ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র


হরমুজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির সংকট সম্পর্কে নজিরবিহীন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)। এই সংস্থা সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালির সার্বিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থার প্রশাসনিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে।

তবে, এর বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে, এই দুই চরমপন্থী বিকল্প ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

নতুন নীতি পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর এবং আগ্রাসী মনোভাব রয়েছে। তিনি কেবল প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন তা নয়, বরং গত কিছু মাস ধরে এই অঞ্চলের ওপর একক কর্তৃত্বের দাবিও জানিয়ে আসছেন। ‘‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’’ নামে উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ বেসামরিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরায় চলাচল করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া তিনি পরবর্তীতে দাবি করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ দিয়ে গোপন সামরিক ও বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ পারাপার করছে।

আরও পড়ুন: ইনজেকশনের ভয় দূর করতে অভিনব 'স্টিকি প্যাচ' উদ্ভাবন, ২৫ হাজার ডলার জয় ক্ষুদে ছাত্রীর

এছাড়া, ট্রাম্প এই প্রণালিকে সুরক্ষিত রাখার অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ করারোপের প্রস্তাবনাও দিয়েছেন। তিনি এমনকি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার মতো হুমকিও দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কিত কিছু বাস্তব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোন সমঝোতায় পৌঁছায় অথবা সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই লড়াই চালিয়ে যেতে পুরোপুরি অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন কেবল একজন মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই রূপরেখার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার ব্যয় মেটাতে ট্রানজিট ফি গ্রহণ করার কথা ভাবতে পারে। তবে, এই ধরনের একক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার বৈশ্বিক মিত্রদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি থেকে বিশাল বিচ্যুতি সৃষ্টি করবে।

এছাড়া, তুরস্ক, ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পাশের উপসাগরীয় আরব দেশগুলো স্বাধীন ও বাধাহীন নৌ-চলাচলের পক্ষপাতি। তারা এমন কোনো একক নিয়ন্ত্রণ চায় না যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, মার্কিন বাহিনীকে স্থায়ী অবস্থান বজায় রাখার জন্য যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন, তা বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মরণপণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মার্কিন একক কর্তৃত্বের বাইরে একটি আন্তর্জাতিক বা যৌথ সহযোগিতা ব্যবস্থা গঠনের সম্ভাবনাকেও প্রতিবেদনটি নাকচ করেনি। মালাক্কা প্রণালির সফল মডেলের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে একটি বহুপক্ষীয় তহবিল বা ব্যবস্থাপনা পরিষদ গঠন করতে পারে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। এই পদ্ধতিতে কোনো দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন না করেই আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কালীবাড়ি ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলে বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ

তবে, এতে চরম অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একেবারে হঠাৎ করে এই অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক মনোযোগ সরিয়ে নেয় বা নিজেদের অবস্থান সংকুচিত করে, তাহলে হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা শুরু হতে পারে। এর ফলে, ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টা-পাল্টি হামলায় বাণিজ্যিক জলপথটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে মাত্র ২২ নটিক্যাল মাইল চওড়া হলেও এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি অতিসংবেদনশীল পয়েন্ট। বিশ্বের প্রতি চার ব্যারেল সমুদ্রবাহিত তেলের অন্তত এক ব্যারেল এই সরু পথ দিয়ে যায়। তাই এই অঞ্চলের সামান্যতম অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম চাকা মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা মূলত এশীয় এবং ইউরোপীয় আমদানিকারক দেশের অর্থনীতিকে ধসাতে পারে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কে করবে, সেটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং গোটা বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণে একটি প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘যমজ শিশু’ বলে কটাক্ষ ইরানের জেনারেলের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সরকারের তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সরকারের তৎপরতা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে কাজ করছে। মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এ চাপ বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তিনি এসব তথ্য জানান।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে প্রদত্ত তথ্যে বাংলাদেশ একমত নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত তাঁর সরকারের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দিয়েছেন। যদিও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে ওই প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।

বাংলাদেশ চায় যে, এ প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হোক।

শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের নিরাপদ এবং স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের লক্ষ্য।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে নয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর চীন সফরের সময়ও এ বিষয়ে চীনের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। যদিও সব আলোচনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বাংলাদেশ সবসময়ই বলেছে যে, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। সময়ের সাথে সাথে মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং সংকটও আরো ঘনীভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কূটনৈতিক ভাষায় কথা বলাই যথেষ্ট নয়, বিষয়টিকে কার্যকর পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনার ভিত্তিতে কূটনৈতিক কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নয়; বরং স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে রয়েছেন। তবে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কৌশল পরিবর্তন হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, কৌশলগত পরিবর্তন অবশ্যই ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর অধিক জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সেইসাথে আগের উদ্যোগগুলোও অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা উপাত্ত নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত হয়ে বলেন, বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে কোন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। সফর চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যেন না যায় এমন কোন অনুরোধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শর্তসাপেক্ষে হাজার হাজার পিকেকে যোদ্ধাকে ক্ষমা করছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


