ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভৈরবে দুই মাদ্রাসাছাত্র অপহরণের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো ‘নাটক’


ভৈরবে দুই মাদ্রাসাছাত্র অপহরণের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো ‘নাটক’

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুটি মাদ্রাসাছাত্রকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে জানা গেছে যে, ঘটনা আসলে ছিল সাজানো। মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় পাঁচ শিক্ষার্থী মিলে অপহরণের নাটক তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবারের রাতের। ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের নূরে মদিনা ইব্রাহিমিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থী জুনাইদ মিয়া (১৩) ও সাঈদ হাসান (১৫)-কে চনকান্দা মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

জুনাইদ মিয়া অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার সন্তান, অন্যদিকে সাঈদ হাসানও একই এলাকার লোকমান মিয়ার ছেলে। এরপর অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের সঙ্গে আরও তিনজন শিক্ষার্থী মিলে এই ঘটনার সাজানো ছিল। তারা হলো মোসাইদ (১১), পিতা উবায়দুল্লাহ; ইমামুল হক (১৩), পিতা এরশাদ মিয়া এবং সিদরাতুল (১২), পিতা মো. ফারুক। তাদের সূচিত বাড়ি অষ্টগ্রাম থানার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল এলাকায়।

আরও পড়ুন: কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনহার মিয়া জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ

জানা গেছে, মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় একত্রিত হয়ে এই অপহরণের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে জুনাইদ ও সাঈদ ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে যায়। সেখানে প্রতি জন ৫০০ টাকা করে দেয় বলে জানা যাচ্ছে। পরদিন দুপুরে তারা আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে তাদের স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসা ও ঘটনার ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ার ফলে বিষয়টি আসলে সাজানো বলে জানা যায়।

পাঁচজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো লাগছিল না। তাই কয়েকজন মিলে কিছু সময়ের জন্য বাইরে থাকার পরিকল্পনা করেন। পরে অপহরণের মতো একটি ঘটনা সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সবাই মিলে বাইরে গিয়েছিল। আমাদের কেউ অপহরণ করেনি।

আমাকে কেউ জোর করে তুলে নেয়নি। আমরা নিজেদেরই বাইরে গিয়েছিলাম। পরে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটিয়েছিলাম। পরদিন দুপুরে আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসি।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানাচ্ছে, রাতের বেলায় দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আসলে ঘটনাটি ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছায় মাদ্রাসার বাইরে গিয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বলেছিলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্যও উদ্বেগের ছিল। শিক্ষার্থীরা এভাবে না জানানোর সঙ্গে বাইরে চলে যাবে, এটা আমরা চিন্তা করতে পারিনি। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানি, পড়াশোনা ভালো না লাগার কারণে তারা এমন পরিকল্পনা করেছিল। বিষয়টি আমরা গুরুতরভাবে নিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে অপহরণের খবর পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে অনুসন্ধানে বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। শিক্ষার্থীরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সেটাই আমরা গ্রহণ করবো।

এ সম্পর্কে ভৈরব থানার এস আই রাকিব জানান, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তদন্তে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য মেলেনি। তাদের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তারা নিজেদের পরিকল্পনায় মাদ্রাসার বাইরে ছিল। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান সিরাজগঞ্জে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত একটি কমিটি অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, পেনশন, উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে আলাদাভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একইসাথে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করলেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খান সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

প্রতিবেদন গ্রহণের সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ কথা বলেন, 'অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'

তিনি আরো বলেন, 'কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নিজেদের সুবিধামতো আইন তৈরি করছে: আখতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


সরকার নিজেদের সুবিধামতো আইন তৈরি করছে: আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন যে সরকার নিজেদের সুবিধা মতো আইন তৈরি করছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

 

আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, সরকার (তাদের) উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের সুবিধা মতো আইন তৈরি করা। সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়, সে কারণে অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন তৈরি করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, দেখা যাবে গুমের বিষয় তদন্ত চাপা দেওয়া হবে। সরকার ভালো আইন আনার কথা বললেও বাস্তবে উল্টোপথে হাঁটছে। অধ্যাদেশগুলো যেভাবে শিক্ষিত ছিল সেভাবেই আইন তৈরি করা উচিত। যদি ওই খসড়া আইন পাস হয়, তবে আমাদের লড়াইয়ের পথ আরও দীর্ঘ হবে।

 

এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেছেন, আপনার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবারও বসুন। নতুন করে আইনের খসড়া তৈরি করেন, যাতে গুমের ঘটনা আর না ঘটে এবং ঘটলেও যেন ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।

 

এসময় তিনি মন্তব্য করেন, মানবাধিকার কমিশনকে ভগ্ন কমিশন হিসেবে প্রস্তুত করলে আগের মতো পরিস্থিতি হবে।

 

আখতার হোসেন আরও বলেন, সরকার এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে দলীয়করণ করেনি। আমরা সামনে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার সংগ্রাম-আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


খালেদা জিয়ার সংগ্রাম-আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে: রিজভী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে সংগ্রাম, আন্দোলন, আদর্শ ও অঙ্গীকারের পথ দেখিয়েছেন, সেই পথে চলতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি যে ‘অপরাজেয় পতাকা’ বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেটিকে আমাদের বহন করে এগিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম এবং তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।

