১০:০৫ পি.এম
মিশর বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনকে পেছনে ফেলেছে। সামরিক শক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নবনির্মিত নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটালে ২২ হাজার একর বিশাল এলাকাজুড়ে এই অত্যাধুনিক ও বিশালাকার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স’ বা অক্টাগন কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন।
এই কমপ্লেক্সটির আয়তন এলাকা হিসেবে প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ বর্গফুট, যা যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের মোট আয়তন ও মেঝের স্থানকে ছাড়িয়ে গেছে। মিশরের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও কমান্ডের প্রতীক হিসেবে আটটি আন্তঃসংযুক্ত অষ্টভুজাকার ভবন নির্মিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভবনের চারপাশে অবস্থিত এই অষ্টভুজাকার ভবনগুলোতে মূল অপারেশনাল কমান্ড, লজিস্টিক সেন্টার এবং জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ইউনিট পরিচালনা করা হবে। এই বিশাল প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো মিশরের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে একটি একক, সমন্বিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, যা আপদকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবেলায় গতি বাড়াবে।
এছাড়া পুরো প্রাঙ্গণটিকে ১৩টি বিশেষায়িত জোনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ড, সংকট, কিংবা যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলার সময় সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার নির্মাণ করা হয়েছে। এই অক্টাগন আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সুসজ্জিত হয়ে রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর সব শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। কায়রো থেকে প্রধান সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে স্থানান্তরের মহাপরিকল্পনা, এই প্রজেক্টটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন