়ে বাসায় আনেন, কারণ তিনি জানতেন যে এ সময় তার অসুস্থ স্বামী রয়েছে এবং বাসার সবাই ঘুমাচ্ছে, ফলে সব দরজা খোলা ছিল। এ সময় বাসায় আসা নারীদের একজনের সঙ্গে অপর একজন অপরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে বাসায় থাকা এক নারী মুখে মাস্ক পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। আরেক নারীও বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

তার দাবি, দ্বিতীয় নারী নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ারের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও তিনি বাধা দেননি। এ ঘটনায় আনোয়ারের ভূমিকা নিয়েও আসমা প্রশ্ন তুলেছেন।

আসমা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শহীদুলের সঙ্গে কথা বলার পর এক নারীকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। শহীদুল ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সে প্রায় চার মিনিট পর নিজে ওপরে উঠে। এই সময়ের মধ্যেই মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

আসমা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%