রিজভী আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—আমাদের শোকে, সংকটে, এবং বেদনায় যে মানুষটি হিমালয় পর্বতের মতো অখণ্ড ও ভারী প্রেরণার উৎসস্থল ছিলেন, তিনি হলেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির এই নেতা মন্তব্য করেন, বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের মূর্তিমান প্রতীক, আদর্শের প্রতীক, চেতনার প্রতীক এবং রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক। যতো বেশি তাকে স্মরণ করা হবে এবং তার জীবনাচরণ ও জীবন লক্ষ্য ততো বেশি চর্চা হবে, ততো বেশি নিজেদের মধ্যে শক্তি ও প্রেরণা পাওয়া যাবে।

এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, অসংখ্য নিপীড়ন-নির্যাতন ও অত্যাচারের মধ্যেও তিনি তার আদর্শ ও অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁকে রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরানো সম্ভব হয়নি।

খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেটির সমালোচনা করে রিজভী মন্তব্য করেন, পরিত্যক্ত ওই কারাগারে তাকে বন্দি রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সেই সময় সেখানে উন্নত চিকিৎসাও প্রদান করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখার উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা যাতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজের একটি রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।

তিনি দেশের ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বলেন, কোটি কোটি টাকা, ২৮ লাখ কোটি টাকা ১৭ বছরে পাচার হয়েছে। এর প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

রিজভী আরও বলেন, বেগম জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন সারা দেশের জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি করেছিল, তার পরিণতি আমরা জুলাইয়ের সেই মহাবিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেখেছি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে। তার ভাষায়, ‘সে পালিয়ে গেছে। আর সেই দিনই মুক্তি হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।’

অতिरिक्त, আগামী দিনের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই পতাকা ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


হরমুজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির সংকট সম্পর্কে নজিরবিহীন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)। এই সংস্থা সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালির সার্বিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থার প্রশাসনিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে।

তবে, এর বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে, এই দুই চরমপন্থী বিকল্প ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

নতুন নীতি পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর এবং আগ্রাসী মনোভাব রয়েছে। তিনি কেবল প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন তা নয়, বরং গত কিছু মাস ধরে এই অঞ্চলের ওপর একক কর্তৃত্বের দাবিও জানিয়ে আসছেন। ‘‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’’ নামে উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ বেসামরিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরায় চলাচল করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া তিনি পরবর্তীতে দাবি করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ দিয়ে গোপন সামরিক ও বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ পারাপার করছে।

এছাড়া, ট্রাম্প এই প্রণালিকে সুরক্ষিত রাখার অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ করারোপের প্রস্তাবনাও দিয়েছেন। তিনি এমনকি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার মতো হুমকিও দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কিত কিছু বাস্তব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোন সমঝোতায় পৌঁছায় অথবা সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই লড়াই চালিয়ে যেতে পুরোপুরি অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন কেবল একজন মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই রূপরেখার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার ব্যয় মেটাতে ট্রানজিট ফি গ্রহণ করার কথা ভাবতে পারে। তবে, এই ধরনের একক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার বৈশ্বিক মিত্রদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি থেকে বিশাল বিচ্যুতি সৃষ্টি করবে।

এছাড়া, তুরস্ক, ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পাশের উপসাগরীয় আরব দেশগুলো স্বাধীন ও বাধাহীন নৌ-চলাচলের পক্ষপাতি। তারা এমন কোনো একক নিয়ন্ত্রণ চায় না যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, মার্কিন বাহিনীকে স্থায়ী অবস্থান বজায় রাখার জন্য যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন, তা বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মরণপণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মার্কিন একক কর্তৃত্বের বাইরে একটি আন্তর্জাতিক বা যৌথ সহযোগিতা ব্যবস্থা গঠনের সম্ভাবনাকেও প্রতিবেদনটি নাকচ করেনি। মালাক্কা প্রণালির সফল মডেলের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে একটি বহুপক্ষীয় তহবিল বা ব্যবস্থাপনা পরিষদ গঠন করতে পারে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। এই পদ্ধতিতে কোনো দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন না করেই আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হতে পারে।

তবে, এতে চরম অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একেবারে হঠাৎ করে এই অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক মনোযোগ সরিয়ে নেয় বা নিজেদের অবস্থান সংকুচিত করে, তাহলে হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা শুরু হতে পারে। এর ফলে, ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টা-পাল্টি হামলায় বাণিজ্যিক জলপথটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে মাত্র ২২ নটিক্যাল মাইল চওড়া হলেও এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি অতিসংবেদনশীল পয়েন্ট। বিশ্বের প্রতি চার ব্যারেল সমুদ্রবাহিত তেলের অন্তত এক ব্যারেল এই সরু পথ দিয়ে যায়। তাই এই অঞ্চলের সামান্যতম অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম চাকা মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা মূলত এশীয় এবং ইউরোপীয় আমদানিকারক দেশের অর্থনীতিকে ধসাতে পারে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কে করবে, সেটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং গোটা বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণে একটি প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%