০৪:২৯ পি.এম
বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলা দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে তিন জেলার ৬০ ভাগ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। হোটেল-মোটেল ও টুরিস্ট যানবাহন সংশ্লিষ্টরা শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পর্যটকদের ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পর্যটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতি বছর দুর্গাপূজার ছুটিতে বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে। শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিন সরকারি ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার মিলে টানা ৫ দিন ছুটি রয়েছে। এছাড়া ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ দিন সহ সপ্তাহের শুরু এবং শেষে ২ দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের টানা ছুটি পাচ্ছে।
দুর্গাপূজার এই টানা ছুটিতে বান্দরবান জেলার মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, নীলগিরি, নীল দিগন্ত, বগালেক সহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। এদিকে, পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে এবারের পূজার দীর্ঘ ছুটিতে প্রচুর পর্যটক বান্দরবানে সমাগম ঘটবে। ইতোমধ্যে জেলার বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের বুকিং হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
জেলা সদরের হিলটন হোটেলের ম্যানেজার এস এম আক্কাস উদ্দিন জানিয়েছেন, "আমাদের হোটেলের ৭২টি রুমের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে এবং পূজার ছুটি শুরু হলেই আরও পর্যটক আসবে। আমরা ভ্রমণকারীদের সার্বিক সেবা দিতে প্রস্তুত।"
বান্দরবানের ক্লাউডি ইন রিসোর্টের ম্যানেজার মো. হাসান জানিয়েছেন, "পূজার ছুটি উপলক্ষে আমাদের বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়েছে। আমরা পর্যটকদের বরণের অপেক্ষায় রয়েছি।" তিনি আরও জানান, বান্দরবানে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সচেতন এবং সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করছে। প্রশাসন প্রায় ৪ শতাধিক পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত কাজ করছে। বান্দরবান জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ নাজনীন সুলতানা ও পুলিশ সুপার মো: ওহাবুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের পূজায় পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ সহজ করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, "সকল হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো আমরা নতুন আঙ্গিকে সাজানো এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সকল মালিককে নির্দেশনা দিয়েছি। সেই মোতাবেক পর্যটক বরণের জন্য সবাই সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।"
তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্টগুলোতে নানা ধরনের সংস্কার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র এবং শতাধিক হোটেল-মোটেল রিসোর্টের পাশাপাশি জেলায় প্রায় ৪ শতাধিক পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ী রয়েছে এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত নিরাপত্তার কাজ করছে।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
হোটেল-মোটেলের পাশাপাশি জেলায় পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরানোর জন্য ইতিমধ্যে বুকিং হচ্ছে বিভিন্ন পর্যটকবাহী যানবাহন। এদিকে, পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়িকভাবে বাড়তি লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন হোটেল, মোটেল ও কটেজ ব্যবসায়ী এবং পর্যটকবাহী যানবাহন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বান্দরবান মাইক্রোবাস, জীপ ও পিক আপ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি নাসিরুল আলম জানান, "আমরা আমাদের সকল চাঁদের গাড়ী সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট (ট্যুরিষ্টবাহী যানবাহন) কাজ করে ফিট রেখেছি। আমরা আশা করছি, টানা ছুটিতে দেশি বিদেশি পর্যটক বান্দরবানে আসবে এবং আমরা তাদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করাতে সক্ষম হবো।"
এদিকে, টানা ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদে বান্দরবানে ভ্রমণ করতে পারে, সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন