১১:৩১ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর এবং ভোলাহাট এই চারটি উপজেলায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
এই কর্মসূচির আওতায় ৪ উপজেলার ৬১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ হাজার ৬৮৩ জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং ঝরে পড়ার হার কমানো। এর আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের বনরুটি, কলা, ডিম, দুধ এবং পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার ১৮১নং বিশ্বনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরিনা খাতুন বলেন, "আগে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার অনীহা দেখা যেত। এখন রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধাজনিত ক্লান্তি কমায় শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগও বেড়েছে।"
সদর উপজেলার ৭৬নং আলাতুলী সরকারি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানায়, "স্কুলে খাবার পাওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে। রুটি, ডিম, কলা ও দুধ খেতে তার খুব ভালো লাগে। আগে ক্লাসের মধ্যে ক্ষুধা লাগলেও এখন খাবার পাওয়ায় সেই কষ্ট আর হয় না।"
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি
শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী ১৭৭নং নামোজগন্নাথপুর জুনিয়র সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমা খাতুন জানায়, "মিড ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি। আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সব ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি।"
গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমা খাতুনের বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, "আগে আমার মেয়ের স্কুল যাওয়ার অনীহা দেখা যেত। কিন্তু এখন রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাওয়ায় তাকে স্কুল যাওয়ার কথা বলতে হয় না। সে নিজে নিজেই স্কুল যায়।"
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, "বিদ্যালয়ে বিরতির সময় একবেলা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ছে।"
বর্ষাকালসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছরগুলোর তুলনায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ইতিবাচক।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে আটক ৪ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা
খাবারের তালিকায় বনরুটি, কলা ও ডিম যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এই কর্মসূচি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন