১১:১৫ পি.এম
ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : অপরাধ দমন ও জনগণের জন্য দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
এই সময়কালে, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানগুলোতে মোট ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ, বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র এবং বিভিন্ন চোরাচালানের মালামাল। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার, উত্তরায় এপিবিএনের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটা সাংবাদিকদের জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধ দমন, দ্রুত সেবা প্রদান এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে এই সাফল্যগুলো অর্জিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে সড়কে ঝরল ১২ জনের প্রাণ
এসময়, চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এরপর এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর সাথে সাথে, উদ্ধার করা হয়েছে ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন ধরনের আরও ৪১১ কেজি মালামাল।
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করে চারটি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সমস্যা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একটি ফেক আইডি সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধানও করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৩টি সিম এবং একটি ফেসবুক আইডিও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৪৮টি টি-শার্ট এবং একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার বুলিং-সংক্রান্ত দুটি সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে মোট ৫০৮ জনকে।
আসমা বেগম রিটা জানালেন, মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি ভেপ সিগারেট এবং ৭২টি বিয়ার। এই সময়ে, মাদক বিক্রির ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৯ বছরের যুবক মিঠু মিয়াকে সামুরাইসহ গ্রেপ্তার
অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা বা হাসুয়া এবং একটি দেশীয় লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৩৩১টি মামলা দায়ের করে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন ও এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার মামলায় দুজন, অপহরণ মামলায় তিনজন এবং ধর্ষণ মামলায় দুজন রয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করা হয়েছে ২১টি যানবাহন এবং ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জুলাই মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি
সংবাদ সম্মেলনে আসমা বেগম রিটা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের সাহায্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রেখে এপিবিএন ভবিষ্যতেও সেবা প্রদান করতে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন