বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৭ পি.এম
টানা পাঁচ প্রজন্মের মধ্যে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লক্ষ্মী রূপে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বংশে কন্যাসন্তানের আগমনে পুরো পরিবার আনন্দে ভাসছে। নবজাতককে বরণ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে রাজকীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এই ঘটনা ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলায় ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমজানাচ্ছে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নবজাতক গার্গী এবং তার মা কল্পনা ঋষিকেশ দহিফালেকে স্বাগত জানাতে পার্লির দহিফালে পরিবার একটি বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। বরণের জন্য ফুল দিয়ে সাজানো হয় একটি রাজকীয় রথ। ঢাক, ঢোল ও করতালের বাজনার তালে তালে পুরো এলাকা ঘুরিয়ে মা ও শিশুকে পরম ভালোবাসায় ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছর ধরে দহিফালে পরিবারে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। কল্পনা দহিফালে এই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন। গার্গীর দাদা লিম্বাজি দহিফালে বলেন, "পরিবারে কন্যাসন্তান আসা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এত দিন আমাদের ঘরে কোনো কন্যা না থাকার যে আক্ষেপ ও কষ্ট ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ পূর্ণ হলো।"অন্যদিকে, শিশুটিকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ আখ্যা দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন গার্গীর দাদি সুরেশা দাহিফালে।নবজাতক গার্গীর বাবা ঋষিকেশ দহিফালে বলেন, "সাধারণত সমাজে কন্যাসন্তানের চেয়ে পুত্রসন্তানের আকুলতা বেশি দেখা যায়। কিন্তু কন্যাসন্তান পাওয়ার আনন্দ ও অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কন্যাসন্তানরা বাবার প্রতি বেশি অনুরক্ত থাকে। আমরা আমাদের মেয়েকে রাজকন্যার মতো ফুলের সুবাসে ও পরম যত্নে বড় করে তুলব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ সৌরভ আহমেদ হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে সৌরভের দুলাভাই রবিউল এবং ভাড়াটে খুনি মো. শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের কিছু অংশ ও পরনের জামা উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, সৌরভ (২০) গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা কাকলী বেগম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে রবিউল ইসলামকে এবং পরে শাহীনকে রাজৈরের টেকেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় চার বছর আগে সৌরভের বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তারা মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন এবং তাদের একটি দুই বছরের সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান, যা রবিউলকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। প্রতিশোধ নিতে রবিউল শাহিনের সঙ্গে আলোচনা করে সৌরভকে গাজীপুর থেকে টেকেরহাটে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভকে হত্যা ও লাশ গুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ আগস্ট রাত ৯টার পর রবিউল, শাহিন এবং শাহিনের দুই সহযোগী সৌরভকে রাজৈর থানার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মরদেহকে কয়েক টুকরো করে কচুরিপানার নিচে গুম করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে অংশ নিতে হবে। তারা জানান, বাধা আসলেও কর্মসূচি সফল করা হবে। এই লংমার্চের পুরো পথে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত সরকার ও প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভৌগোলিকম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
বৃহস্পতিবার বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।বিরোধী জোটটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করবে।
ইসলামও জীবন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর মোড় ঘিরে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। সকাল ৯টা নাগাদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর দুপুর ১২টা নাগাদ কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবার বিরতি হবে। বেলা ৩টা নাগাদ লংমার্চ ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখান থেকে বিকাল ৫টা নাগাদ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৌঁছে আরেকটি সমাবেশ করবেন তারা। এরপর রাত ৯টা নাগাদ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনায় লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ জোটের।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি জানান, জনভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এই লংমার্চ কর্মসূচি। এতে অংশ নেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। পুলিশের পরামর্শ মেনেই কর্মসূচিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে সড়কে ‘এক লাইনে’ চলবে তাদের গাড়িবহর। সারাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। আমাদের লংমার্চে ভোগান্তি যেন আরও না বাড়ে। যানজটে পড়ে কোনও অ্যাম্বুলেন্স যেন আটকে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপনাদের কথা শুনতেই আমরা আসছি। আপনারা রাস্তার কাছে চলে আসবেন। আমরা আলোচনা করব–কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাস্তার দুপাশে মানুষ সাদরে লংমার্চকারীদের গ্রহণ করবে। লংমার্চের পর আমরা আবার যে মানুষগুলোর কাছে গিয়েছি, তাদের সাথে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করব। এই সমাবেশ থেকে সরকারের খেয়ালিপনা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে বার্তা দিয়ে আমরা দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাব।
ইতিহাসেরবই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা
তিনি বলেন, সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, এই লংমার্চে নাকি এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। না, আমাদের হবে না। কারণ, আমাদের এখানে লাল বাসের বহর থাকবে না, গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে তেলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিলে আমাদের লংমার্চ সুন্দর হবে।
লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে দায় আমাদের ওপর দিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চে আসতে আগ্রহীদের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি এবং হয়রানি করছে। তারা নিজেরাও বিগত সরকারের সময়ে জুলুমের শিকার হয়েছেন। একই পথ যেন তারা অবলম্বন না করে। যদি করে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমন্বয় সভায় অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় রিজার্ভ পুকুর পার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ড্রেজারের বালু ফেলে সড়ক ভরাট ও পৌরসভার ড্রেন বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকার রিজার্ভ পুকুর পার সংলগ্ন সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হালদার উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পূর্ব ভাণ্ডারিয়ার বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন ড্রেজার থেকে বালু এনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর ফেলে ভরাট করেন। এতে সড়কে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং পৌরসভার ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মো. দেলোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. শাহিনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন কোনোভাবেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে বন্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থ, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে: মন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে অবকাঠামো তৈরিতে শ্রমিকের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে।"
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। এদিকে, মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, "সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "গত জুলাই মাসের শেষের দিকে পুনরায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী দেশটিতে সফর করেছেন। আশা করা যায় যে, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হবে।"সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিগত অর্থবছরে চাকরির জন্য নয় লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন ৬ লাখ ৪৬৬২ জন, কাতারে গিয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০, কুয়েতে গিয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন।কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ আসাদুল হাবিব দুলু জানান, "বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।" প্রতিবছর গড়ে ৩৬৫ জন বজ্রপাতে নিহত হয়।
স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৪৬ জেলায় ১৬১ জন নিহত ও ৫৫ আহত হয়েছেন। পাহাড় ধসে ৪ জেলায় ২৭ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছে। মে মাসে ভারী বর্ষণের ফলে হাওরের বন্যায় ৭টি জেলায় কৃষি ও ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৫৪ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, "ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।" তিনি জানান, "একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কার্যক্রম চলছে।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।
উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা অনেক বড়।" ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আরো কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর সরঞ্জাম নয়, দেশের বেসরকারি খাতের কাছেও থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