শর্তসাপেক্ষে হাজার হাজার পিকেকে যোদ্ধাকে ক্ষমা করছে তুরস্ক

শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির(পিকেকে) হাজার হাজার যোদ্ধাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার একটি আইন পাস করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) সরকারি গেজেটে এই আইনটি প্রকাশিত হয়।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সংগঠনটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হলে এবং অস্ত্র সমর্পণ করলে এই আইন কার্যকর হবে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে বিলটি পাস হয়েছে। এই আইনের ফলে পিকেকে-র দণ্ডপ্রাপ্ত সদস্যদের কারাদণ্ড স্থগিত করা হবে এবং অপরাধের গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পাঁচ বা দশ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা যদি পুনরায় কোনো অপরাধ না করে, তবে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেবে। আইনটিতে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

গত বছর কারাবন্দী নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পিকেকে তুরস্ক এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে নিজেদের সংগঠন বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে ওজালান এবং পিকেকে-র অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ক্ষমার আওতাভুক্ত নন।

এর পরপরই উত্তর ইরাকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু যোদ্ধা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে কিছু যোদ্ধাকে ইরাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১৯৮০-র দশক থেকে পিকেকে-র সঙ্গে চলা এই সংঘাতে কয়েক হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর ফলে কুর্দি-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের ওপর একটি গুরুতর অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি হয়েছে এবং কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে উসকে দিয়েছে।

আইনপ্রণেতারা বলেছেন, এই পদক্ষেপের প্রাথমিক পর্যায়ে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এটি তুরস্কের কারাগারে আটক মোট বন্দীর সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ ঘণ্টার পথ ১৪ ঘণ্টায়, কেমন আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


৬ ঘণ্টার পথ ১৪ ঘণ্টায়, কেমন আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ দলের চার পেসার (বাঁ থেকে) ইবাদত, হাসান, তাসকিন ও খালেদ বিমানবন্দরে হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে একটি ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে সফরকারীরা দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট। তবে সেখানে পৌঁছাতে বাংলাদেশ দলের জন্য একটি বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। শান্ত-মুশফিক-মিরাজ-হাসানদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এই যাত্রায়। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে ৬ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লেগেছে সাড়ে ১৪ ঘণ্টা। এই তথ্য জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন একটি জাতীয় দৈনিককে। যদিও ক্লান্তিকর এই ভ্রমণ নিয়ে তিনি কোনো অভিযোগ করেননি। ডারউইন অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে অবস্থিত এবং ম্যাকাইয়ের অবস্থান কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে। আকাশপথে দুই শহরের দূরত্ব প্রায় ২২০০ কিলোমিটার। আজ ডারউইনের সময় ভোর সাড়ে ৫টায় টিম হোটেল থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হয় বাংলাদেশ দল। সকাল ৭টায় তারা ম্যাকাইগামী বিমানে ওঠে। যখন বিমানে ম্যাকাইতে অবতরণ করে, তখন ঘড়ির কাটায় প্রায় সন্ধ্যা ৭টা বাজে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে হোটেলে যেতে লেগেছে আরো ১ ঘণ্টা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দল একটি ক্লান্তিকর দিন অতিবাহিত করেছে। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের পরেও সুমনের ভাষ্যমতে, সব ক্রিকেটার ভালো আছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাকাইয়ে পৌঁছেছি। ভ্রমণটা অনেক দীর্ঘ ছিল। (ভোর) সাড়ে ৫টার সময় হোটেল থেকে বের হয়েছি। ৭টায় ফ্লাইট ছিল। ম্যাকাইয়ের হোটেলে পৌঁছাতে রাত ৮টা বেজেছে। লম্বা ভ্রমণ। কিন্তু সবাই ভালো আছি। কোনো অভিযোগ নেই। আলহামদুলিল্লাহ।’ বাংলাদেশের জন্য ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে এই ভেন্যুতে প্রথম দুই দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যদি বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে হার এড়াতে পারে, তবে এটি প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় করার কীর্তি গড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে’

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বক্তব্য প্রদান করেন।

দেশের চলমান গ্যাস সংকটটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রেটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটাতে এবং জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফেরাতে অন্তত আরও দুই বছরের সময় প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে জনগণের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেছেন, বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে— এটি সরকার মেনে নেয়। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া সংকটের দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো সঠিক নয়।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দল সরকারের ওপর দায় চাপাতে পারে, এটি একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে তিনি অপ্রয়োজনীয় আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক করেন। তিনি তাদের রাজপথের পরিবর্তে সংসদে গিয়ে যুক্তি তুলে ধরার আহ্বান জানান। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে আন্দোলন করলেই মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্যাসের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরার সময় তিনি জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই বড় ধরনের ঘাটতি বিদ্যমান। এমনকি কিছু কারখানা চালু থাকলেও চাহিদার সাথে সরবরাহের ব্যবধান পুরোপুরি দূর হবে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ডা. জাহেদ বলেছেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে। স্থলভাগে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে। এ কাজে নতুন দুটি রিগ কেনার পাশাপাশি বিদ্যমান রিগগুলো সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থলভাগে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মজুত থাকার ধারণা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার এখন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লা ব্যবহারের বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগলেও এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সভায় দেশের প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. জাহেদ বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে হবে। হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন গতি আনতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%