ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ নিয়ে ইরান-মার্কিন চুক্তি হতে পারে আজ : মার্কিন অর্থমন্ত্রী


হরমুজ নিয়ে ইরান-মার্কিন চুক্তি হতে পারে আজ :  মার্কিন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, "আমার মনে হয় আজ বা কালকের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া এবং এই সংঘাতকে আরো স্বাভাবিক অবস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।"

চুক্তির অধীনে তেহরানকে কোনো টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, "এই চুক্তি প্রণালিতে অবাধ চলাচলের অনুমতি দেবে।" তিনি বলেন, "এটি অবাধ চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে।" গত কয়েক দিনে সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও তিনি উল্লেখ করেন যে, "আমরা এখনই বেশ কিছু জাহাজ বের হতে দেখছি।"

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হলে জ্বালানি তেলের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, "সেখানে শত শত জাহাজ বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।"

সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, "পরিস্থিতি এখনো কিছুটা অনিশ্চিত হলেও বর্তমানে বেশ কিছু জাহাজ বেরিয়ে আসছে। তাই আমি আশা করি জ্বালানি পণ্যের মূল্য আবার কমে স্বাভাবিক হবে, যা পুরো বিশ্বের জন্যই হবে ভালো।"

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরো বেশি জাহাজ চলাচলের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি।

রুবিও পররাষ্ট্র দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, "ওই আলোচনাগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই তা সম্পন্ন হবে।"

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ এম


দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা করেছে। একইসাথে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপাচার্য বলেছিলেন, আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরদিন ৬ আগস্টেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। ইতোমধ্যে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল আহতদের দেখতে গেছে। আজকের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা যে সংগঠনেরই হোক।

ড. মো. রইছ উদ্‌দীন আরো জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।

এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল সেন্টারের সেবা উন্নয়নের দাবিতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে বাগবিতণ্ডা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে ছাত্রশিবির এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ এম


শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘটনায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন।

নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম এবং তার স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক এবং ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। তবে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম এবং ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। সেই সময় পঞ্চমাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াকে মারধর করা হয় এবং মতিন মিয়া তার তলপেটে লাথি মারেন। এর ফলস্বরূপ, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অঞ্চলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ময়নার বান্ধবী ও প্রতিবেশী তাসমিম জাহান নির্জনা বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক। আমি জানি, আমার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।

তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে আজ তার বাবার হত্যার খবর পাই। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে ময়নার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার গর্ভের শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের যৌতুক জনিত নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

ব্রাহ্মণপাড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার স্থান থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
অরুন্ধতী রায়ের মন্তব্য

মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ এম


মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রায় বলেন, এই রাজনৈতিক অভিঘাত যেকোনো নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড়।

রাজনৈতিক মন্তব্যের অংশ হিসেবে,

সোমবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মাদার মেরি কামস টু মি-এর হিন্দি অনুবাদ মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে শুধুমাত্র নির্বাচনই সবকিছু নয়; কখনও কখনও জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে নির্মিত রাজনৈতিক বয়ান ও ভাবমূর্তিকেও অল্প সময়ের মধ্যে নড়িয়ে দিতে পারে।

রায়ের ভাষায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪ বছরে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ তাকে বিষ্ণুর অবতার বলেও আখ্যা দিয়েছেন, সেই ভাবমূর্তি মাত্র দুই সপ্তাহে ভেঙে দিয়েছে ককরোচরা। এক অর্থে, ককেরোচদের এটি নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড় বিজয়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনের এই সাফল্য সত্বেও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সরকারের হাতে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এ সময় তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের পরিপক্বতার প্রশংসা করে বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে।

একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে রায় বলেন, বেস গিটারবাদক গায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন না, গায়ক ড্রামার হতে পারেন না। প্রত্যেকে নিজের নিজস্ব ভূমিকা পালন করেই একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখে। এখন প্রাপ্তবয়স্কদেরও সেই পরিপক্বতা দেখাতে হবে।

অনুষ্ঠানে, অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার তাঁর আত্মজীবনী বা তাঁর মা মেরি রায়ের জীবনী নয়; বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্কের কাহিনি। বইয়ে মাকে 'গ্যাংস্টার' বলে উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল রূপক নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

আলোচনায় ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বুকারজয়ী এই লেখক। তিনি বলেন, যখনই তাঁকে পুরস্কৃত বা সম্মানিত করা হয়, তখন তাঁর মনে হয় কোথাও না কোথাও অন্য কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাঁর মতে, গাজা থেকে শুরু করে কোনো গ্রামের প্রান্তিক মানুষ কিংবা জন্তর মন্তনের আন্দোলন—সব জায়গাতেই এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের দুর্ভোগ সমাজের চোখের আড়ালে থাকে।

অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ। এখন নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আর নির্যাতন মেনে নেবে না।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে শিবিরের দাবি

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ এম


জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল এবং যুবদলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্রশিবির। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ছাত্রশিবির এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ইসলামী ছাত্রশিবির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই হামলার জন্য অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি। রাজধানীতে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দ্বারা এই দাবি জানানো হয়।

বিকেল ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। পরে পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা একই দাবিতে।

এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্য বুমেরাং হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে যে পতিত স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে। নতুন বাংলাদেশে দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি এবং মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না। এ কথা তিনি উল্লেখ করেন যে, হামলাগুলি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ও ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের চিহ্নিত এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হন।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে এবং প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলে। পরবর্তীতে জকসুর ভিপি শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিতে এলে প্রক্টর অফিস এবং জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গায়ে হাত তোলা হয়।

মূলত, ক্যাম্পাসের বড় বাজেটের উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, কর্তব্যরত সাংবাদিক এবং অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। রোগীদেরও রেহাই দেয়নি।

একইভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এর ফলে অনুষ্ঠানস্থলের দায়িত্বশীলদের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হলের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে হামলা করে। পরে হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক এবং কাপুরুষোচিত হামলায় যুবদলের কুখ্যাত ক্যাডার নয়ন হেলমেট পরে একদল সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অংশ নেয়। এমনকি ঢাকা আলিয়ার অধ্যক্ষের ওপরও হামলা চালায়।

নূরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা এবং অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পেরে আজ এই সন্ত্রাসীরা উন্মাদ হয়ে গেছে।

উনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক সুসংগঠিত উপায়ে ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে একের পর এক সমন্বিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার বানিয়ে খোদ থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে এই নোংরা রাজনীতির ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পর জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হলো।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- ১. সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছবির সাহায্যে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জবি ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি এবং জাফর, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার জড়িত যুবদল নেতা নয়ন এবং বেরোবিতে হামলাকারী বহিরাগত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টর অফিসের যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ৩. জকসু নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্তব্যরত আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারকে বহন করতে হবে। ৪. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আবাসিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অনুযায়ী জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে এসব হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%