ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

আইইউবিতে সুনীল অর্থনীতি খাতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার


আইইউবিতে সুনীল অর্থনীতি খাতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উদ্যোগে ‘প্ল্যানিং পারস্পেক্টিভ অন দ্য ইন্ডাস্ট্রিস অন দ্য ইমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন দ্য ব্লু ইকোনোমি সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আইইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জাভেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।

প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, সুনীল অর্থনীতি বা সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের জন্য একটি অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা এই বিষয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছেন এবং সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে কিছু থ্রাস্ট সেক্টর চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে জাহাজনির্মাণ শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার হলো আমাদের বন্দরগুলোর সঙ্গে উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নদীপথের উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে জিডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করতে হবে। এর জন্য যে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, সেটি তৈরি করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই। সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা খাত এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি সমন্বয় বা মেলবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। আইইউবি এবং সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজকে ধন্যবাদ, কারণ তারা তাদের অংশটি করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেইন মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের কন্টেইনার ওঠানামার প্রায় পুরোটাই চট্টগ্রাম বন্দরে পরিচালিত হয়। ২১ হাজার টনের একটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার খালাস করতে ৩-৫ দিন সময় লাগে, যেখানে সিংগাপুরে এই কাজটি ৪-৫ ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়। তাছাড়া, আমাদের দেশে তৈরি পোশাকের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ৯৫ দিন সময় লাগে, যেখানে ভিয়েতনামে ৬১ দিন এবং চীনে ৩২ দিন সময় লাগে। এর পেছনে মূল কারণ হলো দুর্নীতি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.)। তিনি বঙ্গোপসাগর ও সুনীল অর্থনীতি এবং এই খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন আইইউবির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য: ২ জনের কারাদণ্ড, ৩ জেলের অর্থদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য: ২ জনের কারাদণ্ড, ৩ জেলের অর্থদণ্ড

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী এবং মাছঘাটে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জনকে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং তিন জেলেকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন এবং কমলনগর উপজেলা মৎস্য অফিস এই তথ্য প্রকাশ করে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন গ্রামের মো নুরনবীর ছেলে মাকসুদ (৩৪) এবং চর কালকিনি ইউনিয়নের মো. নাসিরের ছেলে আরিফ (১৯)।

অভিযানের সময় জব্দকৃত ইলিশগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং জালগুলো পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা জানান, সোমবার ভোররাতে উপজেলা মৎস্য অফিস ও হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের যৌথ অভিযানে মতিরহাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইশ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এই সময় সিএনজি অটোরিকশা যোগে ইলিশ পরিবহনকারী দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলাকালীন ইলিশ পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় আটককৃত মো. মাকসুদ ও আরিফকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন এ দণ্ডের রায় প্রদান করেন। এ সময় সিএনজি চালককে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে মেঘনা নদীতে কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় আরেকটি অভিযানে তিনটি মাছ ধরার নৌকা এবং প্রায় ৮০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং নৌকাগুলো জব্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, রোববার রাতে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই সময় মৎস্য সংরক্ষণ আইনে তিনজন জেলেকে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ২ ক্যারেট জাটকা ইলিশ জব্দ করে ৩ টি মাদরাসা ও এতিমখানা এবং জেলা শিশু পরিবারে বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় ঘোষ। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ড সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেস কনফারেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


সুনামগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেস কনফারেন্স

সুনামগঞ্জ, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কিত অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ সোমবার দুপুর ২ টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এই কনফারেন্সে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খাঁন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা আদিত্য পাল, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হক, রঙ্গারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, জেলা জুলাই যোদ্ধার আহবায়ক হাফিজুল ইসলাম রাজু, সদর উপজেলার স্কাউট সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, বাসস প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ঝালকাঠিতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

ঝালকাঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমটি জেলার চারটি উপজেলা এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এতে মোট ৩০১ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার, সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা খান জসীম উদ্দীন এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাকিনা আলম লিজা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ২৭৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২৮ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৭৫ জন সোমবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছেন।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে জুবাইদা রহমানের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে জুবাইদা রহমানের আহ্বান

বার্লিন, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের বিশাল জনগণের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণের জন্য প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়, এমন মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগণের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’

রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাও: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে, এমন মন্তব্য করেন জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’

তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগের সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’

নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।

এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস:

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%