বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বন্ধের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ইরান। একই সঙ্গে, দেশটিতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
তেহরান কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টারলিংক শত্রুপক্ষের নির্দেশনা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইরান সরকারের কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকে অতিক্রম করে অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রদান করে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে দেশটিতে এই সেবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টারলিংক ব্যবহার এবং এর টার্মিনাল বিতরণের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ২০২৬ সালে ইরানের প্রায় ৯ কোটি মানুষ দুবার দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় টানা তিন সপ্তাহ এবং চলমান যুদ্ধের শুরুতে ৮৮ দিন বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি স্টারলিংককে শত্রুদের ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "শত্রুরা এটি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল বন্ধ করার জন্য আমাদের একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে।"
তবে স্টারলিংকের সংযোগ বন্ধ করার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আগামিরি। জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ওই প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
তেহরানভিত্তিক এক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আল-জাজিরাকে জানান, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করতে ইরানের কর্তৃপক্ষ একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের সংকেত-বাধাদানকারী যন্ত্রের মাধ্যমে সেবা ব্যাহত করা হয়। নতুন টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া ধীর করতে জিপিএসের অবস্থানসংক্রান্ত ভুয়া সংকেতও ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া স্টারলিংক-সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট প্রটোকল স্থানীয় অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত হলে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব।
টার্মিনাল আটকাতে টহল ও ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। যেসব স্থানে এসব যন্ত্র বিক্রি হয়, সেখানেও অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ।
গত জুনে ইসরাইলের রাজনীতিক নাফতালি বেনেট দাবি করেন, ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে ইরানে কয়েক হাজার স্টারলিংক যন্ত্র পাচার করেছিল ইসরাইল।
২০২৩ সাল থেকে স্টারলিংকের সম্প্রচার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডেও তৎপরতা চালাচ্ছে ইরান। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে দেশটি। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটির নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে নরওয়ের ভূমিকা রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। অননুমোদিত স্টারলিংক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাইবারস্পেস কাউন্সিলের এক বৈঠকে ইরানের উপপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে বলেন, স্টারলিংকের ব্যবহার ব্যাপক হলে তা দেশটির সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ‘কফিনে শেষ পেরেক’ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এ সেবা সরকারের নিজস্ব নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।
হাকামি বলেন, ২০১৭-১৮ সালের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিবিরোধী বিক্ষোভের পর সরকার টেলিগ্রাম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২০১৯ সালের দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করতে হয়। ২০২২-২৩ সালের বিক্ষোভের পর হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, "এই প্রবণতা চলতে থাকলে পরবর্তী সংকটে আমাদের বিদ্যুৎও বন্ধ করতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার নতুন মাধ্যম স্টারলিংক মৌলিকভাবেই আমাদের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।"
২০২২ সাল থেকে ইরানে বিক্ষোভের ভিডিও বিদেশে পাঠাতে স্টারলিংক ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধ সত্ত্বেও এ সেবার মাধ্যমে ভিডিও দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এরপর থেকে কয়েক হাজার টার্মিনাল ইরানে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
দমন-পীড়নের ঝুঁকি, যন্ত্রের সীমিত প্রাপ্যতা ও ব্যয়ের কারণে ইরানের অধিকাংশ মানুষ এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাদের নির্ভর করতে হয় দেশটির নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর। এতে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সেবা ও হাজার হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিধিনিষেধও বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবায় ইরানিদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
এসব বাধা এড়াতে অধিকাংশ ইরানি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তবে এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে, খরচ বাড়তে পারে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকার ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
যুদ্ধ তীব্র হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটে আরো বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পর সহিংসতা কিছুটা কমেছিল। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ পর্যন্ত ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, সাইবার হামলা থেকে মানুষ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার যুক্তিতে সরকারি সংস্থাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেটের গতি কমাচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমাদের তথ্যভান্ডার ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে কখনো কখনো ইন্টারনেটের গতি কমাতে হয়। আমরা এ বিষয়টি অস্বীকার করছি না।"
কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে ইন্টারনেট নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি নথি প্রকাশ করা হয়। সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব আগামিরি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে নথিটি বিবেচনায় ছিল। নিরাপত্তার উদ্বেগে এত দিন এটি গোপন রাখা হয়েছিল।
নথিতে কোনো প্ল্যাটফর্ম কবে চালু হতে পারে, সে সময়সীমা উল্লেখ নেই। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও বিক্ষোভের কারণে নীতিমালা বাস্তবায়ন স্থগিত রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, গুগল প্লে ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইউটিউব ও টেলিগ্রাম চালু করতে হলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে। এই দুই প্ল্যাটফর্মের এমন শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভাটি বাংলার মাটি ও মানুষের গানকে হৃদয়ে ধারণ করে যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী সুষমা দাশ।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, জীবনসংগ্রাম ও মাটির টান।
তিনি শুধু গান পরিবেশন করেননি, লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। হারিয়ে যেতে বসা লোকগান সংগ্রহ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পদকে সমৃদ্ধ করেছেন।
ভাটির মানুষের জীবন, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড় ও গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা রূপ তাঁর সংগীতের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক লাভ করেন।
ভাটি বাংলার মাটির গান
হাওরের জলে ভাসে নাও, মাঝি গায় সুর,
ভাটির মাটির গানের টানে মন যায় বহুদূর।
নদীর বুকে ঢেউয়ের খেলা, বাতাসে গান ভাসে,
মাটির সুরে ভাটির মানুষ আপনজনকে ভালোবাসে।
লোকগানের সেই মধুর সুর, হৃদয়ে জাগায় প্রাণ,
সুষমা দা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বে কারা জায়গা করে নিতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
কমিটি গঠনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় উঠে এসেছে সংগঠনের সাবেক পাঁচ ছাত্রনেতার নাম। তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, অতীতের দায়িত্ব পালন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় থাকা পাঁচ ছাত্রনেতা হলেন— আকরাম আহমেদ, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক; কাউসার খান, সাবেক ১ নম্বর সহ-সভাপতি; ইকবাল হোসেন সোহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক; কাজী শাওন আলম, সাবেক সহ-সভাপতি; এবং শহিদুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আলোচনায় এই পাঁচজনের নাম উঠে এলেও নতুন কমিটিতে তাঁদের অবস্থান বা পদ-পদবি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়ছে।
দলীয় সূত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন নেতাকর্মীদের নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত কারা নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রাথমিক নানা জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ।
রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রধান সড়কের পাশে ৪০ শতক জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে চারতলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদ। ১৪ কোটি ০৪ লাখ ৭৫হাজর ৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা চুক্তিমূল্যে থাকলেও তবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদের প্রাক্কলিত মূল্য ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ ৮৩হাজার ৪২৮টাকা ১৫ পয়সা ব্যয় নির্মিত হবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদে, দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবনটির প্রতিটি তলার ফ্লোর আয়তন প্রায় ৮ হাজার ৭০০ বর্গফুট। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কনক্রিট সিসি ব্লক ব্যবহার করে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন পরিবেশবান্ধব হচ্ছে, তেমনি স্থাপনাটির স্থায়িত্বও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মডেল মসজিদটিতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। প্রথম তলায় থাকবে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, জানাজার স্থান, গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ও লাইব্রেরি থাকবে। চতুর্থ তলায় থাকবে হিফজখানা ও পরিদর্শন বাংলো।
এছাড়া পুরো ভবনে সেন্ট্রাল এসি, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, নিজস্ব বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং বিশেষ দিনগুলোতে দৃষ্টিনন্দন নাইট-লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা মসজিদটি শুধু টেকসই ও মজবুতই হবে না, এটি বালিয়াকান্দির অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাতেও পরিণত হবে।
রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লকের মান যাচাইয়ের টেস্ট রিপোর্ট ভালো এসেছে। কোনো ধরনের নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত না করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হলে তাদের সন্তানদের জন্য আলাদা ভর্তির সুযোগ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণির শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। এই বিধান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নীতিমালার ১৮ ধারায় বদলির কারণে ভর্তির সুযোগ ও শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধাটি পেতে হলে, বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে করতে হবে এবং সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদান করতে হবে।
মহানগর, সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহরের জন্য একটি আলাদা শর্ত প্রযোজ্য। যদি নতুন কর্মস্থল আগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাপা হবে। ভর্তি হবে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রেও সন্তান কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
সরকারি বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আগের কর্মস্থলে আবার বদলি হন, তাহলে তার সন্তান আগের স্কুলে পুনরায় ভর্তি হতে পারবেন। বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র যাচাই করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এরপর ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির সুযোগও বিদ্যমান। এজন্য দুই বিদ্যালয়ের সম্মতি প্রয়োজন। শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তির উপযুক্ত সন্তানের সংখ্যার সমান আসন রাখা হবে। শিক্ষক যদি বালক বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান মেয়ে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। একইভাবে, শিক্ষক যদি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান ছেলে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। শিক্ষক সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে থাকলে সন্তানের আসন সেই বিদ্যালয়েই রাখা হবে। যদি সেই স্কুলে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকে, তাহলে কাছের অন্য উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যবস্থা নিয়ে ভর্তি কমিটিকে জানাবেন।
কর্মরত অবস্থায় যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মারা যান, তাহলে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবেন। সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানকার সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারি স্কুলের যে শিক্ষার্থীর বাবা-মা নেই, তার জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। সে যদি বাসস্থান বদলায়, তাহলে নতুন এলাকার সরকারি স্কুলে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর কারণে বাসস্থান বদলালেও একই সুযোগ পাওয়া যাবে। ভর্তি কমিটি এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